সুপার এইটে প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিপাকে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালের রেসে ফিরেছে। তবে এখনো নিশ্চিত নয় তাদের শেষ চারে খেলার টিকিট। আগামীকাল সকালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর চ্যালেঞ্জের সামনে তারা। ম্যাচটি জিতলেই সেমিফাইনালে উঠে যাবে স্বাগতিকরা। অ্যান্টিগার ভিভ রিচার্ডস স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সোমবার সকাল সাড়ে ৬টায়।

গতকাল বার্বাডোজে যুক্তরাষ্ট্রকে গুঁড়িয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চলতি আসরে এই প্রথম একপেশেভাবে কেউ হারাতে পারল যুক্তরাষ্ট্রকে। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১২৮ রানে অলআউট হয়ে যায় অ্যারন জোন্সের দল। রোস্টন চেজ ১৮ রানে তিনটি, আন্দ্রে রাসেল ৩১ রানে তিনটি, আলজারি জোসেফ ৩১ রানে দুটি ও গুডাকেশ মোতি ১৪ রানে একটি উইকেট নেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আন্দ্রিস গুস ১৬ বলে ২৯, নিতিশ কুমার ১৯ বলে ২০ রান করেন। 

সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৭ ওভারে ৬৭ রান তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর মধ্যে শাই হোপ একাই করেন ৫১। জনসন চার্লস ১৪ বলে ১৫ রান করে আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে খেলা শেষ করে দেন শাই হোপ ও নিকোলাস পুরান। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ২৩ বলে ৬৩ রান তুলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় নিশ্চিত করে দেন এ দুজন। এই জুটিতে হোপ ১১ বলে ৩১ ও পুরান ১২ বলে ২৭ রান করেন। ৩৯ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায় ৮২ রানে অপরাজিত থাকেন শাই হোপ, আর পুরান ১ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন রোস্টন চেজ।

যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে টিকে থাকলেও ক্যারিবীয়দের মূল কাজটি এখনো বাকি। সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে হবে। প্রোটিয়ারা এরই মধ্যে টানা দুই জয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গতকাল জয় শেষে ম্যাচসেরা রোস্টন চেজ সেমিফাইনালের রেস ও প্রোটিয়াদের সঙ্গে লড়াই নিয়ে বলেন, ‘এটাই আমাদের ভাগ্য। তবে আমাদের লক্ষ্য যেহেতু বিশ্বকাপ জেতা কাজেই সামনে যে-ই আসুক তাদের হারাতে হবে।’

বার্বাডোজের ছেলে চেজ ঘরের মাঠে দারুণ পারফর্ম করে জেতান ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘরের মাঠে এটা করতে পারার অনুভূতি অন্য রকম। আমার বাবা-মা ও বন্ধুবান্ধব খেলা দেখছিল। টিম মিটিংয়ে আমরা বলছিলাম, যদি পাওয়ার প্লেতে খুব বেশি উইকেট না পাই তবে আমরা স্পিনে যাব এবং ম্যাচে ফিরব। আমরা কিন্তু আজ সেটাই করেছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ওপেনার স্টিভেন টেইলরকে পয়েন্টে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে আউট করেন চেজ। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি পয়েন্টে ফিল্ডিং উপভোগ করি, এটা আমাদের উদ্দীপ্ত করে।’ ঘরের মাঠ নিয়ে চেজ বলেন, ‘এটা আমার প্রিয় ক্রিকেট ভেন্যু। বার্বাডোজে জন্ম, এখানেই ক্রিকেট খেলে বড় হয়েছি।’

৯ উইকেট ও ৫৫ বল হাতে রেখে পাওয়া বড় এ জয়ে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখন ইংল্যান্ড যদি যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েও দেয় তবে তাতে ক্যারিবীয়দের কোনো সমস্যা নেই। তারা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারালেই উঠে যাবে সেমিফাইনালে। 

দলগুলোর পয়েন্ট সমান হলে আসবে নিট রানরেটের প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ব্যবধানে হারানোয় ক্যারিবীয়দের নিট রানরেট এখন ১.৮১৪, ইংল্যান্ডের ০.৪১২। টেবিল টপার দক্ষিণ আফ্রিকার নিট রানরেট ০.৬২৫। এক বড় জয়ে নিট রানরেটে প্রোটিয়া ও ইংলিশ উভয়কেই পেছনে ফেলেছে রভম্যান পাওয়েলের দল। এখন এমনও হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যর্থতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড দুটিই চলে গেল সেমিফাইনালে। ইংলিশরা বড় ব্যবধানে জিতলে নিট রানরেটে পেছনে ফেলবে প্রোটিয়াদের। কাজেই এইডেন মার্করামদের বিদায় নেয়া অসম্ভবও নয়। আর মার্করামরা যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয় তবে নিট রানরেটের কোনো হিসাব ছাড়াই তারা উঠে যাবে শেষ চারে। কেননা তখন তাদের পয়েন্ট হয়ে যাবে ৬, যা গ্রুপে আর কারো পক্ষেই ধরা সম্ভব নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ড কোনো দলেরই আর ৬ হওয়া সম্ভব নয়।

এদিকে গাণিতিকভাবে এখনো বিদায় নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেয় তবে ইংল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে উঠতে পারে যুক্তরাষ্ট্রও।