চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়ে মুমিনুল হকের দল। এর মাত্র চার মাসের মাথায় সেই মুমিনুলকে বিদায় নিতে হলো ব্যর্থতার দায় নিয়ে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারের পর গত মাসে ঘরের মাঠে শ্রীলংকার কাছেও পরাজয় ১-০তে। লংকানদের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে দুই ইনিংসেই শোচনীয় ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটে। আর ব্যক্তিগতভাবে মুমিনুলও যাচ্ছিলেন দীর্ঘ রানখরায়। এতে তার বিদায়ঘণ্টা বেজে যায়। ফলে সাদা জার্সি আর লাল বলের ক্রিকেটে নেতৃত্বে এসেছে পরিবর্তন। তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক হয়েছেন সাকিব আল হাসান।

প্রচণ্ড চাপের মুখে গত ৩১ মে টেস্ট দলের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মুমিনুল। বৃহস্পতিবার বোর্ড সভায় নতুন অধিনায়ক হিসেবে সাকিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়। অবশ্য সাকিবকে নতুন অধিনায়ক বলার সুযোগ নেই। আজ থেকে ১৩ বছর আগে বাংলাদেশ টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা তার হয়েছে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ইনজুরিতে পড়লে ভাগ্য খুলে যায় সাকিবের। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

২০১০ সালের প্রথমার্ধে আরো ছয়টি টেস্টে এবং ২০১১ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলকে নেতৃত্ব দেন সাকিব। তখনকার বোর্ড সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের বিরাগভাজন হয়ে নেতৃত্ব হারান তিনি।

মুশফিকুর রহিমের ৩৪ ম্যাচের দীর্ঘ অধ্যায় শেষে ২০১৭ সালে আবারো টেস্ট দলের নেতৃত্ব পান সাকিব। সেই থেকে দুই বছর তিনি টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেন। জুয়াড়িদের ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব নিয়ে যথাসময়ে রিপোর্ট করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি টেস্ট দলের মসনদও হারান।

সাকিব আবারো এমন সময় টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফিরলেন যখন কিনা টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার অঙ্গীকারই প্রশ্নের মুখে ছিল। বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন একাধিকবার বলেছেন, সাকিব টেস্ট খেলতে চায় না। এরই মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে কিছুদিনের জন্য ছুটি চান তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বশেষ সফরেও তিনি খেলতে চাননি। যদিও সমালোচনার মুখে সেখানে ওয়ানডে সিরিজটা খেলেছেন, আর পরিবারে একাধিক সদস্য অসুস্থ থাকায় টেস্ট সিরিজে অংশ না নিয়েই ফিরে আসেন।

এরপর ছুটি চেয়েছিলেন শ্রীলংকা সফর থেকে। তখনো বিসিবিপ্রধান থেকে শুরু করে ক্রিকেট মহলে সমালোচনার ঝড় উঠলে তিনি সিদ্ধান্ত পাল্টে খেলতে মনস্থির করেন। লংকানদের বিপক্ষে হোম সিরিজে বাংলাদেশ হারলেও সাকিবই ছিলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার। ব্যাটও হেসেছে তার। এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স দিয়েই বিসিবি কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করেন সাকিব। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ও বিতর্কিত খেলোয়াড়কে নেতৃত্বে আনা নিয়ে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তাদের কাছে সাকিবের চেয়ে যোগ্য কেউ ছিল না বলেই তাকে বেছে নিতে হয়েছে।

এর আগেও বাংলাদেশ দলকে ১৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দেন সাকিব। আর ২০০০ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন বাংলাদেশ টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। সর্বোচ্চ ম্যাচে নেতৃত্ব দানকারী খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মোট ৩৪টি টেস্টে তিনি অধিনায়ক ছিলেন।

একটিমাত্র টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পেয়েছেন মাশরাফি। সেই হিসেবে তার সাফল্যের হার শতভাগ। যদিও দশের বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন অধিনায়কদের মধ্যে সাফল্যের হার সবচেয়ে ভালো সাকিবের। দুই মেয়াদে ১৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দলকে জিতিয়েছেন ৩টিতে। তার সময় জয়ের হার ২১ দশমিক ৪২ শতাংশ। এর পরই মুশফিকুর রহিম (২০.৫৮%), মুমিনুল হক (১৭.৬৪%) ও হাবিবুল বাশার (৫.৫৫%)।

মোহাম্মদ আশরাফুল (১৩ ম্যাচ), খালেদ মাসুদ (১২ ম্যাচ), খালেদ মাহমুদ (৯ ম্যাচ), নাঈমুর রহমান (৭ ম্যাচ) ও তামিম ইকবালের (১ ম্যাচ) কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ।