আন্দ্রে রাসেল ও শেরফান রাদারফোর্ডের ঝড়ো ফিফটিতে চড়ে আজ মঙ্গলবার পার্থে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২২১ রানের বিশাল টার্গেট দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২২০ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবিয়ানরা। জবাবে অজিরা ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রান তুলতে সমর্থ হয়। ৩৭ রানের এই জয়ে সিরিজটা ২-১ করতে করল ক্যারিবিয়ানরা।

 

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ হয় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর টি২০ সিরিজেও টানা দুই হার। অবশেষে তৃতীয় ম্যাচে এলো স্বস্তির জয়।

 

প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই দুই উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ একটি পর্যায়ে ছিল ৭৯/৫। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে দলের সংগ্রহ দুশ পার করান রাদারফোর্ড ও রাসেল। ষষ্ঠ উইকেটে ৬৭ বলে রেকর্ড ১৩৯ রান যোগ করেন দুজন। ষষ্ঠ উইকেটে আগের রেকর্ড ১১৫ রানের, যা ২০২২ সালে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে করেছিলেন পাপুয়া নিউগিনির টনি উরু ও নরমান ভানুয়া।

 

এই জুটিতে রাসেলের ৭১ ও রাদারফোর্ডের ৬৬ রান। শেষ ১০ ওভারে তারা তুলেছেন ১২৮ রান।

 

প্রথমে রাদারফোর্ডই দর্শনীয় ব্যাটিং করছিলেন। তিনি ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। ১৮ ওভারশেষে রাদারফোর্ডের রান ৬৬, আর রাসেলের ৩৩ রান। অথচ ২০ ওভারশেষে রাসেলের ৭১, রাদারফোর্ড ৬৭! অ্যাডাম জাম্পার করা ১৯তম ওভার থেকেই ৪ ছক্কায় আর ১ চারে ২৮ রান তুলে নেন ডানহাতি হার্ডহিটার রাসেল। ২৫ বলে আসে ফিফটি।

 

২৯ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৭ ছক্কায় ৭১ রান করে স্পেন্সার জনসনের শিকার হন রাসেল। রাদারফোর্ড ৪০ বলে সমান ৫টি করে চার ও ছক্কায় ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। এছাড়া রোস্টন চেজ ২০ বলে ৩৭ ও অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল ১৪ বলে ২১ রান করেন।    

 

ডানহাতি স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ৪ ওভারে খরচ করেন ৬৫ রান, যা টি২০তে অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল বোলিং ফিগার। আগের ব্যয়বহুল বোলিংয়ের রেকর্ড ছিল অ্যান্ড্রু টাই ও অ্যারন হার্ডির। দুজনই খরচ করেন ৬৪ রান।

 

রান পাহাড়ে চাপা পড়া অজিরা ডেভিড ওয়ার্নার (৪৯ বলে ৮১) ও শেষ দিকে টিম ডেভিডের (১৯ বলে ৪১*) ব্যাটে লড়বেও জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি। রোস্টন চেজ ও রোমারিও শেফার্ড দুটি করে এবং আকিল হোসেন এক উইকেট নেন।

 

ম্যাচসেরা হয়েছেন রাসেল। তিন ম্যাচে ১৭৩ রান করে সিরিজসেরা ডেভিড ওয়ার্নার।