ভারত ও শ্রীলংকায় শুরু হয়ে গেল দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। এবার কি বিশ্বকাপে দেখা যাবে ৩০০ রানের উৎসব?

এটি এখন আর কোনো উদ্ভট প্রশ্ন নয়। কেননা ব্যাটাররা সুপারসনিক গতিতে রান করছেন। ছেলেদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে মোট পাঁচটি তিনশোর্ধ্ব স্কোর হয়েছে, যার তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে।

সর্বশেষ রান বন্যার রেকর্ডটা হয়েছে গত বছর ম্যানচেস্টারে। ফিল সল্ট (৬০ বলে ১৪১) ও জস বাটলারের (৩০ বলে ৮৩) খুনে ব্যাটিংয়ে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ৩০৪ রানের সৌধ গড়েছিল ইংলিশরা। জবাব দিতে নেমে ১৫৮ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। গত দুই বছরে ভারত একাধিকবার তিনশ ছোঁয়ার কাছাকাছি পৌঁছেও পারেনি। গত বছর হায়দরাবাদে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন রান দূরত্বে থেমেছে তারা। সাঞ্জু স্যামসনের সেঞ্চুরি (৪৭ বলে ১১১) ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের ঝড়ো ব্যাটিং (৩৫ বলে ৭৫) ভারতকে এনে দেয় বিশাল পুঁজি। জবাবে বাংলাদেশ ১৬৪ রান তুলতে সমর্থ হয়।

যা-ই হোক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের স্কোরটা আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগের। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ রান তুলেছিল শ্রীলংকা। এরপর আরো আটটি বিশ্বকাপ আসর মাঠে গড়ালেও দলীয় স্কোরের রেকর্ড হয়নি।

শীর্ষ ১০টি দলীয় স্কোরের মধ্যে তিনটি হয়েছিল ২০১৬ সালের আসরে, যা অনুষ্ঠিত হয় ভারতে। সেবার মুম্বাইতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২৩০ রান তুলেছিল ইংল্যান্ড, মুম্বাইতে আরেক ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২২৯ রান তুলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। একই আসরে একই ভেন্যুতে আফগানিস্তানের বিপকে ৫ উইকেটে ২০৯ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা।

এবার ভারত ও শ্রীলংকায় বিশ্বকাপ আসর বলে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে তিনশোর্ধ্ব ছাড়ানো স্কোর হওয়ার। কেননা এ দেশ দুটির অপেক্ষাকৃত ছোট এবং একাধিক ভেন্যুর আউটফিল্ড বেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন, সেই সঙ্গে সন্ধ্যায় শিশির পড়ার সম্ভাবনা তো থাকছেই। তাই স্বাগতিক ভারত, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলোর বিগ হিটাররা নিশ্চিতভাবেই এবার তিনশ রানকে টার্গেট করবেন।

বিশ্ব ক্রিকেটে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় হিটার ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক নিজেই মনে করছেন, এবার ৩০০ রান হতে পারে। তার কথায়, ‘ভারতের অনেক মাঠ আছে যেখানে ৩০০ রান হতে পারে। উইকেটগুলো ভালো, আউটফিল্ড দ্রুতগতির, আর বাউন্ডারিও ছোট। কাজেই তুমি নির্ভীক ব্যাটিং করতে থাকো এবং ভাবো যে তুমি আউট হতে মোটেও ভয় পাও না এবং বলকে যত সম্ভব হিট করো।’

গত বুধবার ওয়ার্মআপ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকান এনরিখ নরকিয়ার বলের গতি কাজে লাগিয়ে টানা চার বলে ৬, ৬, ৪, ৬ হাঁকান ভারতের ইশান কিশান। অধিনায়ক এইডেন মারক্রাম প্রতি বলে ফিল্ডিং পরিবর্তন করেও ফল পাচ্ছিলেন না। ভারতীয় দলে এবার বেশ কয়েকজন বিস্ফোরক ব্যাটার রয়েছেন যারা কিনা তিনশ রানকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন।

টি-টোয়েন্টির দ্রুত পরিবর্তনে যেসব খেলোয়াড়ের আগ্রাসী ব্যাটিং বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে অন্যতম ভারতের দলনায়ক সূর্যকুমার যাদব। এ নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘খেলাটি সতিই খুব দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। বোলারদের ওপর ব্যাটাররা নির্দয় হচ্ছে, এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। ব্যাটার হয়ে আমি খুশি, একই সঙ্গে আমার বোলারদের জন্য আমার খারাপ লাগে। তবে এটা ঠিক, মানুষজন এখন মুহূর্তটা কাজে লাগাতে, উপভোগ করতে চায়। এজন্য তাদের নির্ভীক হতে হয়।’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে শীর্ষ ১০টি স্কোরের চারটিই দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৬ সালের আসরেই তিনবার দুইশ পেরিয়েছে তারা। এছাড়া ২০০৭ সালে প্রথম আসরে নিজেদের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০৮ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা। ২০ ওভারের ফরম্যাটে বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও সব সময়ই প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক এক দল দক্ষিণ আফ্রিকা।