আমেরিকান গ্রেট সেরেনা উইলিয়ামস দুই যুগ ধরে টেনিস বিশ্বকে মোহমুগ্ধ করে রেখেছেন। এ সময় এককেই ২৩টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন। আর একটি গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেই উন্মুক্ত যুগে সর্বোচ্চ মেজরজয়ী মার্গারেট কোর্টের রেকর্ডটা তিনি ছুঁয়ে ফেলবেন। মাঝে দুই-তিন বছর তিনি রেকর্ড ছোঁয়ার মিশনে থাকলেও সফল হচ্ছিলেন না। তবে আর অপেক্ষা নয়। এবার র্যাকেটটা তুলে রাখতে চান। এবারের ইউএস ওপেনই শেষ লড়াই তার। আজ সোমবার শুরু হচ্ছে বছরের শেষ গ্র্যান্ড স্লাম আসর ইউএস ওপেন। এই আসর খেলেই টেনিসকে বিদায় জানাবেন ৪১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। বিদায়বেলায় এখন সবটুকু আলোই যেন পড়েছে সেরেনার ওপর।

 

নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে মোট ছয়বার চ্যাম্পিয়ন শিরোপা হাতে নিয়েছেন সেরেনা। বছরের পর বছর এখানে সমর্থকদের আনন্দ দিয়েছেন এই সুপারস্টার। সেই কোর্টে এবার বাজছে বিদায় রাগিনী। এবার কি শিরোপা হাতে নিয়ে বিদায় ঘটবে তার, নাকি আগেভাগেই বিদায় নেবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে। আপাতত সেরেনাকে বিদায় জানাতে প্রস্তুত ফ্লাশিং মিডো।

 

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর ৫টা) প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে মন্টেনিগ্রোর ডানকা কোভিনিচের মুখোমুখি হবেন সেরেনা।

 

এ বছর তিনি মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন। এর মধ্যে টরন্টোতে হেরেছেন সুইস তারকা বেলিন্ডা বেনচিচের কাছে, আর সিনসিনাটি মাস্টার্সে হারেন ব্রিটিশ খেলোয়াড় এমা রাদুকানুর কাছে।

 

বড় বোন ভেনাস উইলিয়ামসের সঙ্গে জুটি বেধে দ্বৈতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সেরেনা। দ্বৈতে দুজন ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে খেলবেন।

নারী এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাদুকানু। মেয়েদের ইভেন্টে শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার পোল্যান্ডের ইগা সিয়ানতেক, গত উইম্বলডনে যার ৩৭ ম্যাচের জয়রথ থেমেছে। এরপর আট ম্যাচের মধ্যে চারটিতে হারলেও হার্ড কোর্টে অতীত সাফল্যের নিরিখে এই আসরে তিনি হট ফেভারিট।

 

দারুণ সম্ভাবনা জেগেছে আমেরিকান খেলোয়াড় কোকো গাফের। ১৮ বছর বয়সী এই উঠতি তারকা ফ্রেঞ্চ ওপেনের ফাইনালে সিয়ানতেকের কাছে হেরে যান, যা ছিল তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনাল।

 

এছাড়া দুবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী সিমোনা হালেপ সম্প্রতি টরন্টোয় শিরোপা জিতে ফেভারিট হিসেবে আবির্ভুত হচ্ছেন।

  

টেনিসের আরেক গ্রেট স্পেনের রাফায়েল নাদালের ওপরও চোখ থাকবে সবার। পুরুষদের টেনিসে সর্বোচ্চ ২২ বারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ীর সামনে রেকর্ডটা আরেকটু সংহত করার হাতছানি। কভিড-১৯ টিকাজনিত কারণে এই আসরে খেলা হবে না সার্বিয়ান তারকা নোভাক জোকোভিচের। ফলে নাদালের জন্য মিশনটা অনেক সহজ হতে পারে। উল্লেখ্য, এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে জোকোভিচ একই কারণে খেলার সুযোগ হারান, যখন শিরোপা জিতে নেন নাদাল। সম্প্রতি উইম্বলডন জেতা জোকোভিচের শিরোপা ২১টি, রজার ফেদেরারের দখলে ২০টি।

 

জোকোভিচের না থাকাটা ‘খুবই দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন নাদাল। উল্লেখ্য, গত উইম্বলডন সেমিফাইনালের আগে তলপেটের চোটে পড়ায় খেলেননি নাদাল, ফলে ‘ওয়াকওভার’ নিয়ে ফাইনালে ওঠেন নিক কিরিওস। পরে ফাইনালে জোকোভিচ জয় পান।

 

ছেলেদের এককে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রাশিয়ার দানিল মেদভেদেভ এবারো অন্যতম ফেভারিট। এছাড়া আলো কাড়বেন স্পেনের উঠতি তারকা কার্লোস আলকারাজ ও গ্রিসের স্তেফানোস। আজ রাত ১০টায় মেদভেদেভের প্রতিপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের স্তেফান কোজলভ, নাদালের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার রিংকি হিজিকাতা।