টানা দুই জয়ে ক্যারিবীয়রা এক ম্যাচ হাতে রেখেই ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করে। শেষ ম্যাচটি জিতে মাথা উঁচু করে সিরিজ শেষ করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাতে আগে ব্যাটিং করে ৩২১ রানের সৌধ গড়ে আশাও জাগান মেহেদী হাসান মিরাজরা। যদিও অতিথি দলকে চরম হতাশ করেছে স্বাগতিকরা। অভিষেকে সেঞ্চুরি করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জেতানোর পাশাপাশি মিরাজ, তানজিদদের হৃদয় ভেঙেছেন আমির জাঙ্গু।

ইতিহাসের ১৬তম ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে ওয়ানডে অভিষেকে সেঞ্চুরি করেছেন জাঙ্গু। ৮৩ বলে ১০৪ রান করেছেন তিনি। ৪৬ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেউ অভিষেকে সেঞ্চুরি পেলেন। এছাড়া কিসি কার্টির ব্যাট থেকে আসে ৮৮ বলে ৯৫ রান। এ দুজনের ১৩২ রানের জুটিতে ভর করে ২৫ বল বাকি থাকতেই জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এতে বিফলেই যায় সৌম্য সরকার (৭৩), মেহেদী হাসান মিরাজ (৭৭), মাহমুদউল্লাহ (৮৪*) ও জাকের আলীর (৬২*) অসাধারণ প্রচেষ্টা।

এমন হার মেনে নিতে পারছেন না মিরাজ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘৩২১ রান করার পর হেরে যাওয়াটা হতাশার। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না যে এ ম্যাচটা আমরা হারতে পারি। সত্যি বলতে কি, ২০ ওভারের মধ্যে (১৪.১ ওভারে ৮৬/৪) আমরা ৪ উইকেট তুলে নিয়েছি। কিন্তু পরে তারা ১৫০ রানের (পঞ্চম উইকেটে ১৩২ রান) একটি জুটি গড়ল এবং তারা যখন প্রচুর বাউন্ডারি মারছিল, আমরা উইকেট নিতে পারিনি।’

বোলিং নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের বোলারদের জন্য খুব কঠিন দিন ছিল। ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছে। আমরা ভালো জুটি পেয়েছি। সৌম্য, জাকের ও মাহমুদউল্লাহ সবাই ভালো করেছে। বোলিংয়ে আরো ভালো করার সুযোগ ছিল। মাঝের ওভারে উইকেট নিতে পারিনি। এটি আমাদের জন্য সমস্যার ছিল।’

সেন্ট কিটসে টানা তিন ম্যাচেই ফিফটি করা মাহমুদউল্লাহকে প্রশংসায় ভাসিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘(মাহমুদউল্লাহ) খুব ভালো করেছেন। সিরিজে তিনটি ফিফটি করেছেন, যা দলের জন্য খুব ভালো ব্যাপার। তার কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখি। এ সিরিজে তরুণদের দায়িত্ব নেয়ার সুযোগ ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেটি করতে পারিনি।’

একগুচ্ছ রেকর্ড দেখেছে এ ম্যাচ। ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলী যোগ করেন ১৫০ রান, যা এই উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড রান। এটা ওয়ার্নার পার্কে সর্বোচ্চ রান চেজের রেকর্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান চেজ এবং ওয়ানডেতে এ নিয়ে চতুর্থবার ৩০০ রান তাড়া করে জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩২১/৫। ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৪৫.৫ ওভারে ৩২৫/৬। ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আমির জাঙ্গু (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)। সিরিজসেরা: শেরফান রাদারফোর্ড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)।