বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে তারকাখচিত ক্লাব এখন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নেইমার রয়েছেন ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের তাঁবুতে। এত এত নামিদামি তারকার সমাবেশ ঘটিয়েও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি নামের সোনার হরিণের দেখা মিলছেই না। আরেকবার হোঁচট খেল কাতারি মালিকানাধীন ক্লাবটি। সর্বশেষ বুধবার রাতে বায়ার্ন মিউনিখের মাঠে ২-০ গোলে হেরেছে মেসিদের দল। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় ঘটল এবার। উল্লেখ্য, এ নিয়ে টানা ১১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের মিশন ব্যর্থ হলো তাদের। এমন পরিস্থিতিতে কী করবে পিএসজি? চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বপ্নপূরণে তারা কি নতুনভাবে শুরু করবে?

প্রথম লেগে খেললেও চোটে পড়ায় দ্বিতীয় লেগে নেইমার অনুপস্থিত। তবে মাঠে ছিলেন এমবাপ্পে ও ইতিহাসের সেরা ফুটবলার বিবেচিত মেসি। তবে এ তিনজন ১৮০ মিনিটে পিএসজিকে একটি গোলও এনে দিতে পারেননি। 

সাবেক চেলসি প্লেমেকার জো কোল বলেছেন, ‘‌প্যারিস সেন্ট জার্মেই প্রকল্প গড়েছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে, যদিও তারা লক্ষ্য থেকে বহু মাইল দূরে। পরিশেষে প্রকল্পটিকে ব্যর্থই মনে হচ্ছে।’

সাবেক ইংলিশ মিডফিল্ডার ওয়েন হারগ্রিভস বলেছেন, ‘‌তাদের অসংখ্য মেধাবী খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু তারা একটি দল হয়ে ওঠেনি। এটা লজ্জাজনক। তারা বহু অসাধারণ খেলোয়াড় জড়ো করলেও তারা দলকে কিছু দিতে পারলেন না।’

পরাজয় শেষে পিএসজি কোচ ক্রিস্টোফ গালতিয়ার বলেছেন, ‘‌এটা খুব বড় হতাশার। আমাদের এটি মেনে নিতে হবে এবং সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জানি না, এটি কোনো শিক্ষা কিনা, তবে এটা বড় হতাশার। আমরা যদি আগে গোল পেতাম, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতো। কিন্তু আমরা তা পারিনি।’

এদিকে, সাবেক ইংলিশ ফুটবলার জেমি ক্যারেগার পিএসজির ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে স্বপ্নপূরণে পিএসজি ছাড়ার পরামর্শ দিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘‌কিলিয়ান এমবাপ্পের এখন দ্রুতই পিএসজি ছাড়া উচিত। সে যত দ্রুত রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখাবে, ততই মঙ্গল।’ 

এখন কী করবে পিএসজি?

২০১২ সালে কাতারি মালিকানা আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি খরচ করেছে পিএসজি। ২০১৭ সালে ২০ কোটি পাউন্ডে নেইমারকে সই করানো হয় বার্সেলোনা থেকে। একই বছর এমবাপ্পের জন্য তারা মোনাকোকে দিয়েছে ১৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। নতুন মালিকের অধীনে ১০টি লিগ শিরোপা ও ১২টি অন্যান্য ঘরোয়া কাপ জিতলেও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা এখনো অধরা। প্রথম চার মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও পরের সাত মৌসুমের মধ্যে পাঁচবারই তারা বিদায় নিল শেষ ষোলো থেকে। তাদের সেরা ফল ২০২০ সালের ফাইনাল, যখন এ বায়ার্নের কাছেই হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় নাসের আল খেলাইফির। 

পিএসজির স্কোয়াড সব সময় তারকায় ঠাসা থাকে, যদিও দলটির মধ্যে দৃঢ়তা কিংবা ভারসাম্য কখনই সেভাবে আসেনি। কোল বলেন, ‘‌তাদের পরিচয় সংকট। তারা কারা? তাদের পরিকল্পনা থাকে বলে মনে হয় না। আমার মনে হয় তারা ভীত একটি দল। গত চার বছর ভালো অবস্থানে থেকেও তারা বিদায় নেয়। এখান থেকে তাদের মানসিক সমস্যাটিই বেরিয়ে আসছে। গত কয়েক বছর তারা বিশ্বের সেরা কিছু খেলোয়াড় কিনেছে। ক্লাবটি এখন যা ব্যয় করছে তার এক-চতুর্থাংশ খরচ করেই বিশ্বব্যাপী ফ্রান্সের যত মেধাবী খেলোয়াড় ছড়িয়ে রয়েছে তাদের জড়ো করতে পারে এবং তখন একটি স্বকীয়তাও তৈরি হবে তাদের, আর সমর্থকদের সঙ্গে বন্ধনটা মজবুত হবে।’

কোল হয়তো মন্দ বলেননি। পিএসজিকে হারানোর দুই নায়ক ফরাসি। প্রথম লেগে বায়ার্নের একমাত্র গোলটি করেন কিংসলে কোমান, যিনি একজন প্যারিসিয়ান। ২০১৪ সালে ফ্রি ট্রান্সফারে তিনি বায়ার্নে নাম লেখান। দ্বিতীয় লেগে দুই গোলের একটি করেন এরিক ম্যাক্সিম চুপো-মোটিং, যিনিও ফ্রি ট্রান্সফারে পিএসজি থেকে বায়ার্নে নাম লেখান। 

হারগ্রিভস বলেন, ‘‌পিএসজির উচিত পুরো প্রকল্প ছেঁটে ফেলে নতুনভাবে শুরু করা। প্যারিসভিত্তিক তরুণ মেধাবী খেলোয়াড়রা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে। তারা কেন সলজবুর্গ কিংবা লেস্টার কিংবা ডর্টমুন্ডে যায়? তাদের তো সবার পিএসজিতে খেলা উচিত।’