মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে চলমান দ্বিতীয় টেস্টে ২৫ রানে ৫ উইকেট পতনের পরও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩৬৫ রানের পুঁজি পেয়েছে বাংলাদেশ। এই লড়াইয়ের কারিগর মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের হয়ে রেকর্ড ২৭২ রান যোগ করেন দুজন। মুশফিক সর্বোচ্চ ১৭৫ ও লিটন ১৪১ রান করেন। এই টেস্টে বাংলাদেশ ইনিংসের সঙ্গী হলো বেশ কিছু অম্ল-মধুর রেকর্ড।

 

আজ সকালে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে ৫১৩ বল মোকাবেলা করেন মুশফিক ও লিটন। রান ও বল উভয় দিক থেকেই এটা বাংলাদেশের তৃতীয় সেরা জুটি। ২০১৪ সালে গল টেস্টে মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিক ২৬৭ রান করেছিলেন ৫১৮ বল খেলে, আর গত বছর পাল্লেকেলেতে নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক ২৪২ রান করেছিলেন ৫১৪ বল খেলে। এ দুটি জুটির পরই এখন লিটন ও মুশফিক।

 

২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ৩৫৯ রান করেছিলেন মুশফিক ও সাকিব। আর ২০১৫ সালে খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে ৩১২ রান তুলেছিলেন তামিম ও ইমরুল কায়েস। এরপরই মুশফিক ও লিটন। চমকপ্রদ হলো, রান ও বলে বাংলাদেশের শীর্ষ ৬টি জুটির চারটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছেন মুশফিক।

 

ষষ্ঠ উইকেটে এটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আর বিশ্বে ১৫তম সর্বোচ্চ সংগ্রহ। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৯৯ রান করে রেকর্ডের অধিকারী ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস ও জনি বেয়ারস্টো। ২০১৬ সালে কেপটাউনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বিশাল রানের এ জুটি গড়েছিলেন তারা।

 

মুশফিক ৩৫৫ বলে ২১ বাউন্ডারির সাহায্যে ১৭৫ ও লিটন ২৪৬ বলে ১৪১ রান করেন ১৬ বাউন্ডারি ও এক ছক্কার সাহায্যে। প্রথম দিন সকালে বাংলাদেশের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেয়া কাসুন রাজিথা ও আসিথা ফার্নান্দো আজও সংহার মূর্তিতে ফেরেন। দুজনে মোট ৯ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে চারশর আগেই আটকে দেন।

 

সকালে একের পর এক ব্যাটার সাজঘরে ফিরছিলেন আর মুশফিকের চতুর্থ ডাবল সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ফিকে হচ্ছিল। সর্বশেষ ভরসা পেসার এবাদত হোসেন ২০ বল খেলে শূন্য রানে রানআউটের শিকার হলেন। তাতে ১৭৫ রানে অপরাজিত থাকলেন মুশফিক।

এবাদতের আগে বাংলাদেশ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছেন তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ।


এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ড স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৬ ব্যাটারের শূন্য রানে আউট হওয়ার এটি ষষ্ঠ নজির। এর আগে হয়েছে ৫ বার, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের নামও। ২০০২ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার আউট হন শূন্য রানে। এছাড়া লজ্জার এই রেকর্ড আছে পাকিস্তান (১৯৮০, প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ), দক্ষিণ আফ্রিকা (১৯৯৬, প্রতিপক্ষ ভারত), ভারত (২০১৪, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড) ও নিউজিল্যান্ডের (২০১৮, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান)।  

 

লজ্জার রেকর্ডের ইনিংসেই কিনা গৌরবও আছে বাংলাদেশের। সর্বোচ্চ ৬ ব্যাটারের শূন্য রানে আউট হওয়ার যত কীর্তি আছে সেসব ইনিংসের মধ্যে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহটা এখন বাংলাদেশের দখলে। ২০১৪ সালে ম্যানচেস্টারে আগের সর্বোচ্চ ১৫২ রান করেছিল ভারত।

 

এখানেই শেষ নয়। আগের ৬ শূন্যের ইনিংসগুলোর মধ্যে কোনো ব্যাটারই সেঞ্চুরি করতে পারেননি। সেখানে বাংলাদেশের দু দুজন করেছেন সেঞ্চুরি। মুশফিক ও লিটন রাজসিক ইনিংস খেলে দলকে সাড়ে তিনশোর্ধ্ব সংগ্রহ এনে দিয়েছেন।

 

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহটা এখন রেকর্ড। কাউন্টিতে গত বছর ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও সাসেক্স তুলেছিল ৩০০ রান।

 

অসংখ্য রেকর্ডের সঙ্গী হওয়া বাংলাদেশ স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের এই ম্যাচটি জিতলে তা আরো বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশকে দুর্দান্ত জবাব দেয়া শ্রীলংকার ওপর প্রথম আঘাতটা হানেন এবাদত। দলীয় ৯৫ রানে তিনি শান্তর ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান ওশাদা ফার্নান্দোকে। আউট হওয়ার আগে তিনি ৯১ বলে ৫৭ রান করেন। এরপর কুশল মেন্ডিসকে দ্রুতই ফেরান সাকিব আল হাসান (১৩৯/২)। তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন সাকিব।


নাইটওয়াচম্যান কাসুন রাজিথাকে নিয়ে ১৫ বল খেলে দিন পার করেন দিমুথ করুনারত্নে। লংকান দলনায়ক ৭০ ও রাজিথা শূন্য রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। এ সময় অতিথিদের সংগ্রহ ছিল ৪৬ ওভারে দুই উইকেটে ১৪৩ রান। স্বাগতিকদের চেয়ে ২২২ রানে পিছিয়ে সিংহলিজরা।