ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবে আগামী মৌসুমে আর না-ও থাকতে পারেন পেপ গার্দিওলা। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে এরই মধ্যে ক্লাবকে বলেছেন, তারা যেন উত্তরসূরি খোঁজার প্রস্তুতি শুরু করে দেয়।

জানা গেছে, গার্দিওলাকে আগামী মৌসুমে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ম্যানসিটি। সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে চেলসি কোচ এনজো মারেসকাকে নিয়ে, যিনি সিটিতে একটি সময় গার্দিওলার সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে সিটির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন গার্দিওলা, যা শেষ হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমে। শুক্রবার তাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখানে সুখী। আমি থাকতে চাই। আসলে সবকিছু ফলাফলের ওপর নির্ভর করে। যখন এই অধ্যায়টি শেষ হবে তখন ক্লাবই কাউকে বেছে নেবে এবং আমার অবিশ্বাস্য যাত্রার সমাপ্তি হবে। গত বছর অনেক গুজব ওঠে। কিন্তু আমি থাকতে চাই। মৌসুম শেষে দেখা যাক, কী হয়।’

গতকাল রাতে প্রিমিয়ার লিগে ওয়েস্ট হ্যামের মুখোমুখি হয় ম্যানসিটি। লিগ লিডার আর্সেনালের চেয়ে দুই পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল সিটিজেনরা।

২০২৪-২৫ মৌসুমে বিবর্ণ ছিল ম্যানসিটি। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর এই প্রথম শিরোপাশূন্য মৌসুম কাটল তাদের। যদিও চলতি মৌসুমে সবক’টি শিরোপার জন্য লড়ছে গার্দিওলার দল। তিনি বলেন, ‘আমি শিহরিত, কারণ উন্নতি করার ও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। আমি এটাই চাই। গত মৌসুমটি ছিল খুব কঠিন এবং আমি কিন্তু আশা ছাড়িনি এবং সেখানেই থেকে যাই। এ মৌসুমটি অনেক ভালো কাটছে এবং আমি তাদের সঙ্গে এখনো ছুটছি আশা নিয়ে। সবকিছু নির্ভর করছে আমার মনের ওপর এবং এ মুহূর্তে অনুভূতি ভালো। এ কারণেই আমি দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছি।’

২০১৬ সালে ম্যানসিটিতে যোগ দেয়ার পর থেকে কমিউনিটি শিল্ড ছাড়াও ম্যানসিটির ১৫টি মেজর শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন গার্দিওলা। এর আগে বার্সেলোনা ও বায়ার্ন মিউনিখেও দুর্দান্ত শিরোপা সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

ম্যানসিটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি গার্দিওলা। তিনি বরং শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপরই জোর দিচ্ছেন। তার কথায়, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই ম্যাচ বাকি থাকতে আমরা চতুর্থ স্থানে, প্রিমিয়ার লিগ চলছে এবং কারাবাও কাপের সেমিফাইনালে আমরা। এটাই আমাকে সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে উদ্দীপ্ত করে থাকে। আমি কেবল দেখতে চাই, দল ভালো করছে কিনা। যখন আমরা নিখুঁত খেলি, সুযোগ তৈরি করি এবং গোলও কম খাই, তখন ম্যাচও জিতে চলি। এটাই আমাদের কাজ। যখন দেখব আমরা ভালো করছি না, উন্নতি করছি না; তখন বাড়ি চলে যাব।’

গার্দিওলার যোগ্য উত্তরসূরি হতে পারেন চেলসির ৪৫ বছর বয়সী কোচ মারেসকা। তাকে নিয়েই এখন গুজব চলমান। যদিও তিনি বলেছেন, ম্যানচেস্টার সিটির কোচের পদ নিয়ে গুজবে কান দেয়ার মতো সময় তার হাতে নেই। গোল পাকিয়েছে দি অ্যাথলেটিক। তারা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে পেপ গার্দিওলা চলে গেলে সেই জায়গায় দায়িত্ব নিতে পারেন চেলসি কোচ। সেই থেকে তাকে ঘিরে গুঞ্জন চরমে।

চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ম্যানসিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ গার্দিওলা। কিন্তু এখনই গুঞ্জন উঠেছে। এ নিয়ে মারেসকা বলেন, ‘এটা শতভাগ গুজব। এটা নিয়ে ভাবার মতো সময়ও নেই। এখানে (চেলসি) ২০২৯ সাল পর্যন্ত আমার চুক্তি রয়েছে। আমার সব মনোযোগ এ ক্লাবকে ঘিরেই। সেখানে কাজ করে আমি খুবই গর্বিত।’

একটি সময় ম্যানসিটিতে গার্দিওলার কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন মারেসকা। সেখান থেকে তিনি লেস্টারের কোচ হিসেবে ক্লাবটিকে চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে আনেন। এরপর চেলসির কোচ হিসেবেও সফলতা পাচ্ছেন। প্রথম মৌসুমেই ব্লুজদের ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিয়েছেন, তাও ইউরোপসেরা দল প্যারিস সেন্ট জার্মেইকে হারিয়ে। তার দল জিতেছে উয়েফা কনফারেন্স লিগও। সেই সঙ্গে তার দলটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও খেলছে। প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ স্থানে রয়েছে চেলসি। শীর্ষ দল আর্সেনালের চেয়ে তারা আট পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি কিছু বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন মারেসকা। তিনি বলছিলেন, চেলসিতে যথেষ্ট সমর্থন তিনি পাচ্ছেন না। তখনই তাকে ঘিরে ম্যানসিটিতে যাওয়ার গুজব উঠতে থাকে। গুজব ওঠারই কথা। কেননা গার্দিওলা আবার ম্যানসিটিকে বলে দিয়েছেন যেন তারা উত্তরসূরি খুঁজে নেয়। এ মুহূর্তে মারেসকার মতো যোগ্য উত্তরসূরি তো কমই আছেন।

গতকাল সন্ধ্যায় নিউ ক্যাসলের মাঠে খেলতে নামে মারেসকার চেলসি।