এশিয়া কাপের ১৫তম আসর শুরু আজ । উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি  শ্রীলংকা ও আফগানিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে আফগানিস্তান। গ্রুপটিতে শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ। সাকিব-মুশফিকদের প্রথম ম্যাচ আগামী মঙ্গলবার, আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

টস জিতে আফগান দলনায়ক মোহাম্মদ নবী বলেন, একেবারেই সতেজ পিচ, দুবাইয়ে বেশ কিছুদিন ক্রিকেট হয়নি, আমরা এ সুযোগটাই নিতে চাই। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হলেও এবারের এশিয়া কাপ শ্রীলংকার মাটিতেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারেনি। দুবাইতে অনুষ্ঠিত হলেও আয়োজক শ্রীলংকা ক্রিকেট বোর্ডই (এসএলসি) থাকছে।

শ্রীলংকার বিপক্ষে আজকের ম্যাচটি টি২০তে আফগানিস্তানের শততম ম্যাচ। অন্য সংস্করণের চেয়ে টি২০ ক্রিকেটে আফগানরা সবসময় ভালো খেলে। যদিও সবশেষ আয়ারল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে তারা। তবে গত জুনে জিম্বাবুয়ের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল আফগানিস্তান। আর গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছিল মোহাম্মদ নবির দল। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে দুইবার এই টুর্নামেন্টে খেলেছে তারা। এর মধ্যে বলার মতো কোনো সাফল্য ছিল না। তবে এবারের টি২০ এশিয়া কাপে শক্তিশালী দল আফগানিস্তান। 

রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি, মুজিব-উর রহমান, নাজিবউল্লাহ, নাভিন-উল হক ও হজরতউল্লাহ জাজাইর মতো টি২০’র ফেরিওয়ালার আছেন দলে। তাদের মোকাবেলা করা শ্রীলংকার জন্য কঠিনই হতে পারে।

আগের রেকর্ডকে মুছে এবারের এশিয়া কাপে ভালো কিছুর ইঙ্গিতই দিয়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিও। তিনি বলেছেন, এশিয়া কাপে আমাদের ভালো কোনো রেকর্ড নেই ঠিকই। তবে আমরা টি২০তে ভালো দল। সেই অভিজ্ঞতা দিয়ে এবার ভালো কিছু করতে চাই।

সম্প্রতি টি২০ ক্রিকেটে শ্রীলংকার পারফরম্যান্স বেশ উজ্জ্বল নয়। গত টি২০ বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভ থেকে বিদায় নেয় তারা। আর বিশ্বকাপের পর তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে সবগুলোতেই হেরেছে লংকানরা। অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাঁচ ও তিন ম্যাচের সিরিজ এবং ভারতের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজ হারে শ্রীলংকা। ১১ ম্যাচে জয় মাত্র দুইটিতে। তবে শ্রীলংকা তারুণ্যদীপ্ত দল। নতুন করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনের উত্তসূরীরা।

টপ-অর্ডারে কুশল মেন্ডিস, দানুশকা গুনাথিলাকা, দিনেশ চান্দিমালের ওপর নির্ভর করবে শ্রীলংকার সাফল্য। তবে শ্রীলংকার শক্তি তাদের বোলিং। স্পিনে তাদের সবচেয়ে বড় তারকা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। তার সঙ্গে আছেন মহেশ থিকশানা, প্রবীণ জয়াবিক্রমা ও জেফরি ভান্ডারসে। অন্যদিকে পেস বিভাগ নিয়ে শ্রীলংকার মাথাব্যথার কারণ ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন পেসার দুসমন্থ চামিরা। তার পরিবর্তে লংকানদের দলে সুযোগ হয়েছে পেসার নুয়ান থুসারার। পেস আক্রমণে নতুন মুখ হিসেবে আছেন আসিথা ফার্নান্দো, দিলশান মধুশঙ্কা ও মহেশ পাথিরানা। 

টি২০ ক্রিকেটে এ পর্যন্ত মাত্র একবারই দেখা হয়েছে শ্রীলংকা ও আফগানিস্তানের। ওইবার ২০১৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপে সুপার টেনে আফগানিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল লংকানরা।