চট্টগ্রাম টেস্টে তৃতীয় দিন দুই সেশনে কর্তৃত্ব করল বাংলাদেশ। তিন হাফ সেঞ্চুরি ও এক সেঞ্চুরিতে চালকের আসনে স্বাগতিকরা। দিনশেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩১৮ রান। শ্রীলংকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে আর ৭৯ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

 

পঞ্চম উইকেটে ২১১ বলে ৯৮ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন কুমার দাস। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এই টেস্টে বাংলাদেশকে সংহত অবস্থান গড়ে দিয়েছে। এর আগে উদ্বোধনী জুটিতে ১৬২ রান করেন তামিম ইকবাল ও মাহমুদুল হাসান জয়। পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রথম উদ্বোধনী জুটিতে শতরান পেল বাংলাদেশ।

 

চা-বিরতির সময় দলীয় ২২০ রানে তামিম রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে গেলে মুশফিকের সঙ্গী হন লিটন। লিটন মেরে খেললেও মুশফিক ছিলেন শান্ত। দুজনে হাফ সেঞ্চুরি করেন কাছাকাছি সময়ে। লিটন ১১৩ বলে ৫৪ ও মুশফিক ১৩৪ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। আর ১৪ রান করলেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে ৫ হাজারি ক্লাবে নাম লেখাবেন মুশফিক। আর তামিম ব্যাটিংয়ে ফিরলে তার এই ক্লাবের সদস্য হতে প্রয়োজন পড়বে মাত্র ১৯ রান। 

 

চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশ দলের ত্রাতা হয়ে ব্যাট করছিলেন তামিম। দশম সেঞ্চুরিতে টানছিলেন স্বাগতিকদের। যদিও মাংসপেশিতে টান পড়ায় ব্যক্তিগত ১৩৩ রানে তিনি রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরেছেন সাজঘরে। বাংলাদেশ ওপেনার আর ব্যাটিংয়ে ফিরবেন কিনা, তা নিশ্চিত নয়।

 

সোমবার দ্বিতীয় দিন তৃতীয় সেশনে ১৯ ওভার ব্যাট করে ৭৬ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার টেস্টের তৃতীয় দিন প্রথম সেশনে হাফসেঞ্চুরি করেন দুই ওপেনার তামিম ও জয়। দুজনের দৃঢ়তায় বিনা উইকেটে ১৫৭ রান তুলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফেরার পরই সাজঘরে ফেরেন জয়। ব্যক্তিগত ৫৮ রানে আসিথা ফার্নান্দোর শিকার হন তিনি। তখন দলীয় রান ছিল  ১৬২/১।

 

এরপর তামিমের সঙ্গে যোগ দেয়া নাজমুল হোসেন শান্ত দলকে হতাশ করেন। তিনি মাত্র দুই রান করে ‘কনকাশন সাব’ কাসুন রাজিথার বলে আউট হয়ে যান। রাজিথা মাত্র চতুর্থ বলেই সাফল্য পান। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মাত্র ১০ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর আরো ব্যবধান গড়ে দেন রাজিথা। মুমিনুলকে ব্যক্তিগত দুই রানে বোল্ড করেন তিনি।

 

৪ হাজার ৯৩২ রান নিয়ে আজ ব্যাটিংয়ে নামা মুশফিকের ৫ হাজার পূর্ণ হতে প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান। তামিম টেস্টে ৪ হাজার ৮৪৮ রান নিয়ে চট্টগ্রাম টেস্ট খেলতে নামেন। ১৩৩ রান করায় ৫ হাজার পূর্ণ হতে তার আর প্রয়োজন ১৯ রান।

 

এর আগে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ১৯৯ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেটে হারিয়ে ৩৯৭ রান সংগ্রহ করে শ্রীলংকা। ১৪তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ১৯৯ রানে আউট হন ম্যাথুস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের অফস্পিনার নাঈম হাসান ১০৬ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। এটা টেস্টে তার তৃতীয় ৫ উইকেট।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা প্রথম ইনিংস: ৩৯৭। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩১৮/৩ (তামিম ১৩৩* রিটায়ার্ড হার্ট, মাহমুদুল ৫৮, লিটন ৫৪, মুশফিক ৫৩; রাজিথা ২/১৭, আসিথা ১/৫৫)। —তৃতীয় দিন শেষে।