ইউরোপের লিগে দেড় মাসের বিরতি। কাতার বিশ্বকাপ সামনে রেখে খেলোয়াড়রা ক্লাব থেকে বিদায় নিয়ে নিজ নিজ জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে ব্যস্ত। এমনই সময়ে বোমা ফাটালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তিনি বলেছেন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে তিনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন। ডাচ কোচ এরিক টেন হ্যাগের প্রতি তার কোনো সম্মান নেই বলে জানান সিআরসেভেন। ৩৭ বছর বয়সী ফুটবলার অভিযোগ করেন, তাকে ক্লাবের কয়েকজন মিলে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

২০২১ সালের আগস্ট মাসে জুভেন্টাস থেকে সাবেক ক্লাব ম্যানইউতে ফিরে আসেন রোনালদো। তবে ম্যানইউ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে উঠতে ব্যর্থ হওয়ায় রোনালদো চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তা নিয়ে ক্লাবের উর্ধ্বতন মহল ও নতুন হেড কোচ ট্যান হেগের সঙ্গে তিক্ততা তৈরি হয় তার। সম্পর্কটা আর আগের মতো নেই। এখন তো প্রায়ই তাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন ট্যান হেগ। বর্তমান অবস্থা নিয়ে টিভিটকের পিয়ার্স মরগানকে দেড় ঘণ্টার এক দীর্ঘ সাক্ষাত্কারে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রোনালদো। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে দুই পর্বে এই সাক্ষাত্কার সম্প্রচার হবে। তার আগেই ডেইলি সানে বিষয়টি নিয়ে লিখেছেন মরগান।


 

ম্যানইউর উর্ধ্বতন মহল তাকে জোর করে বের করে দিতে চেয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, হ্যাঁ। কেবল কোচই নয়, আরো দু-তিনজন ব্যক্তি আছেন। আমি বিশ্বাসঘাতকার শিকার হয়েছি।

 

৬ নভেম্বর অ্যাস্টন ভিলার কাছে ১-৩ গোলে পরাজিত হয় ম্যানইউ। এরপর অসুস্থতাজনিত কারণে খেলেননি রোনালদো। সমস্যাগুলো তারও আগের। গত মাসে চেলসি ম্যাচে তাকে বাদ দেয়া হয়, কারণ তার তিনদিন আগে টটেনহাম ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে নামতে বলায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠ ছেড়েই চলে যান। এ নিয়ে রোনালদো বলেন, তার (টেন হ্যাগ) প্রতি আমার কোনো শ্রদ্ধা নেই, কারণ সে আমাকে শ্রদ্ধা করে না। আপনার যদি আমার প্রতি শ্রদ্ধা না থাকে, তবে আমারও আপনার প্রতি থাকবে না।

 

রোনালদো মনে করেন, ২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন চলে যাওয়ার পর ম্যানইউতে কেনো উন্নতি হয়নি। তার কথায়, কোনো কিছুই বদলায়নি। আমি ম্যানইউকে ভালোবাসি, আসি সমর্থকদের ভালোবাসি, যারা আমার পাশে সব সময় রয়েছে। কিন্তু তারা যদি সবকিছু ভিন্নভাবে দেখতে ও করতে চায় তবে তাদের অনেক কিছু পাল্টাতে হবে।

 

মাঝে রোনালদোর কড়া সমালোচনা করেন তার সাবেক সতীর্থ ইংলিশ গ্রেট ওয়েন রুনি। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, জানি না কেন সে একটা কঠোর সমালোচনা করল, হয়তো সে তার ক্যারিয়ার শেষ করেছে এবং আমি এখনো সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে যাচ্ছি।

 

রোনালদোর বিশ্বকাপ শুরু হবে ২৪ অক্টোবর। ‘এইচ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঘানার মুখোমুখি হবে পর্তুগাল। গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়া।

 

এটা রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ মিশন। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী খেলোয়াড় ম্যানইউর হয়ে একবার ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চারবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার স্বাদ পেয়েছেন। পর্তুগালের হয়ে জিতেছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে কখনই বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তার। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারের সামনে এবার বিশ্বকাপ জয়ের শেষ সুযোগ।