নিজের কোটা পূরণ শেষে শেখ মেহেদী হাসানের বোলিং ফিগারটা এরকম: ৪-০-১৩-৪। ডটই দিয়েছেন ১৫টি! দলকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়ার পরও জয় ছিল অনিশ্চিত। শেষ ওভারে ক্যারিবীয়দের জিততে প্রয়োজন পড়ে ১০ রান। উইকেটে আছেন আলজারি জোসেফ আর ডেঞ্জারম্যান রভম্যান পাওয়েল। ওই সময় পেসার হাসান মাহমুদের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন। সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে কি ছিলেন দুর্দান্ত অলরাউন্ড নৈপুন্য দেখানো শেখ মেহেদী হাসান? সব উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে বিজয়ের মাসে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ সেন্ট ভিনসেন্টে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। জয় শেষে মেহেদী জানালেন, হাসানের হাতে বল দেখে তিনি ভয় পাননি, বরং বোলারটির ওপর তার আস্থা ছিল।
প্রথম ম্যাচ জিতে ১-০তে এগিয়ে যাওয়ার পর শেখ মেহেদী হাসান এবার সিরিজ জিততে চান।
জয় শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার হাতে নিয়ে শেখ মেহেদী বলেন, ‘হাসান আবারও প্রমাণ করেছে। আমার মনে আছে, আয়ারল্যান্ড সিরিজে (২০২৩ সাল, চেমসফোর্ড) হাসান ডেথ ওভারে একটি ম্যাচ জিতিয়েছিল। ওই অনুভূতি আমার চলে আসছিল যে হাসান পারবে। হাসানের বিশ্বাস ছিল কি না, জানি না। আমার নিজের ভেতর বিশ্বাসটা ছিল যে, হাসান হয়তো বা ম্যাচটা শেষ করবে। হাসান শেষ ওভারে অসাধারণ বোলিং করেছে।’
আজ দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আহমেদের বলে ব্রেন্ডন কিং সাজঘরের পথ ধরার পর অফ স্পিন বল দিয়ে ক্যারিবীয়দের রীতিমতো চেপে ধরেন মেহেদী। একে একে তুলে নিতে থাকেন ডেঞ্জারম্যান নিকোলাস পুরান, জনসন চার্লস, আন্দ্রে ফ্লেচার ও রোস্টন চেজকে। তার অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে ৩৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিক দল (৩৮/৫)। সেখান থেকে লড়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক রভম্যান পাওয়েল। গুড়াকেশ মোতি অধিনায়কের সঙ্গে ২০ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন তানজিম হাসান সাকিবের শিকার হয়ে (৫৮/৬)।
পরের ওভারে আকিল হোসেনকে ফেরান স্পিনার রিশাদ হোসেন (৬১/৭)। এরপর রোমারিও শেফার্ডকে (১৯ বলে ২২) নিয়ে ৩৩ বলে ৬৭ রানের জুটি গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের আশা জাগান রভম্যান। এই দুজন ক্রিজে সেট, তখন স্বাগতিকদের প্রয়োজন পড়ে ১৮ বলে ২০ রান। জয় দেখছিল ক্যারিবীয়রা। কিন্তু চমক যে তখনো বাকি ছিল। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে শেফার্ডকে বিদায় করে এই জুটি ভাঙেন তাসকিন (১২৮/৮)। ওই ওভারে তাসকিন দিলেন মাত্র ২ রান! পরের ওভারে সাকিব দিলেন ৮ রান।
শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। জোসেফ ১ রান দিয়ে স্ট্রাইক দেন পাওয়ালকে। দ্বিতীয় বলটি ডট দেন হাসান। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া ফুল লেংথের বলটি খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসকে ক্যাচ তুলে দেন পাওয়েল (১৩৯/৯)! চতুর্থ বলে ওবেড ম্যাকয় একটি বাই রান নিতে সমর্থ হন। পঞ্চম বলে আলজারি জোসেফকে বোল্ড করে বাংলাদেশের অভাবনীয় এক জয় নিশ্চিত করেন হাসান।
৫২টি আন্তর্জাতিক ও সব মিলে ১৫৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ক্যারিয়ারে এটাই মেহেদীর সেরা বোলিং। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রথম নিলেন চার উইকেট। এদিন দলের প্রয়োজনের সময় ব্যাট হাতে ২৪ বলে করেছেন ২৬ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও উঠল তার হাতে। এ অলরাউন্ডার জয় শেষে বলেন, ‘নতুন বলে আমি সবসময়ই বোলিং করি। সাধারণত যেভাবে বল করি, সেই প্রক্রিয়াটায় ছিলাম। ওদের ডানহাতি ব্যাটসম্যান ছিল, তবে আমার পরিকল্পনা ছিল যাতে ওদের এই উইকেটে আরামে ও সহজে শট খেলতে না দেই। ওরা তো আসলে অনেক শক্তিশালী। ওভাবেই পরিকল্পনা করে বল করেছি।’
এবার সিরিজও জিততে চান মেহেদী। তিনি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজে আমরা জয় দিয়ে শেষ করেছি। ওয়ানডেতে ভালো শুরু করেও ধরে রাখতে পারিনি। বিজয়ের মাসে টি-টোয়েন্টিতে শুরুটা ভালো হলো। সামনে আরও দুটি ম্যাচ আছে। সিরিজ জেতার জন্য যা কিছু করতে হবে, প্রস্তুত আছে সবাই।’
বুধবার একই মাঠে একই সময়ে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। ওই ম্যাচেই সিরিজ জিতে নেয়ার সুযোগ আছে। না পারলে পরের ম্যাচে আরেকটি সুযোগ আসবে শেখ মেহেদী, লিটনদের সামনে।










