ভারতীয় দলে ২০১৩ সালে অভিষেক ঘটে মোহাম্মদ শামির। মাঝে অনেক চড়াই উৎড়াই গেছে তার ক্যারিয়ারে। সম্প্রতি শুধুই টেস্টের বোলার হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওয়ানডে ও টি২০ দলে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। চলতি বিশ্বকাপে তাকে স্কোয়াডে নেয়া হলে সমালোচনা হয়। প্রশ্ন ওঠে, প্রায় এক বছর সাদা বলের ক্রিকেট না খেলা শামিকে নেয়ার সিদ্ধান্ত না দলকে ডোবায়। বিশ্বকাপেও সুযোগ পাচ্ছিলেন না। অবশেষে পঞ্চম ম্যাচে এসে সুযোগ মেলে তার। প্রথম ম্যাচেই বাজিমাত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেন ৫ উইকেট। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। রোলারকোস্টারে চেপে ছুটছেন তিনি, টানছেন দলকেও। সর্বশেষ সেমিফাইনালে ৭ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের স্বপ্নকে ধ্বংস করেছেন শামিই। তাই সর্বত্র এখন শামির জয়গান।

 

কিংবদন্তি পাকিস্তানি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আকরামের কথাই শুনুন, ‘আমি এত ভালো সিমে বল করতে কাউকে দেখিনি। শামিকে ঘুম থেকে উঠে বল করালেও বোধ হয় এভাবেই বল করবে। এক কথায় অবিশ্বাস্য।’

 

অথচ দলে সুযোগ পাওয়ার পরেও শামির বিশ্বকাপ খেলা ছিল ঘোর অনিশ্চিত। স্ত্রী হাসিন জাহানের করা মামলায় আদালতে গিয়ে আগাম জামিন নিতে হয় শামিকে। তবেই খেলার সুযোগ পান বিশ্বকাপে। সেই শামি এখন একের পর এক ম্যাচে ভারতের জয়ের মূল নায়ক, কখনো পার্শ্বনায়ক।

 

সেমিফাইনালে নিউজ়িল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল ও কেন উইলিয়ামসন যখন চার-ছক্কায় ভারতীয়দের গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দেন তখন রোহিত শর্মা বল তুলে নেন বিশ্বস্ত শামির হাতে। প্রথমে আউট করলেন উইলিয়ামসনকে। সেই ওভারেই ফেরালেন টম ল্যাথামকেও। সেখানেই শেষ কিউইদের লড়াই। পরে নেন আরো তিনটি উইকেট। ৩৯৭ রান করেও যখন হারের শঙ্কায় ভারত তখনই ত্রাতা হয়ে এলেন শামি।

 

শামির দুর্বার ছুটে চল। অথচ প্রথম চার ম্যাচে বেঞ্চেই বসে কাটান তিনি। ছিলেন সুযোগের অপেক্ষায়। ভারতীয় সহ-অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে ছিটকে গেলে কপাল খুলে যায় শামির। ধর্মশালায় নিউজ়িল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তিনি নেন ৫ উইকেট। পরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ উইকেট ও শ্রীলংকার বিপক্ষে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি।

 

ইডেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। চমকপ্রদ হলো, বড় বড় দলকে কাবু করলেও পুচকে নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ৪১ রান খরচ করে তিন ছিলেন উইকেটশূন্য! চমকটা হয়তো সেমির জন্যই জমা রেখেছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার। ৫৭ রানে ৭ উইকেট শিকার করে ফাইনালে তুললেন ভারত। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের একমাত্র বোলার হিসাবে ৫০ উইকেট জমা হলো তার নামের পাশে।

 

বিশ্বকাপ ইতিহাসে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ ৭ উইকেট শিকারের কীর্তিও গড়েছেন তিনি। আগে মাত্র চারজনের আছেন এই কীর্তি। বুধবার রেকর্ড গড়ার পর শামি বলেছেন, ‘সুযোগের অপেক্ষা করছিলাম। খুব বেশি সাদা বলের ক্রিকেট খেলার সুযোগ পাইনি। তবে সুযোগ পেলে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। লিগ পর্বে নিউজ়িল্যান্ডের বিপক্ষেই প্রথম সুযোগ পেয়েছিলাম। অনেকে বোলিংয়ে বৈচিত্রের কথা বলেন। কিন্তু আমার লক্ষ্য থাকে শুধু সঠিক জায়গায় বল ফেলা। আমি বিশ্বাস করি ঠিক জায়গায় বল রাখতে পারলে নতুন বলে উইকেট আসবেই। ম্যাচের যেকোনো সময়ই উইকেট আসতে পারে।’

 

মাত্র ৬ ইনিংসে ৯.১৩ গড়ে ২৩ উইকেট শিকার করে চলতি বিশ্বকাপে উইকেট শিকারিদের চার্টে এক নম্বরে উঠে গেছেন শামি। ২২ উইকেট নিয়ে এতদিন শীর্ষে থাকা অ্যাডাম জাম্পাকে ঠেলে দিয়েছেন দুইয়ে। আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আবার শীর্ষে ওঠার সুযোগ পাবেন জাম্পা।