ওয়াসিম আকরাম, আব্দুল রাজ্জাক, মোহাম্মদ সামি ও নাসিম শাহের পর পাকিস্তানের পঞ্চম বোলার ও প্রথম স্পিনার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব দেখালেন বামহাতি স্পিনার নোমান আলী। সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটা ৪৮তম হ্যাটট্রিকের নজির। মুলতানে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে গতকাল প্রথম দিন তার হ্যাটট্রিকে ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায় সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
পাকিস্তানের হয়ে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন ওয়াসিম আকরাম। দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক তার করা। ১৯৯৯ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে টানা দুই টেস্টে হ্যাটট্রিকের প্রথম নজির গড়েন বামহাতি পেস বোলিং গ্রেট। পরের বছর শ্রীলংকার বিপক্ষেই হ্যাটট্রিক করেন রাজ্জাক, ২০০২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেন মোহাম্মদ সামি ও ২০২০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেন নাসিম শাহ। এ তালিকায় এবার নাম উঠল নোমান আলীর।
৩৮ বছর ১১০ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেছেন নোমান আলী। তার চেয়ে বেশি বয়সে এই কীর্তি আছে টেস্ট ইতিহাসে কেবল একজনেরই। ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলংকার বামহাতি স্পিনার রাঙ্গানা হেরাথ হ্যাটট্রিক করেছিলেন ৩৮ বছর ১৩৯ দিন বয়সে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গতকাল ম্যাচের অষ্টম ওভারে আক্রমণে আসেন নোমান। দ্বিতীয় ওভারে তিনি আউট করেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে। পরের ওভারে আলিক আথানাজকে শূন্য রানে ফেরান সাজিদ খান।
নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম তিন বলে টানা উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক করেন নোমান আলী। জাস্টিন গ্রেভস, টেভিন ইমলাখ ও কেভিন সিনক্লেয়ার তার শিকারে পরিণত হলে হ্যাটট্রিকের উচ্ছ্বাসে ভাসেন তিনি।
কেমার রোচকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন নোমান। ১৯ টেস্টের ক্যারিয়ারে ৮ বার ইনিংসে ৫ উইকেট এবং টানা ৫ টেস্টে ৫ কিংবা ততোধিক উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখালেন নোমান আলী।
নোমান আলীর ঘূর্ণিতে চূর্ণ হলেও দারুণ লড়াই করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেল-এন্ড। ৫৪ রানে ৮ উইকেট পতনের পর গুড়াকেশ মোটি (৮৭ বলে ৫৫), জোমেল ওয়ারিক্যান (৪০ বলে ৩৬) ও রোচের (৪৫ বলে ২৫*) দৃঢ়তায় দেড়শ পেরিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। জবাব দিতে নেমে ক্যারিবীয় স্পিনে ১৫৪ রানে অল আউট হয়ে যায় পাকিস্তান।
টেস্টে কোনো দলের ইনিংসে সর্বোচ্চ তিনটি স্কোরই শেষের তিন ব্যাটসম্যানের—এটি একটি রেকর্ড। আগের রেকর্ডটিও ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই, আর সেটি পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজেই। মুলতানে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ তিনটি ইনিংস ছিল ৯, ১০ ও ১১ নম্বরে নামা মোতি, ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলসের।
নোমান আলী ও সাজিদ খানের কৃতিত্বে মুলতানে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।










