দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে কোনো সংস্করণেই কখনো জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের সামনে এবার চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে ইতিহাস বদলে দেয়ার। তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে গতকালই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রওনা হয়ে যায় বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের যাওয়ার কথা তিন ধাপে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রোটিয়াদের মাটিতে বাংলাদেশের স্মৃতি কখনই সুখকর ছিল না। বৈশ্বিক আসর বাদে দেশটিতে তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সেখানে নয়টি ওয়ানডে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়ে সবক’টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয়েছে ২১ বার, যার মধ্যে প্রোটিয়ারা ১৭টিতে জিতেছে, বাংলাদেশ জিতেছে চারটিতে। দক্ষিণ আফ্রিকায় ছয় টেস্টেও ড্র কিংবা জয়ের কোনো সাফল্য নেই লাল-সবুজদের। সব মিলিয়ে প্রোটিয়াদের সঙ্গে ১২টি টেস্ট খেলে বাংলাদেশের অর্জন মাত্র দুই ড্র।

গত বছর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জয়ের ইতিহাস গড়া মুমিনুল হকের দল এবার কি পারবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইতিহাস গড়তে? কিংবা ওয়ানডেতে গত কয়েক বছর বড় বড় দলকে হারানোর কৃতিত্ব দেখানো বাংলাদেশ দল এবার কি তামিম ইকবালের নেতৃত্বে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্গ জয় করতে?

তবে পরিসংখ্যান দেখে আতঙ্কিত হতে রাজি নন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার কথায় প্রত্যয়ের সুর। বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তামিম বলেছেন, আমরা সবাই জানি এটা চ্যালেঞ্জিং ট্যুর। ওদের কন্ডিশনে ওরা খুবই ভালো দল। আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করব। আমি বলে যাব, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, যেটা হয়তোবা আজ থেকে ১০ বছর আগে বলতাম। আমি অবশ্যই জিততে চাই। এর জন্য যা যা করা দরকার তা করব।

১৮ মার্চ সেঞ্চুরিয়নের সুপার স্পোর্ট পার্কে শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ২০ মার্চ জোহানেসবার্গে দ্বিতীয় এবং ২৩ মার্চ সুপার স্পোর্ট পার্কে তৃতীয় ওয়ানডে। ডারবানে ৩১ মার্চ শুরু হবে প্রথম টেস্ট। ৮ এপ্রিল পোর্ট এলিজাবেথে শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।

বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক আরো বলেন, আমরা জিততে পারি, প্রায় সময়ই কিন্তু বিভিন্ন ফরম্যাটে সেটা প্রমাণ করছি। নিউজিল্যান্ডে যদি চিন্তা করেন, প্রায় ৩০-৩২টি খেলায় কোনোদিন জিততে পারিনি। কিন্তু ওই দলটা সেই রেকর্ড পাল্টে দিয়েছে। আশা করছি, আমার দলটাও এই রেকর্ড পরিবর্তন করতে পারবে।

এদিকে, বাংলাদেশ দলকে সুখবর দিলেন সাকিব আল হাসান। বোর্ডের কাছ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি নিলেও গতকাল সিদ্ধান্ত পাল্টে ৩৪ বছর বয়সী সাকিব জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি সিরিজই খেলবেন।

বাংলাদেশে ওয়ানডে স্কোয়াড

তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, এবাদত হোসেন, নাসুম আহমেদ, ইয়াসির আলি, মাহমুদুল হাসান জয়, খালেদ আহমেদ।

বাংলাদেশ টেস্ট স্কোয়াড

মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, লিটন দাস, ইয়াসির আলি, তাইজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ রাহি, শরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, সাদমান ইসলাম, নুরুল হাসান সোহান।

দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে স্কোয়াড

তেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), কেশব মহারাজ, কুইন্টন ডি কক, জুবাইর হামজা, মার্কো ইয়ানসেন, জানেমান মালান, এইডেন মার্করাম, ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিডি, ওয়েইন পারনেল, আন্দিলে ফেলুকায়ো, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস, কাগিসো রাবাদা, তাবারাইজ শামসি, রাসি ভন ডার ডুসেন, কাইল ভেরেইন।