২০১৮ সালের
বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় ঘটার পর আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে
নিয়োগ দেয়া হলো অনভিজ্ঞ এক তরুণকে, যার ঝুলিতে আগে
শুধু ‘সহকারী’ কোচ হিসেবে কাজ
করার সনদই ছিল। তিনি লিওনেল স্ক্যালোনি।
তার নিয়োগ নিয়ে
কঠোর সমালোচনা হয়। সমালোচকরা বলছিলেন, সিনিয়র কোচিংয়ের
কোনো অভিজ্ঞতা নেই এমন একজন কি গ্রেট লিওনেল মেসি রয়েছেন এমন একটি দলের কোচ হতে
পারেন?
সেই সমালোচনার
সমাপ্তি ঘটেছে। রোববার লুসাইল স্টেডিয়ামে স্ক্যালোনির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ
ফাইনালে লড়বে ফ্রান্সের বিপক্ষে। গত বছর তার অধীনে কোপায় ২৮ বছরের শিরোপা খরা
ঘুচিয়েছে আর্জেন্টিনা। এবার ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপ ট্রফিও ঘরে তুলতে পারে
আলবিসেলেস্তেরা। টানা ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড নিয়ে কাতার মিশনে আসা মেসিরা
আজ শিরোপা জিতলে স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবেন স্ক্যালোনি।
সমালোচনা নিয়ে
আর্জেন্টিনার কোচ আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন,
‘যখন এ কাজটি আমি শুরু করি তখন সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি, আজও একইরকম ভাবি আমি। আমি আমার কাজটি করে গেছি, জাতীয় দলের জন্য সেরাটা করার চেষ্টা ছিল। সমালোচনা নিয়ে আমি
কখনই মাথা ঘামাই না।’
এটা ছিল
স্ক্যালোনির অবিশ্বাস্য যাত্রা। শনিবার এক সাক্ষাত্কারে তিনি কেঁদেছেন, যেমনটি বিশ্বকাপের একাধিক ম্যাচের পর। আজও তিনি কাঁদবেন
নিশ্চিতভাবে, যদি আর্জেন্টিনা জয়লাভ করে। এ নিয়ে স্ক্যালোনি
বলেন, ‘আবেগের কথা বললে, এটা আমাদের
সংস্কৃতি ও সবকিছুরই অংশ। আপনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দেখবেন, আবেগপ্রবণ না হয়ে পারবেন কি? দিনশেষে ফুটবল
একটি খেলা এবং আর্জেন্টিনায় এটা একটি খেলার চেয়েও বেশি কিছু এবং এটি নিয়েই আমরা
সুখী হই। তাদের সুখী করতে পারাটা বিরাট আনন্দের ব্যাপার। আপনার নিজের দেশের সমর্থক
ও মানুষকে রোমাঞ্চিত হতে দেখাটাই হয়তো সবচেয়ে বড় আনন্দের। এটা সত্যিই বড় আবেগের
ব্যাপার, কারণ আমরা তো মানুষ এবং এটি অনুভব করতে পারছি।’
জার্মানির রুডি
ফোলারের পর কনিষ্ঠতম কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ দায়িত্ব পালন করবেন
স্ক্যালোনি। ফোলারের অধীনে ২০০২ সালে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে জার্মানি, সেবার ব্রাজিলের কাছে তার দল পরাজিত হয়। সর্বকনিষ্ঠ কোচ
হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি স্ক্যালোনির সামনে। তার স্বদেশী সিজার লুই মেনোত্তি
১৯৭৮ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয় করেন।
প্রতিপক্ষ
ফ্রান্সের কোচের সামনে অবিশ্বাস্য কীর্তির হাতছানি। মাত্র দ্বিতীয় কোচ হিসেবে টানা
দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ দিদিয়ের দেশমের সামনে। ষষ্ঠ কোচ হিসেবে দলকে একাধিকবার
বিশ্বকাপ ফাইনালের তোলার কীর্তি এরই মধ্যে গড়েছেন তিনি। একজন কেবল দেশকে দুটি
বিশ্বকাপ শিরোপার গৌরব এনে দিয়েছেন। তিনি ইতালির ভিত্তোরিও পোেজা। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮
সালে ইতালি টানা দুবার বিশ্বকাপ জয় এ পোেজার অধীনে খেলে। আজ তাকে ছোঁয়ার দিন
দেশমের। এর আগে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে জিতেছেন বিশ্বকাপ ট্রফি।
অর্থাত্ তাকে ছাড়া এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বকাপ জেতেনি ফ্রান্স কিংবা ফাইনালেও ওঠেনি!
এদিকে, প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুটি বিশ্বকাপ হাতে নেয়ার বিরল
সুযোগের সামনে ফ্রান্স অধিনায়ক উগো লরিস। বিশ্বকাপ হাতে নিতে পারলে অনুভূতি কেমন
হবে আপনার? আজ সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের জবাবে ফ্রান্স
দলনায়ক বলেছেন, ‘২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিততে পেরে আমি ভাগ্যবান মনে
করি নিজেকে। আমি এজন্য খুবই গর্বিত। কিন্তু সত্য বলতে কি, আমি এখন বর্তমান নিয়েই ভাবছি। অতীতে যা ঘটেছে তা এখন অতীত।
এখন সম্ভাব্য সেরা পারফর্ম করে আমরা নিজেদের ইতিহাস লিখতে চাই, নিজেদের গল্প সৃষ্টি করতে চাই। টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে আমরা
অনেক অর্জন করেছি, এখনো আরো দূরে যেতে চাই।’










