৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করা স্বাগতিকরা বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলতে সমর্থ হয়। জবাব দিতে নেমে পাকিস্তান সতর্ক সূচনা করে। সফরকারীরা ৪৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলেছে। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে তারা ২৩৪ রানে পিছিয়ে থাকলেও বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
এর আগে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা বাংলাদেশকে চারশোর্ধ্ব সংগ্রহ এনে দেন মুশফিকুর রহিম ও তাসকিন আহমেদ। মুশফিক ১৭৯ বল মোকাবেলায় করেন ৭১ রান, টেল-এন্ডার তাসকিন ১৯ বল খেলে বোর্ডে মূল্যবান ২৮ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ চারশ পার করান।
লিটন ও মুশফিকুর রহিমের জুটি শুক্রবার প্রথম দিন ২৫ রান তুলে অপরাজিত ছিল। গতকাল সকালে মুশফিকের সঙ্গে আরো ৩৭ রান যোগ করে আউট হয়ে যান লিটন (৬৭ বলে ৩৩ রান)। পাকিস্তানি পেসম্যান মোহাম্মদ আব্বাসকে নিজের উইকেট বিলিয়ে দেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক। তখন দলের সংগ্রহ ছিল ৩৩৮/৫। লিটনের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজ (১০) ও তাইজুল ইসলামকে (১৭) নিয়ে দুটি ছোট জুটি গড়েন মুশফিক। দলীয় ৩৪০ রানে বিদায় নেন মুশফিকও (৭১)। গতি বোলার শাহিন শাহর বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।
স্বীকৃত ব্যাটাররা সবাই সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর এবাদত হোসেন ও নাহিদ রানার সহায়তায় দলের সংগ্রহ ৪১৩ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান তাসকিন। একটি সময় তাকেও থামতে হয়েছে। শাহিনের বলে সৌদ শাকিলকে ক্যাচ দেন তাসকিন। ১৯ বলে ৩ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তাসকিন। পাকিস্তানের মোহাম্মাদ আব্বাস ৫টি ও শাহিন ৩টি উইকেট নেন। এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট শিকার করলেন আব্বাস।
বাংলাদেশের মাটিতে এটা দুই দলের নবম টেস্ট। পাকিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে ৪১৩ রান বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২০১৫ সালে খুলনায় ড্র ম্যাচে তামিম ইকবালের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে মোহাম্মদ হাফিজের ডাবল সেঞ্চুরিতে পাকিস্তান তুলেছিল ৬২৮ রান। ওই ম্যাচেই দুই দল পেয়েছিল নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ, যা আজও টিকে আছে।
এরপর আলো ছড়ান পাকিস্তানের অভিষিক্ত দুই ব্যাটার আজান আওয়াইজ ও আব্দুল্লাহ ফজল। আজানকে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে ২১ ওভারে শতরান তুলে নেন ইমাম-উল-হক। আজান নিজের প্রথম ম্যাচে ফিফটি করেন ৬৫ বলের মোকাবেলায়। বোর্ডে একশ রান তোলার পরপরই আউট হয়ে যান ইমাম-উল-হক। ব্যক্তিগত ৪৫ রানে তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ।
এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসে ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করে সফরকারীরা। অভিষিক্ত আজান ১৩৩ বলে ১২ বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৫ রান করে অপরাজিত, তার সঙ্গে ৭৮ বলে ৩৭ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন আব্দুল্লাহ ফজল। দুই নবাগত ব্যাটার ২৪ ওভার টিকে থেকে ৭৩ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। ব্যক্তিগত ২৮ রানে জীবন পান ফজল। স্লিপে তার ক্যাচ ছাড়েন সাদমান ইসলাম।
সংক্ষিপ্ত স্কোর—
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৪১৩/১০ (শান্ত ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১; আব্বাস ৫/৯২, শাহিন ৩/১১৩)। পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৭৯/১ (আজান ৮৫*, ইমাম ৪৫, ফজল ৩৭*, মিরাজ ১/৩৭)।—দ্বিতীয় দিন শেষে।










