আগামীকাল বুধবার শুরু হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যকার ঐতিহ্যবহুল অ্যাশেজ যুদ্ধ। ব্রিসবেন টেস্ট দিয়ে শুরু হবে ২০২১-২২ সালের পাঁচ টেস্টের অ্যাশেজ সিরিজ। গ্যাবায় বাংলাদেশ সময় ভোর ৬টায় প্রথম টেস্টের খেলা শুরু হবে।

এরই মধ্যে দুটি দলই একাদশ ঘোষণা করেছে। তিন পেসার মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজেলউডকে নিয়ে ফাস্ট বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে স্বাগতিকরা। তাদের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে আছেন অভিজ্ঞ নাথান লায়ন। পঞ্চম বোলার হিসেবে আছেন অলরাউন্ড মিডিয়াম পেসার ক্যামেরন গ্রিন। স্টিভেন স্মিথও পার্টটাইমার হিসেবে হাত ঘুরাতে পারেন।

ব্যাটিং অর্ডারে ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গী হচ্ছেন মার্কাস হ্যারিস। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শেফিল্ড শিল্ডে ব্যাট হাতে বেশ ভালো সময় কাটেনি হ্যারিসের। ভিক্টোরিয়ার হয়ে দুই টেস্ট যথাক্রমে ১, ০, ৯ ও ১৩৭ রান করেন তিনি। এরপরও তার ওপর আস্থা রাখছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ওয়ানডাউনে মার্নাস লাবুশেন গত অ্যাশেজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। এবারো তিনি থাকছেন একই পজিশনে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড হবেন মিডল অর্ডারের স্টিভেন স্মিথ। ট্রাভিস হেড, উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারি ও অলরাউন্ডার গ্রিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ভূমিকা রাখবেন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ পেসার জেমস অ্যান্ডারসনকে প্রথম টেস্টে রাখছে না সফরকারী ইংল্যান্ড। আগামী সপ্তাহে অ্যাডিলেডে দিবা-রাত্রি টেস্টের জন্য তাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। গ্যাবায় ইংলিশ পেস বোলিংয়ে নেতৃত্ব দেবেন মার্ক উড, ক্রিস ওকস, ওলি রবিনসন। ১২ জনের দলে নাম থাকলেও স্টুয়ার্ট ব্রডের খেলা অনিশ্চিত। স্পিনার হিসেবে আছেন জ্যাক লিচ।

স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে এই ম্যাচ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অপেক্ষায় আছেন বেন স্টোকস। তার অভিজ্ঞ বোলিং যেকোনো সময় খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ব্যাট হাতে ররি বার্নস ও হাসিব হামিদ ওপেন করতে পারেন। ডেভিড মালান ওয়ানডাউন থাকছেন। চার নম্বরে নামবেন জো রুট।

অ্যাশেজে মূলত রুট ও স্মিথ দুজনই গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যাট করবেন। তাই এই সিরিজে রুট-স্মিথের লড়াইও দেখা যেতে পারে। বেন স্টোকস, ওলি পোপ ও জশ বাটলারের মতো অভিজ্ঞরা আছেন ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপে। ক্রিস ওকস ও রবিনসনও ব্যাট হাতে কম যান না।

ব্রিসবেন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড এ পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে ২১টি টেস্টে। এর মধ্যে ১২টিতে জয় অস্ট্রেলিয়ার, চারটিতে ইংল্যান্ড জিতেছে এবং পাঁচটি টেস্ট ড্র হয়েছে। এ মাঠে অস্ট্রেলিয়া খেলেছে সর্বমোট ৬৩টি টেস্ট। এর মধ্যে ৪০টিতেই জয় তাদের। হার মাত্র নয়টি টেস্টে। নিজেদের চেনা পরিবেশে ফায়দা তুলতে চাইবে অজিরা। কিন্তু ইংলিশরাও হয়তো ছাড় দেবে না। কারণ এটি অ্যাশেজ। ইতিহাসের প্রথম অ্যাশেজ সিরিজ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই জিতেছিল ইংল্যান্ড।

১৮৮২ সাল থেকে শুরু হয় অ্যাশেজের লড়াই। ২-১ ব্যবধানে প্রথম অ্যাশেজ সিরিজটি জিতে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল ইংলিশরা। ১৩৯ বছরের ইতিহাসে দুই বিশ্বযুদ্ধের কারণ ছাড়া কখনোই বন্ধ হয়নি অ্যাশেজ লড়াই। ১৮ থেকে ৩০ মাসের ব্যবধানে এ সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বমোট ৭১ সিরিজে ৩৩ বার জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, ৩২ বার জিতেছে ইংল্যান্ড ও ছয়চি সিরিজ অমীমাংসিত থাকে। অ্যাশেজে ৩৩৫ টেস্ট ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৩৬ ম্যাচে জয় অজিদের। ১০৮ জয় পেয়েছে ইংলিশরা। ৯১ ম্যাচ ড্র হয়েছে।

কোনো কারণে সিরিজ ড্র হলে পূর্বেকার অ্যাশেজ বিজয়ী দলের কাছেই প্রতীকী ট্রফিটি রক্ষিত থাকে। সর্বশেষ ইংল্যান্ডে ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজ ২-২ ড্র হওয়ায় বর্তমানে ট্রফি অস্ট্রেলিয়ার কাছে। কারণ ২০১৭-১৮ সালের অ্যাশেজ জিতেছিল তারা।

প্রথম টেস্টের একাদশ

অস্ট্রেলিয়া: মার্কাস হ্যারিস, ডেভিড ওয়ার্নার, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ট্রাভিস হেড, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, ন্যাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড।  

ইংল্যান্ড: জো রুট (অধিনায়ক), ররি বার্নস, জস বাটলার, হাসিব হামিদ, জ্যাক লিচ, ডেভিড মালান, অলি পোপ, অলি রবিনসন, বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস, মার্ক উড, স্টুয়ার্ট ব্রড।