দ্বাদশ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এবার দল কমে সাত থেকে নেমেছে ছয়ে। এই ছয় দলের অংশগ্রহণ নিয়েও ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকানা ছেড়ে দেয় ট্রায়াঙ্গেল সার্ভিসেস। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ত্বরিত সিদ্ধান্তে এ ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নিলে সংকটের সুরাহা হয়। অনিশ্চয়তা কাটিয়ে গতকাল মাঠে গড়ায় বিপিএলের উদ্বোধনী দিনের খেলা। এদিন দারুণ এক সেঞ্চুরি করে এবারের বিপিএল জমিয়ে দিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি আর মুশফিকুর রহিম মিলে ৭১ বলে ১৩০ রানের রাজসিক এক পার্টনারশিপ গড়ে সিলেট টাইটানসের মাঠে রাজশাহীকে জিতিয়েছেন ৮ উইকেটে।

উদ্বোধনী ম্যাচের আগে ছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যার শুরুতে শহীদ ওসমান হাদির জন্য পালন করা হয় এক মিনিট নীরবতা। পরে প্রায় ২৫ হাজার বেলুন উড়িয়ে বিপিএলের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সাদামাটা উদ্বোধন শেষে বেলা ৩টায় মাঠে গড়ায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানসের ম্যাচ।

চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মধ্যে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ শুরু হয় রাত পৌনে ৮টায়। দুই ম্যাচের বিরতিতে ছিল সাংস্কৃতিক পর্ব। এখানে দেশের খ্যাতিমান মডেলদের অংশগ্রহণে বর্ণিল পারফরম্যান্সে ছয়টি দলের জার্সিতে ছয় অঞ্চলের কৃষ্টি-কালচার ফুটিয়ে তোলা হয়।

গত আসরে ৫ ম্যাচে করেন মোটে ৫৬ রান। এবার প্রথম ম্যাচেই শান্ত করলেন ১০১ রান। ৬০ বলে ১০১ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনিই প্রথম দিনের নায়ক। শঙ্কা কাটিয়ে জমিয়ে দিলেন বিপিএল আসরটি। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯০ রানের সৌধ গড়ে সিলেট। এ রান তাড়া করত নেমে শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য ব্যাটিং প্রদর্শনী রাজশাহীকে অনেকটা সহজ জয় এনে দেয়। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিক ও বর্তমান অধিনায়ক শান্ত মিলে ৭১ বলে ১৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে রাজশাহীকে জেতান ২ বল বাকি থাকতে।

শান্ত ৬০ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ৫ ছক্কায় ১০১ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ৩১ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৫১ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। রাজশাহীকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন শান্ত। তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতরান এটি, বিপিএলে দ্বিতীয়। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিপিএলে দুটি করে সেঞ্চুরি আছে আর কেবল তামিম ইকবাল ও তানজিদ হাসানের।

এর আগে রাতের শিশিরের কথা বিবেচনা করেই টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন শান্ত। বামহাতি ব্যাটার পারভেজ হোসেন ইমন ৩৩ বলে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে সিলেটকে এনে দেন ৫ উইকেটে ১৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ। এছাড়া রনি তালুকদার ৩৪ বলে ৪১ ও আফিফ হোসেন ১৯ বলে ৩৩ রান করেন।

বিশাল এ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৯ রানে তানজিদকে (৮ বলে ১০) হারায় রাজশাহী। এরপর পাকিস্তানি ব্যাটার সাজিবজাদা ফারহানকে (১৯ বলে ২০ রান) নিয়ে ৪৩ রান যোগ করেন শান্ত। এরপর শান্ত ও মুশফিকের জাদুকরী জুটি। অনবদ্য এক ক্যাপ্টেন্স নক খেলে রাজশাহীকে জিতিয়ে শান্ত হয়েছেন ম্যাচসেরা খেলোয়াড়।

গতকাল রাতের ম্যাচে নবাগত নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৬৫ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৭৪ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম। পাকিস্তানি ব্যাটার মির্জা বাইগ ৬৯ বলে ৮০ রান করেন। এছাড়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান ১৩ বলে ২৬ রান করেন। এই রান তাড়া করতে নেমে ১৬.৫ ওভারে ১০৯ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। তানভীর ইসলাম তিনটি এবং শরিফুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ও মুকিদুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন।

আজ বেলা ১টায় দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস খেলবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে, সন্ধ্যা ৬টায় সিলেটের প্রতিপক্ষ নোয়াখালী।