নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এসি মিলানকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স
লিগের ফাইনালে উঠেছে ইন্টার মিলান। ইতালিয়ান জায়ান্টরা ১৩ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ
ফাইনালে উঠেছে। ১০ জুন ইস্তানবুল ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ধারিত
হবে আজ রাতে। ইতিহাদে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মুখোমুখি
হবে ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে প্রথম লেগটি ১-১ গোলে ড্র
হয়।
বার্সেলোনার কোচ হিসেবে দুবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার
স্বাদ পেয়েছেন পেপ গার্দিওলা। তবে সিটির কোচ তার সর্বোচ্চ সাফল্য ফাইনাল। গত
মৌসুমে সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের পর এবারো সেমিফাইনালে স্প্যানিশ
জায়ান্টের সামনে তারা। আরেকটি অগ্নিপরীক্ষার মুখে তার দল। সিটি কখনই চ্যাম্পিয়ন্স
লিগ জিততে পারেনি।
সিটিতে নিজের অর্জন ও আজকের ম্যাচ নিয়ে গার্দিওলা বলেন, ‘এরই মধ্যে
আমার উত্তরাধিকার অবিশ্বাস্য। আমি খেলোয়াড়দের বলেছি, তোমরা সময়টাকে উপভোগ করো—আমরা দারুণ ভাগ্যবান। সবকিছু এখন আমাদের হাতে, ভাগ্য
নিজেদেরই গড়তে হবে। আমাদের অবিশ্বাস্য কিছু করতে হবে না, কেবল ম্যাচটি
জিতলেই ফাইনালে উঠে যাব। তবে যাই হোক না কেন,
আমি গর্বিত। তোমরা আমাকে ও সিটিকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছো বলে, তোমাদের অনেক
ধন্যবাদ।’
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের ঈষণীয় রেকর্ড। ১৩ মৌসুমের
মধ্যে ১১ বার সেমিফাইনালে উঠেছে তারা। এখন দশ বছরের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা
জয়ের আশায় কার্লো আনচেলত্তির দল।
২০১৮ সালে জিনেদিন জিদানের অধীনে কিয়েভ ফাইনালে লিভারপুলকে
হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল রিয়াল। তখন জিদান তার খেলোয়াড়দের কী বলছিলেন, সেই
স্মৃতিচারণ করে রিয়াল মিডফিল্ডার লুকা মডরিচ বলছেন, ‘কিয়েভ ফাইনালের আগে জিজু বলছিলেন, আমাদের একটি
রাজত্ব তৈরি করতে হবে। এটা কিন্তু আপনাকে বাড়তি উদ্দীপনা দেবে। যখন আপনি আরেকটি
ফাইনালের কাছাকাছি থাকবেন,
তখন নিজের সবটুকু উজাড় করে দেবেন। এটা ম্যাচে আপনাকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে
দেবে। আমরা ঐতিহাসিক কিছু করার দ্বারপ্রান্তে।’
পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা অপটার মতে, ২২ ম্যাচে
অপরাজিত ম্যানসিটির ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ এবং টুর্নামেন্ট জয়ের সম্ভাবনা
৪৫ শতাংশ। তাদের মতে,
১৫তম শিরোপার জয়ের ১৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে রিয়ালের।
এদিকে,
মঙ্গলবার রাতে স্যান সিরোয় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসি
মিলানকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় ইন্টার মিলান। আর্জেন্টাইন ফরওয়ার্ড লাউতারো
মার্তিনেজ ইন্টারের একমাত্র গোলটি করেন। প্রথম লেগে তাদের জয় ছিল ২-০ গোলের।
লাউতারোর গোলের পর দল ৩-০তে লিড নেয়ায় সবকিছু নিশ্চিত হয়ে যায়। নেরাজ্জুরিদের
উদযাপনই বলে দিচ্ছিল,
তারা ফাইনালের টিকিট পেয়ে গেছেন। এরপর আর ফেরা হয়নি মিলানের। ২০ বছরের মধ্যে
প্রথম ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার মিলান ডার্বিতে জয় হলো ইন্টারের।
ইন্টার কোচ সিমোন ইনজাগির চোখে, দ্বিতীয়
লেগটি তার ক্লাবের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ।
২০১০ সালের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে উঠল
তিনবারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান। সর্বশেষ ২০১০ সালে হোসে মরিনেহোর
অধীনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ ট্রেবল জিতেছিল দলটি।
ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাজা রিয়াল মাদ্রিদকে এড়াতে চায়
ইন্টার মিলান। মিলানের বিপক্ষে জয় শেষে ইন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের
জানেত্তি বলেছেন, ‘আমি
রিয়ালকে এড়াতে চাইব, কারণ
এই টুর্নামেন্টটি মনে হয় তাদের জন্যই তৈরি।’
ইন্টারের ফাইনালে ওঠাটা এবার বড় চমকই। বায়ার্নের গ্রুপে
রানার্সআপ হয়ে নকআউটে উঠেছে তারা। এই গ্রুপে বার্সেলোনাও ছিল। এরপর শেষ ষোলোয়
পর্তুগালের পোর্তোকে ও কোয়ার্টার ফাইনালে বেনফিকাকে পরাস্ত করে তারা। শেষ চারে
তাদের শিকার হয় এসি মিলান।
বিস্ময়কর এই যাত্রা নিয়ে ইন্টার কোচ ইনজাগি বলেন, ‘আগামী
কয়েকদিন পরই আমরা বুঝতে পারব যে কী করেছি। আমাদের জন্য এটা একটা স্বপ্ন, তবে সব সময়ই
নিজেদের ওপর বিশ্বাস ছিল। এটা দারুণ এক যাত্রা এবং সেমিফাইনালে ডার্বি জেতাও বিরাট
তৃপ্তির।’ ফাইনালের
প্রতিপক্ষ নিয়ে তিনি বলেন,
‘মাদ্রিদ ও সিটি উভয় ইউরোপের সেরা দল।’
দ্বিতীয় লেগে ইন্টারের জয়ের নায়ক মার্তিনেজ বলেছেন, ‘অবিশ্বাস্য
আনন্দের, আমি
শিহরিত। আমি পরিবারকে ধন্যবাদ জানাই। এই খেলাটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর খেলা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালটা একটা স্বপ্নের মতো।’










