সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে ১৪৮ রানের জয়ের টার্গেটে খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকাকে কঠিন বিপদে ফেলে দিয়েছিল পাকিস্তান। ৯৯ রানে ৮ উইকেট শিকার করেন পাকিস্তানের পেসাররা। তাতে ১৭ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট জয়ের সুযোগ হাতছানি দেয়। যদিও সেই সুযোগ লুফে নিতে পারেনি শান মাসুদের দল। নবম উইকেটে ৫১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রোটিয়াদের জেতান কাগিসো রাবাদা ও মার্কো ইয়ানসেন।
প্রথম ইনিংসেও টেল-এন্ড ভোগায় পাকিস্তানকে। ২১৩ রানে ৮ উইকেট পতনের পর অভিষিক্ত করবিন বশ ৮১ রানের রাজসিক ইনিংস খেলে দলকে এনে দেন ৩০১ রানের পুঁজি। এবার দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াকু ইনিংস খেলে দলকে জেতালেন ইয়ানসেন ও রাবাদা।
এর আগে ২০০৭ সালে সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট জিতেছিল পাকিস্তান। সেই থেকে টানা সাত হারের পর অবশেষে জয়ের সম্ভাবনা দেখা দিলেও তা শেষ পর্যন্ত ধরা দিল না।
দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৫ টেস্ট খেলে দুটি জয় পেয়েছে পাকিস্তান— ১৯৯৮ সালে প্রথম ও ২০০৭ সালে দ্বিতীয় জয় পেয়েছিল তারা। প্রোটিয়ারা আজ তুলে নিল ঘরের মাঠে ১৩তম জয়।
সব মিলে ২৯ ম্যাচের মুখোমুখিতে এটা দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬তম জয়, পাকিস্তান জিতেছে ৬টি ম্যাচ। এছাড়া ড্র হয় ৭টি ম্যাচ।
মোহাম্মদ আব্বাস অনবদ্য বোলিং করে পাকিস্তানকে জয়ের সুযোগ এনে দিয়েছিলেন। ৫৪ রানে ৬ উইকেট নেন তিনি। যদিও পাকিস্তানের হারে বিফলেই যায় তার অনবদ্য বোলিং নৈপুন্য।
কেপটাউনে ৩ জানুয়ারি শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ। এর আগে ২-০তে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজ জয় করে ৩-০তে।
আজ পাওয়া ২ উইকেটের জয়ে প্রথম দল হিসেবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলা নিশ্চিত করে ফেলল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১১ ম্যাচে ৭ জয় ও ১ ড্রয়ে তাদের অর্জন ৬৬.৬৭ শতাংশ পয়েন্ট। আগামী বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। ফাইনালের দ্বিতীয় টিকিটের জন্য লড়াই হবে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ২১১ ও ২৩৭। দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩০১ ও ১৫০/৮ (বাভুমা ৪০, মার্করাম ৩৭, রাবাদা ৩১, ইয়ানসেন ১৬; আব্বাস ৬/৫৪)। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা)।










