সদ্য প্রয়াত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কিংবদন্তি পেলে মাঠে ধ্রুপদি ফুটবল দিয়ে যেমন বিশ্বকে বিমোহিত করেছেন, তেমনি টাচলাইনের বাইরেও ছিল তার বিশাল অবদান। ছোটবেলায় তিনি এতটাই দরিদ্র ছিলেন যে বল কিংবা বল খেলার বুট কেনার পয়সাও ছিল না। অবশেষে সেই ফুটবলেই মুক্তি মিলেছে। তিনি হয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা, সবার আইকন। উপার্জনও করেছেন কোটি কোটি ডলার। শৈশবে অভাব-অনটনে ছিলেন বলে শিশুদের ক্ষুধা ও অভাবের কষ্টটা পেলের চেয়ে আর কে ভালো বুঝবে? তাই তো নিজেকে সবসময় মানবতার সেবায়, শিশুদের সেবায় বিলিয়ে দিতে চেয়েছেন। মৃত্যুর আগে সুস্থ থাকা অবস্থায় তিনি কাজ করেছেন ইউনিসেফ, ফিফাসহ নানা সংগঠনের সঙ্গে। দাতব্য কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চেয়েছেন।
অন্যদের সঙ্গে কাজ করে হয়তো সন্তুষ্ট হতে পারছিলেন না ফুটবলের রাজা। ২০১৮ সালে তিনি ‘পেলে
ফাউন্ডেশন’ গঠনের ঘোষণা দেন, যে দাতব্য সংগঠনটি বিশ্বব্যাপী শিশুর ক্ষমতায়, বিশেষ করে দারিদ্র্য নিরসন ও শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোকে সাহায্য করার লক্ষ্যে গঠিত হয়। নিজেদের লক্ষ্য পূরণে পেলে ফাউন্ডেশন নিজেদের সম্পৃক্ত করে ‘পেনসিলস
অব প্রমিজ’ আর ‘চ্যারিটি:
ওয়াটার’-এর সঙ্গে।
পেলে বলেছেন, আমার আজীবনের স্বপ্ন ছিল বিশ্বব্যাপী শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার জন্য একটি ফাউন্ডেশন গঠন করা, কেননা শৈশবে আমিও অনেকের সাহায্য নিয়ে নিজেকে ভালো জায়গায় নিতে পেরেছি। আমি মানবহিতৈষী নেতাদের সঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি, যারা কিনা বিশ্বব্যাপী শিশুদের জন্য কাজ করে।
ব্রাজিলস চিলড্রেনস, গোল পেলা ভিদা, এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজেস, দ্য লিটলেস্ট ল্যাম্ব ও প্রিন্সেস রেইনফরেস্ট প্রজেক্টের মতো সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন পেলে। দাতব্য কাজের জন্য তাদের সংগ্রহশালা থেকে ১ হাজার ৬০০টিরও বেশি সামগ্রী নিলামে তুলেছিলেন ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৮ সালে গঠন করেন পেলে ফাউন্ডেশন।
তিনি নারী, শিশু, কৃষ্ণাঙ্গ আর পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছেন আজীবন। যেমনটি করেছেন কিংবদন্তি আমেরিকান বক্সার মুহাম্মদ আলী। এই দুজনে একত্রে ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করেছেন। পেলে বলতেন, মুহাম্মদ আলী তার ভাই। আলী একদা পেলেকে বলছিলেন, ‘বক্সিংয়ের
চেয়ে অনেক সুন্দর ফুটবল, কিন্তু আমি তোমার চেয়ে সুন্দর।’
কথাটি মজার ছলে বললেও এই দুজন মিলে আসলে পৃথিবীটাই সুন্দর করতে চেয়েছিলেন।










