মঙ্গলবার ব্রাজিলিয়ান লিগে পেশাদার ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম গোল করেন পালমেইরাসের ফরোয়ার্ড এনড্রিক, যে সময় তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৩ মাস ৪ দিন! ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে গোল করে পালমেইরাসের ১০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছেন এই কিশোর। ভবিষ্যতের নেইমার, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের খোঁজ মিলেছে! এখন তাকে নিয়ে ইউরোপের ক্লাবগুলোতে কাড়াকাড়ি পড়বে।

১৬ বছর বয়সী এনড্রিক এদিন পালমেইরাসের হয়ে মাত্র ৬০ মিনিট খেলেই বাজিমাত করেছেন। গোলের পরই ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে গোলবন্যা বইয়ে দেয়া নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং ব্রাউট হালান্ডের মতো উদযাপন করে বুঝিয়ে দেন, তার মধ্যে গোলক্ষুধা কতটা প্রকট।

এ ম্যাচে তিনি শারীরিক সক্ষমতা ও মেধার যে স্ফুরণ দেখিয়েছেন তাতে ইউরোপের ক্লাব কর্মকর্তারা মুগ্ধ। বড় ক্লাবগুলোর তত্পরতা এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এখানে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি, যারা রিয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলতে চায়। তরুণ মেধা খুঁজে সই করানোর ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য রিয়াল মাদ্রিদ। এভাবেই তারা নিজেদের তাঁবুতে নিয়েছে বর্তমান দলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ভিনিসিয়ুসকে। এরই মধ্যে তিনি রিয়ালের হয়ে লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স শিরোপা জয় করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এবং এসব শিরোপায় তার বড় অবদান রয়েছে। এবার ভিনিসিয়ুসের দেশের কিশোর এনড্রিককে প্যারিসের বাসিন্দা করতে চায় ফরাসি ক্লাব পিএসজি। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুরুতেই ২০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছে পিএসজি, যদিও পালমেইরাস চায় অন্তত ৩৫-৪০ মিলিয়ন।

এটা নিশ্চিত, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইউরোপের অনেক স্কাউট ও কোচের নজরে থাকবেন এ খেলোয়াড়। অতীতের মতোই কৌশল অবলম্বন করবে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ জায়ান্টরা নীরবেই শিকার করতে পারে। এখানে কোনো চুক্তি হয়নি এটা ঠিক। রিয়াল কোচ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সাও পাওলো ভ্রমণ করতে পারেন, যদি তাকে সেখানে দেখা যায় তবেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এনড্রিককে সই করালেই কিন্তু তিনি এখন পিএসজি কিংবা রিয়ালের হয়ে মাঠে নামতে পারছেন না। তার বয়স সবে ১৬। ইউরোপের ক্লাবের হয়ে খেলতে হলে বয়স ১৮ হতে হবে। কাজেই ২০২৪ সালের আগে তার ইউরোপে খেলা সম্ভব নয়। কাজেই এনড্রিককে সই করালে সেটি লম্বা সময়ের জন্যই হতে হবে, তা পিএসজি করুক কিংবা রিয়াল।

ব্রাসিলিয়ায় জন্মগ্রহণ করা এনড্রিক শিশু বয়সেই ফুটবল খেলা শুরু করেন। বাবা ডগলাস সুসা ইউটিউবে শিশুপুত্রের গোলের ভিডিও দিয়ে ব্রাজিলের আগ্রহী ক্লাবের নজর কাড়তে চেয়েছেন। বাবা যে ছেলেকে ঠিকমতো খেতেও দিতে পারতেন না! অবশেষে ঠিকানা পেয়ে যান ডগলাস সুসা। ২০১৬ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে পালমেইরাসের যুব প্রকল্পে যোগ দেন এনড্রিক। তার বাবাও ক্লাবের ক্লিনারের চাকরি পেয়ে যান। এনড্রিক ফুটবল খেলে তার পরিবারকে সাহায্য করতে চান। তার মনের আশা পূরণ হতে চলেছে। ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির হয়ে ট্রেনিং নিয়ে এখন একটি রত্ন হয়ে উঠেছেন, যাকে ঘিরে ইউরোপ তথা বিশ্ব ফুটবলেই কাড়াকাড়ি পড়ে যাচ্ছে।

ব্রাজিলের আরেক ক্লাব সাও পাওলো প্রায়ই সই করিয়ে ফেলছিল এনড্রিককে। যদিও শেষ পর্যন্ত তার ঠিকানা হয় পালমেইরাসে। ক্লাবটির যুব দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৬৯ ম্যাচ খেলে ১৬৫ গোল করেছেন তিনি। ২০২২ সালের কোপা সাও পাওলো ডি ফুটবল জুনিয়র টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে সাত ম্যাচে সাত গোল করে তিনি সেরা খেলোয়াড় হন এবং পালমেইরাসকে শিরোপা জিততে সাহায্য করেন। ওই পারফরম্যান্স দিয়েই তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের চোখে পড়েন এবং ইউরোপের বড় বড় ক্লাবও তার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

ব্রাজিলীয় সমর্থকরা ব্যথিতই হতে পারেন। কেননা এনড্রিকের আদর্শ পেলে, রোমারিও কিংবা নেইমার নন, পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!