বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল। বয়স মাত্রই ৪০। এখনো অবসর নেননি। তার সতীর্থরা কেউ নির্বাচক প্যানেলে, কেউ কোচিং পেশায়, কেউ বেছে নিয়েছেন ধারাভাষ্যকারের কাজ, আর কেউবা ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। অনেকে এখনো খেলে যাচ্ছেন। আর মোশাররফ রুবেল কিনা পাড়ি জমালেন অনন্তলোকে। মস্তিষ্কের টিউমারের কাছে হার মানলেন তিনি। আজ রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
২০১৯ সালে মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে
রুবেলের। সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে সেই টিউমার অপসারণ করা হয়েছিল।
এরপর ২৪টি কেমোথেরাপি দিতে হয় তাকে। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছিলেন। জাগছিল
বাঁচার নতুন আশা। যদিও সম্প্রতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে টিউমারটি। চলতি বছরের
জানুয়ারিতে এমআরআইয়ে জানতে পারেন যে, টিউমারটি
আবার বাড়তে শুরু করেছে। তারপর থেকে চলছিল কেমোথেরাপি। মাঝে নিতে হয় নিবিড় পরিচর্যা
কেন্দ্রেও (আইসিইউ)।
পাশাপাশি তার রক্তে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে
যায়, শুরু হয়
ডিহাইড্রেশনও। সঙ্গে কিডনির ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে শারীরিক অবস্থার চরম
অবনতি হয়। তখন তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন তার মৃত্যুর
গুজবও ওঠে। যদিও রুবেল হাসিমুখে ভিডিওবার্তায় কথা বলে সেই গুঞ্জনকে মিথ্যা প্রমাণ
করেন। তবে এবার আর গুঞ্জন নয়। সবাইকে কাঁদিয়ে তিনি চলেই গেলেন না ফেরার দেশে।
প্রায় এক মাস চিকিত্সা নেয়ার পর ১৫ এপ্রিল
স্কয়ার হাসপাতাল থেকে গত বাসায় ফেরেন রুবেল। যদিও মৃত্যু তাকে তাড়া করছিল অবিরত।
ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে আজ তাকে ভর্তি করানো হয় ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানেই শেষ
নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কৃতী ক্রিকেটার।
২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় রুবেলের। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন পাঁচটি ওয়ানডে। ৪.৪৫ ইকোনোমিতে নিয়েছেন চারটি উইকেট। জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন বাঁহাতি এই অর্থডক্স স্পিনার।
ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে ১১২ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৯২ উইকেট। ব্যাট হাতে করেছেন ৩৩০৫ রান। ছিল দুটি সেঞ্চুরিও। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন বরিশাল বিভাগ, মধ্যাঞ্চল, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ও খুলনা টাইটানসের হয়ে।










