একটা সময় বাংলাদেশের জন্য সম্মানজনক স্কোর করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল। মুশফিক- আফিফের বিদায়ের পর এ শঙ্কা আরো দ্বিগুণ। ওই সময় স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ৬৯। তখনও ভাবা যায়নি বাংলাদেশের রান ২৫০ পর হবে। ৭ম উইকেটে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ সঙ্গে রেকর্ড জুটি গড়ে সেটা সম্ভব করে ছেড়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দু’জনের ১৪৮ রানের জুটি বাংলাদেশকে সম্মান বাঁচায়নি শুধু, জয়ের জন্য ২৭১ রানের লড়াকু স্কোর এনে দিলেন তারা। মাহমুদউল্লাহ ৭৭ রানে আউট হয়ে গেলেও, মিরাজ ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলে, শেষ বলে সেঞ্চুরিও পূরণ করে ফেলেছেন।

এদিন ৮৯ তম ওভারে মিরাজের রান ৭৮ বলে ৮৫। সেঞ্চুরিটা করতে হলেও ১৫ রান দরকার। শেষ ওভার বল করতে আসলেন শার্দুল ঠাকুর। স্ট্রাইকে নাসুম আহমেদ। প্রথম বলেই লেগবাই রান নিয়ে মিরাজকে স্ট্রাইকে পাঠালেন নাসুম।

স্ট্রাইকে এসেই দ্বিতীয় বলে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে মারলেন ছক্কা। পরের বলটি ছিল ডট। এরপরের বলে মিরাজ যেন নিজেকেই ছাড়িয়ে গেলেন আরেকবার, বল পাঠালানের মিডউইকেটের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে। পরের বলে মিড অফের ওপর দিয়ে তুলে মেরেছিলেন, বাউন্ডারি না হলেও পেয়েছেন ডাবলস। শেষ বলে ৯৯ রানে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিরাজ, শেষ বলে সিঙ্গেল নিলেন, এরপর মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে উদ্‌যাপন করলেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। সেটিও মাত্র ৮৩ বলেই। উল্লাসে ফেটে পড়ল মিরপুরের গ্যালারি। 

তার আগের ওভারেও মিড অফ ও এক্সট্রা কাভারের মাঝ দিইয়ে, এরপর এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে দুটি চার। প্রথম দুটি শটে দুর্দান্ত টাইমিং আর প্লেসমেন্ট। এরপর মিরাজ খেললেন উদ্ভাবনী এক শট। স্কুপ করতে গিয়েছিলেন, তাঁকে অনুসরণ করেছিলেন উমরান। মিরাজ এরপর করলেন রিভার্স স্কুপ। তাতে পেলেন ওভারের তৃতীয় চার। ওই শটেই ক্যারিয়ার-সর্বোচ্চ ইনিংস হয়ে গেল মিরাজের, এর আগে তাঁর সর্বোচ্চ হিল অপরাজিত ৮১ রান। 

দুই ম্যাচে ভারতীয় বোলাররা আউটই করতে পারলেন না মেহেদী হাসান মিরাজকে। প্রথম ম্যাচে ৩৯ বলে অতিমানবীয় ব্যাটিং করেছিলেন তিনি। অপরাজিত ৩৮ রান করে বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি।