সিলেট টেস্টে বাংলাদেশকে ৫১১ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় শ্রীলংকা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪১৮ রানে অলআউট হয়েছে অতিথিরা। এরপর তৃতীয়দিন গোধুলিবেলায় বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে আত্মাহুতির মিছিলে যোগ দেন বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা। ৩৭ রানে ৫ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। এরপর মুমিনুল হক (৭) ও তাইজুল ইসলাম (৬) ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১০ রান যোগ করে দিন পার করেন। দিনশেষে স্কোর ৪৭/৫। এখনো ৪৬৪ রানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

 

প্রথম ইনিংসের মতো এবারও বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিলেন লংকানরা পেসাররা। মূল কারিগর বিশ্ব ফার্নান্দো। মাহমুদুল হাসান জয়, শাহাদাত হোসেন ও লিটন দাসকে সাজঘরে ফেরান তিনি। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেট বিলিয়ে দেন কাসুন রাজিথাকে, আর জাকির হাসান শিকার হন লাহিরু কুমারার। বড় রান তাড়া করতে নামলেও অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার লিটন দাসের আউট ছিল বড়ই দৃষ্টিকটূ। তারা যে বলে শট খেলেছেন, তা ওই সময়ে কোনোভাবেই কাম্য ছিল না।

 

দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলে ১১৩ রানে শ্রীলংকার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। যদিও প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও জোড়া সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান ধনাঞ্জয়া-কামিন্দু জুটি। আজ দুজন গড়েন ১৭৩ রানের জুটি। ধনাঞ্জয়া ১০৮ রান করে আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কামিন্দু। পরে টেল-এন্ড নিয়ে লড়ে যান তিনি বীরবিক্রমে। ২৩৭ বলে ১৬৪ রানের মারুমুখী ইনিংস খেলে তিনি তাইজুল ইসলামের বলে আউট হয়েছেন।

 

গত এক দশকের মধ্যে প্রথম লংকান ব্যাটার হিসেবে কোনো টেস্টের উভয় ইনিংসেই সেঞ্চুরি করলেন ধনাঞ্জয়া। সর্বশেষ ২০১৪ সালে এই কীর্তি ছিল ব্যাটিং গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারার। ধনাঞ্জয়া আউট হওয়ার পর সেঞ্চুরি করেছেন কামিন্দুও। প্রথম ইনিংসের মতো আজও দুজন সেঞ্চুরি করলেন। টেস্ট ইতিহাসে এ নিয়ে তৃতীয়বার একই টেস্টে দুটি দেড়শ রানের জুটির রেকর্ডও হলো। তারা ছাড়া এমন কীর্তি আছে অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার ও জো বার্নসের (২০১৫) এবং ইংল্যান্ডের এডি পেইন্টার ও পল গিবসের (১৯৬৮)।

 

সকালে তৃতীয় ওভারে ‘নাইটওয়াচম্যান’ বিশ্ব ফার্নান্দোকে সাজঘরে ফেরান খালেদ আহমেদ। এরপর ধনাঞ্জয়া ও কামিন্দু ব্যাটে শাসন করতে থাকেন স্বাগতিক বোলারদের। সপ্তম উইকেটে মধ্যাহ্নভোজের আগেই ২৪.১ ওভার ব্যাটিং করে তারা বোর্ডে ১০৭ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। পরে ১৭৩ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন তারা।

 

ধনাঞ্জয়া ১৭৯ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ১০৮ এবং কামিন্দু ১৭১ বলে ১৩ বাউন্ডারিতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। পরে তিনি দুরন্ত গতিতে দেড়শ অতিক্রম করেন।

 

শ্রীলংকার ২৮০ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৮৮ রানে অলআউট হয়ে যায়।