ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) আজ নিজেদের শেষ ম্যাচে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। এদিন তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়ের ব্যাটিং দাপটে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৭৮ রানে হারায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে আর আবাহনী ৬৩ রানে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে হারায়।
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সুপার লিগের শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে
বোলিং নেন রূপগঞ্জের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে যথার্থ
প্রমাণ করে পেসার আল আমিন হোসেন একাই গুঁড়িয়ে দেন শেখ জামালের ব্যাটিং লাইনআপ। ৮.৪
ওভারে ৩১ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাতে ৩৪.৪ ওভারে ১১৬ রানেই গুটিয়ে গেছে সদ্য
শিরোপাজয়ী শেখ জামাল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন অধিনায়ক ইমরুল কায়েস। জবাবে
২৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় রূপগঞ্জ। ওপেনার রাকিবুল হাসান
সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন। রূপগঞ্জের উইকেট দুটি নেন কাশ্মিরী স্পিনার পারভেজ রাসুল।
এ জয়ের পর ১৫ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থেকে মৌসুম শেষ করল
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। সমান ম্যাচে ১২ জয় ও তিন হারে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে আগেই ডিপিএলের
নিজেদের প্রথম শিরোপা নিশ্চিত করেছে শেখ জামাল।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে রান উত্সব করে লিগ শেষ করল প্রাইম ব্যাংক।
তামিমের ১৩২ বলে ১৩৭ ও এনামুল হকের ৮৫ বলে ৯৬ রানের দুটি রাজসিক ইনিংস প্রাইম
ব্যাংককে এনে দেয় ৩৫৫ রানের সৌধ। ওপেনিং জুটিতে ৩১.১ ওভারে দুজন তুলেছেন ২১৫ রান।
তামিম ১৩২ বলে ১৩ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান। আর এনামুল ৮ বাউন্ডারি ও ৩
ছক্কা হাঁকান। জবাবে গাজী গ্রুপ ৪৭.৫ ওভারে ২৭৭ রানে গুটিয়ে যায়। আল-আমিন ৯১ বলে ৮৭ ও এসএম মেহেরাব ৮৫ বলে
৭১ রান করেন।
বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্সকে ২৭৬ রানের টার্গেট ছুড়ে
দেয় আবাহনী। আফিফ হোসেন ৯১ বলে ৭৮ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪১ বলে ৬২ রান করেন।
জবাবে আরিফুল হকের ৯৫ রানের ঝড়ো ইনিংসের পরও মাত্র ২১২ রানে গুটিয়ে যায় গাজী
গ্রুপ। সাইফউদ্দিন ৩৮ রানে চারটি উইকেট নেন।
এবারের লিগে সর্বোচ্চ ২৯ উইকেট শিকার করেছেন প্রাইম ব্যাংকের রাকিবুল
হাসান, আর ১১৩৮ রান করে শীর্ষে এনামুল।
এবারের লিগে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনবদ্য পারফর্ম করেন এনামুল হক
বিজয়। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে আজ শেষ ম্যাচেও খেলেছেন ৮৫ বলে ৯৬ রানের
দারুণ এক ইনিংস। মৌসুম শেষে ১৫ ম্যাচ তার নামের পাশে ১ হাজার ১৩৮ রান, যা কিনা বিশ্বে লিস্ট-এ ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ!
মাইলফলকে পৌঁছতে তিনটি সেঞ্চুরি ও নয়টি হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ছিল
সর্বোচ্চ ১৮৫ রানের একটি ইনিংস।
বিজয় ডিপিএলে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙার পর প্রথমবারের মতো হাজার
রানের মাইলফলকে পৌঁছেন। পরে পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেল, লিস্ট-এ ক্রিকেটে শুধু বাংলাদেশ কেন, বিশ্বেই কারো এক হাজার রান করার নজির
নেই!
এতদিন লিস্ট-এ ক্রিকেটে এক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ
রান করার কীর্তি ছিল সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার টম মুডির। যিনি ১৯৯১ সালে
ইংল্যান্ডের সানডে লিগে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে ১৫ ম্যাচে করেছিলেন ৯১৭ রান। ১৯৯০ সালে
একই টুর্নামেন্টে সমারসেটের হয়ে জিমি কুক ১৬ ম্যাচে করেছিলেন ৯০২ রান।










