অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার পর বর্তমানে তাকে কৃত্রিম কোমায় (ইনডিউসড কোমা) রাখা হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এই তারকা ব্যাটার এখন ‘জীবনের কঠিনতম লড়াই’ লড়ছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন এএফএল খেলোয়াড় ব্র্যাড হার্ডি মার্টিনের শারীরিক অবস্থার কথা জানান। রেডিও স্টেশন ৬পিআর-কে তিনি বলেন, ‘তিনি (ডেমিয়েন মার্টিন) এখন জীবনের জন্য লড়াই করছেন। আসুন আমরা সবাই প্রার্থনা করি যেন তিনি এই বিপদ কাটিয়ে ফিরে আসতে পারেন, কারণ পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর।”
৫৪ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান বর্তমানে ‘জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই’ লড়ছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক এএফএল খেলোয়াড় ব্র্যাড হার্ডি। মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার রেডিও স্টেশন ৬পিআরকে তিনি বলেন, ‘আশা করি সে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, কারণ বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত গুরুতর।‘
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ ডিসেম্বর (বক্সিং ডে) হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে মার্টিনকে কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, তিনি মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত। উল্লেখ্য, মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের চারপাশের পর্দার একটি মারাত্মক প্রদাহ।
মার্টিনের অসুস্থতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রাক্তন সতীর্থ ড্যারেন লেম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্টিনকে শক্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট মার্টিনের পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তিনি বর্তমানে সেরা চিকিৎসা পাচ্ছেন। তার সঙ্গী আমান্ডা এবং পরিবারের সদস্যরা জানেন, প্রচুর মানুষ ড্যামিয়েনের জন্য প্রার্থনা করছেন।‘
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গও তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বলেছেন, ‘ড্যামিয়েনের অসুস্থতার কথা শুনে আমি অত্যন্ত মর্মাহত। এই কঠিন সময়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি সদস্য এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট ভক্তদের শুভকামনা তার সঙ্গে আছে।‘
ড্যামিয়েন মার্টিনকে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসের অন্যতম প্রতিভাধর ব্যাটার হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। ৪৬ দশমিক ৩৭ গড়ে তার সংগ্রহ ৪ হাজার ৪০৬ রান।
ক্রিকেট ইতিহাসে তার অন্যতম স্মরণীয় ইনিংসটি ছিল ২০০৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে ভাঙা আঙুল নিয়ে খেলেন ৮৮ রানের অপরাজিত এক ইনিংস, যা অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ২০০৬ সালের অ্যাশেজ সিরিজের মাঝামাঝি সময়ে তিনি আকস্মিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।










