অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে শুভসূচনা করল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। দুবাইয়ে গতকাল আফগানিস্তানকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে আজিজুল হাকিমের নেতৃত্বাধীন দল। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নামা আফগানরা ২৮৪ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশকে। সেঞ্চুরি করে আফগানদের ভালো সংগ্রহ গড়ে দেন ফসয়াল শিনোজাদা। পরে জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগের ফিফটিতে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ২৬.৪ ওভারে ১৫১ রান তুলে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন আবরার ও রিফাত। আবরার ১১২ বলে ৯৬ ও রিফাত ৬৮ বলে ৬২ রান করে আউট হয়ে গেলেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজরা। দলীয় ১৭০ রানের মধ্যে দুই ওপেনার সাজঘরে ফিরলে অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও কালাম সিদ্দিক ৭১ বলে ৬৬ রান যোগ করেন। কালাম ৩৬ বলে ২৯ ও আজিজুল ৪৮ বলে ৪৭ রান করে আউট হয়েছেন। দল তখন জয় থেকে ৩৫ রান দূরে, বল বাকি ছিল ৩৩টি।
দলীয় ২৪৯ রানে চতুর্থ উইকেট পতনের পর রিজান হোসেন ও মো. আব্দুল্লাহ ধীরে ধীরে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। যদিও রানআউটের শিকার হন আব্দুল্লাহ (২৬৩/৫)। একই ওভারে সামিউর বাশির রানআউট হলে জমে ওঠে লড়াই (২৬৪/৬)। যদিও বিপদ হয়নি। রিজান ও শেখ পারভেজ জীবন ১০ বলে ১৯ রান তুলে বিপদমুক্ত করেন দলকে। জয়সূচক রানটি তুলে নেয়ার মুহূর্তে জীবন আউট হয়ে গেলেও তিন বল পরে আসে কাঙ্ক্ষিত জয়। খাতির স্ট্যানিকজাই ও রুহুল্লাহ আরব দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ১৬ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর ওসমান সাদাতকে (৩৪) নিয়ে ৬৬ ও উজায়েরউল্লাহ নিয়াজাইকে (৪৪) নিয়ে ৯৩ রানের জুটি গড়েন শিনোজাদা। মাত্র ৯৪ বলে ১০৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে তিনি আউট হয়েছেন। তাকে সাজঘরে ফেরান পেসার ইকবাল হোসেন ইমন। এরপর দ্রুতই আফগানদের আরো তিনটি উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।
২২৫ রানে সপ্তম উইকেট পতনের পর আজিজুল্লাহ মিয়াখিল (৩৬ বলে ৩৮*) ও আব্দুল আজিজ (১৬ বলে ২৬*) মাত্র ২৮ বলে ৫৮ রানের জুটিতে আফগানদের রান ২৮৩-এ নিয়ে যান। এ দুজনই মেরেছেন পাঁচটি ছক্কা। তাদের দৃঢ়তায় শেষ ২ ওভারে এসেছে ২৯ রান। ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার হোসেন দুটি করে উইকেট নেন। পরে আবরার, রিফাত ও আজিজুলের দৃঢ়তায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের যুবারা।
গতকাল আরেক ম্যাচে নেপালকে ৮ উইকেটে হারায় শ্রীলংকা। আগামীকাল নেপালের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এদিকে আজ বেলা ১১টায় ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচ। আরেক ‘ছোট’ ম্যাচে মালয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে স্বাগতিক আরব আমিরাত।
দুবাইয়ে শুক্রবার উদ্বোধনী দিনেই দেখা যায় ব্যাটিং ঝড়। ভারতের বৈভব সূর্যবংশী ও পাকিস্তানের সামির মিনহাস চোখধাঁধানো দুই সেঞ্চুরি করেন। আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৯৫ বলে ১৪ ছক্কা ও ৯ চারে ১৭১ রান করেন বৈভব। শুধু বাউন্ডারি থেকেই তিনি নেন ১২০ রান। সূর্যবংশীর এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৪৩৩ রানের সৌধ গড়ে ভারত। জবাবে আরব আমিরাত ৭ উইকেটে ১৯৯ রান তুলতে সমর্থ হলে ২৩৪ রানের বিশাল জয় পায় ভারত।
এদিন অভিষেক স্মরণীয় করে রাখেন পাকিস্তানের সামির মিনহাস। ১৪৮ বলে ১৭৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন তিনি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে তার ইনিংসটি গড়া ১১ চার ও ৮ ছক্কায়। যুব ওয়ানডেতে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও এটিই। সামির পেছনে ফেলে দেন গত বছর একই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিপক্ষে শাহজাইব খানের ১৫৯ রানের ইনিংসকে।
সামিরের দৃঢ়তায় ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ৩৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। পরে বোলারদের সম্মিলিত অবদানে মালয়েশিয়াকে ৪৮ রানে গুটিয়ে ২৯৭ রানের বিশাল জয় পায় তারা।
দ্বাদশ এশিয়া কাপে খেলছে আটটি দেশ। ‘এ’ গ্রুপে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও আরব আমিরাত এবং ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও নেপাল লড়ছে। এশিয়া কাপে ভারত আটবার, বাংলাদেশ দুবার ও আফগানিস্তান একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।










