এবারের ঘটনাবহুল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে রাউন্ড রবিন লিগ
পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফর্ম করে জাতীয় দলে ফেরার দাবি জোরালো করে তুলেছেন নাঈম
ইসলাম ও এনামুল হক বিজয়। রান চার্টে দুজন আছেন যথাক্রমে এক ও দুই নম্বরে। দুজনের
মধ্যে রানের ব্যবধানও সামান্য।
১০ ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে ৮৩.২২ গড়ে সর্বোচ্চ ৭৪৯ রান করেছেন নাঈম। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে টেনে নিচ্ছেন তিনি। রূপগঞ্জ ১০ ম্যাচের সাতটিতে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে চারটিতেই ম্যাচসেরা হয়েছেন নাঈম।
নাঈমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছেন প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের এনামুল
হক বিজয়। দুই সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে ১০ ম্যাচে ৭২.৮০ গড়ে তিনি করেছেন ৭২৮ রান।
বিজয়ই ছিলেন চার্টের শীর্ষে, শেষ ম্যাচে মোহামেডানের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করে তাকে টপকে যান নাঈম।
বিজয়ের দাপটে শুরু থেকে বেশ কয়েক রাউন্ড পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকই ছিল পয়েন্ট
টেবিলের শীর্ষে। যদিও শেষ দিকে এসে কয়েকটি হারে তারা চার নম্বরে নেমে যায়।
২০১৪ সালের পর জাতীয় দলের বাইরে নাঈম। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক
পারফর্ম করেও জাতীয় দলের টিকিট কিছুতেই মিলছিল না। তাই এবারের ডিপিএলকে নেন বিশেষ
গুরুত্বসহকারে। ফলও পাচ্ছেন। ৯১, ৯৫ ও ৯১ রানের তিনটি ইনিংস দিয়ে শুরু। নার্ভাস নাইনটিজে আউট হয়েও হতাশ
হননি, বরং নিজেকে আরো শানিত করেছেন। এরপরই
আবাহনীর বিপক্ষে ১২৪ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস, আর রূপগঞ্জ টাইগার্সের বিপক্ষে খেলেন ১১৪ রানের হার না মানা ইনিংস।
এই দুজন যেভাবে ছুটছেন তাতে সুপার সিক্স পর্বে তারা হাজার রানের
মাইলফলকেও পৌঁছে যেতে পারেন। উল্লেখ্য, লিস্ট-এ মর্যাদার ডিপিএলে কারোরই এক মৌসুমে
হাজার রান নেই। ১৯৮৭ সালে আবাহনী অধিনায়ক গাজী আশরাফ লিপু ও ২০০১ সালে মোহামেডানে
খেলা কেনিয়ার স্টিভ টিকোলো ডিপিএলে এক হাজার রান করেছিলেন, যদিও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ তখন লিস্ট-এ মর্যাদায় উন্নীত হয়নি বলে আইসিসির
স্বীকৃতিও পায়নি।
এক হাজার রান না হলেও লিস্ট-এ মর্যাদায় আসার পর ডিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটা নাঈম ও
বিজয়ের হাতের নাগালেই। ২০১৮-১৯ মৌসুমে প্রাইম দোলেশ্বরের ওপেনার সাইফ হাসান
করেছিলেন ৮১৪ রান।
দুজনের জন্য জাতীয় দলের দরজাও কড়া নাড়ছে। নাঈমের মতো বিজয়ও দীর্ঘদিন
জাতীয় দলের বাইরে। তিনি সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ওয়ানডে খেলেছেন শ্রীলংকার
মাঠে। আর টেস্ট খেলেছেন সর্বশেষ ২০১৪ সালে ও সর্বশেষ টি২০ খেলেছেন ২০১৫ সালে।
জাতীয় দলে ব্রাত্য নাঈম ডিপিএলে ভালো করার রহস্য নিয়ে বলেন, আমি নিজেকে সব সময় ছাড়িয়ে যেতে চাই।
আমি জাতীয় দলে নেই,
কিন্তু ওই
জায়গায়টা যাওয়ার জন্য কী করছি, এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ওখানে যদি কেউ একটা সেঞ্চুরি করে, তবে এখানে দু-তিনটা সেঞ্চুরি করলেই আমার সাথে তার
কম্পিটিশন হবে। আমি যেখানে আছি সেখানে সবার থেকে সেরাটা করছি কিনা। জাতীয় দলে যেতে
আমাকে শতভাগ দিতে হবে,
জায়গা ধরে
রাখতেও আমাকে শতভাগ দিতে হবে। আমি অনেক বড় প্লেয়ার হলেও আমাকে শতভাগ দিতে হবে।
শতভাগের বিকল্প ৯০ ভাগ দেয়ারও সুযোগ নেই।
এদিকে,
রান চার্টে
নাঈম ও বিজয়ের ধারেকাছেও নেই কেউ। ৪৮৭ রান নিয়ে তৃতীয় রূপগঞ্জ টাইগার্সের জাকির
হাসান। এরপর আবাহনীর মোসাদ্দেক হোসেন (৪৭৭),
খেলাঘরের অমিত
হাসান (৪৬৫), লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের চিরাগ জনি (৪৩৫), গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের মেহেদী
মারুফ (৪৩১), শাইনপুকুরের সিকান্দার রাজা (৪২৫) ও শেখ জামালের সাইফ হাসান (৪১০)।
এদিকে,
এবারের ডিপিএলে
রাউন্ড রবিন পর্বে উইকেট শিকারে সবার শীর্ষে ভারতের কাশ্মীরের অলরাউন্ডার পারভেজ
রসুল। প্রথম পর্বে ১৩.২৫ গড়ে ২০ উইকেট নিয়ে শেখ জামালের এই স্পিনার সবার শীর্ষে।
২২.৩৬ গড়ে ১৯ উইকেট নিয়ে দুইয়ে তরুণ বামহাতি স্পিনার রকিবুল হাসান। রূপগঞ্জের
মিডিয়াম পেসার চিরাগ জনি ১৮ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে করেছেন ৪৩৫ রান।
এছাড়া নাজমুল ইসলাম,
কাজী অনিক ও
মাসুম খান প্রত্যেকেই নিয়েছেন ১৭ উইকেট।
সুপার লিগে খেলবে যারা:
শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড,
লিজেন্ডস অব
রূপগঞ্জ, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব ও
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।
রেলিগেশন লিগে খেলবে যারা:
ব্রাদার্স ইউনিয়ন, সিটি ক্লাব ও খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি।










