নকআউট পর্বে মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনোর
হাতে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ২০১০ সালের ট্রফি জয়ী স্পেন। টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের
দুই ফুটবলারের শট বাঁচিয়ে দেন তিনি। মজার বিষয় হলো, বোনো স্পেনের ক্লাবে খেলেই নিজেকে
পোক্ত করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে
আল রাইয়ানের এডুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে জিব্রাল্টার প্রণালির দুই পারের দেশ দুটির লড়াই
দারুণ জমে ওঠে। ১২০ মিনিটের দীর্ঘ লড়াই গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৩-০ গোলের ব্যবধানে
জয়লাভ করে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে টিকে থাকা একমাত্র দেশটি। স্পেন তাদের তিন শটের একটিও
গোল করতে পারেনি। মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনো দুটি শট সেভ করেন। এরপর পিএসজি তারকা
আচরাফ হাকিমি পানেনকা শটে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন।
পরিবার মরক্কোর হলেও বোনোর জন্ম কানাডার মন্ট্রিয়লে।
পরে ওয়াইদাদ কাসাব্লাঙ্কার হয়ে যুব ফুটবলে খেলা শুরু করেন তিনি। সিনিয়র দলে অভিষেক
হয় ২০১১ সালে।
এক বছর কাসাব্লাঙ্কায় কাটিয়েই ইয়াসিন বোনো
পাড়ি দেন স্পেনে। যোগ দেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। প্রথমে তিনি রিজার্ভ দলে ছিলেন। এরপর
মূল দলের তৃতীয় গোলকিপার হিসেবে জায়গা পান। চার বছরের চুক্তি করেন আতলেতিকোর সঙ্গে।
২০১৪ সালে আতলেতিকো ছাড়েন দুই গোলকিপার থিবো
কুর্তোয়া এবং ড্যানিয়েল আরানজুবিয়া। এ সুযোগে প্রথম গোলকিপার হিসেবে ওই বছর অভিষেক
হয় বোনোর। প্রাক মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে ১-০ জেতে আতলেতিকো। সেপ্টেম্বরেই বোনোকে লোনে
পাঠিয়ে দেওয়া হয় লা লিগার আরেক ক্লাব রিয়াল জারাগোজ়াতে। সেখানেও প্রথম গোলকিপার হিসেবে
শুরুতে সুযোগ পাননি। ২০১৫ সালে জানুয়ারিতে অবশেষে অভিষেক হয়। সেই মরসুমে ১৬টি ম্যাচে
খেলেন তিনি।
অবশ্য পেনাল্টি বাঁচানোয় এই প্রথম নয়, দীর্ঘদিন
ধরেই সুখ্যাতি রয়েছে মরক্কোর এই গোলকিপারের। ফুটবলজীবনে এখনো পর্যন্ত ৫০টি পেনাল্টির
সামনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। বাঁচিয়েছেন ১৩টি, অর্থাৎ ২৬ শতাংশ ক্ষেত্রে তিনি পেনাল্টি
ব্যর্থ করে দিয়েছেন। আর গতকাল মঙ্গলবার রাতে তো রীতিমতো ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন।










