ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন ৩৭ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার ভাবনায় এখন শুধুই পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করা। কিন্তু এর মধ্যেও ক্লাব ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন থেমে নেই।
টিভিতে বিতর্কিত এক সাক্ষাত্কারে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ, মালিক, কর্মকর্তা ও সাবেক খেলোয়াড়দের সমালোচনা করায় কাতারে বিশ্বকাপ চলাকালীন গত ২২ নভেম্বর তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে ইংলিশ ক্লাবটি। সেই থেকে তিনি একজন ‘ফ্রি এজেন্ট’। পাঁচবার ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারের এ মুহূর্তে কোনো ক্লাব নেই! ওইদিন থেকেই প্রশ্ন উঠছে, কোথায় যাবেন তিনি।
ক্লাবের এ অনিশ্চয়তা অবশ্য বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেনি। টানা দুই জয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলে রোনালদোর দল। এরই মধ্যে জানা গিয়েছে পর্তুগাল ফরোয়ার্ডকে এক লোভনীয় প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসর। তবে রোনালদোর সিদ্ধান্ত জানতে অপেক্ষা করতে হবে বিশ্বকাপের আসর শেষ হওয়া পর্যন্ত।
ইএসপিএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের আল নাসর ফুটবল ক্লাব রোনালদোকে বার্ষিক ১১৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ হাজার ২১২ কোটি টাকা) বেতনে সাড়ে ৩ বছরের জন্য দলে ভেড়াতে চায়। এ প্রস্তাবে রাজি হলে রোনালদোই হবেন বিশ্বের শীর্ষ পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার। বর্তমানে প্যারিস সেন্ট জার্মেই থেকে বছরে ১১০ মিলিয়ন ডলার পান কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ম্যানইউতে বছরে ৪০ মিলিয়ন ডলার পেতেন রোনালদো। আর মাঠের বাইরে থেকে তিনি আয় করেন আরো প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। তার পার্টনারশিপ রয়েছে নাইকি, হারবালাইফসহ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে। ম্যানইউর সঙ্গে চুক্তি বাতিল হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ আয়কারী ফুটবলার।
আল নাসরের সঙ্গে চুক্তি করলে লিওনেল মেসির বার্ষিক মোট আয়ের (১২০ মিলিয়ন ডলার) সমান শুধু বেতনই পাবেন রোনালদো। অবশ্য আল নাসরের ১১৯ মিলিয়ন ডলারের পারিশ্রমিকের মধ্যে কিছু স্পন্সরশিপ চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকছে।
সূত্রগুলো ইএসপিএনকে আরো জানিয়েছে, আল নাসর ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ চুক্তির অংশ হিসেবে ম্যান ইউনাইটেডে শেষ ছয় মাসে রোনালদো যে বেতন পেতেন সে পরিমাণ অর্থ তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতেও ইচ্ছুক। যার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
ফুটবলের পোস্টার বয়, চলতি বিশ্বকাপে গোল করার মধ্য দিয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করার এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। বয়সের হিসেবে ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ৩৮ বছর পূর্ণ করবেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে কাতারে অবস্থানকালীন ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রতিনিধিদের বাইরে আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন। তবে গোপন এক সূত্র ইএসপিএনকে জানিয়েছে, রোনালদোর আল নাসর ক্লাবে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ব্রিটিশ টেলিভিশন উপস্থাপক পিয়ার্স মরগানের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানেজার এরিক টেন হ্যাগকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন রোনালদো। পাশাপাশি ক্লাবের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা, সাবেক খেলোয়াড় ওয়েন রুনিরও সমালোচনা করেন তিনি। এরই জের ধরে ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্কে ভাটা পড়ে পর্তুগাল অধিনায়কের। এরপর পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে কোনো পাওনা ছাড়াই ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ত্যাগ করেন সিআর সেভেন।
এদিকে সৌদি ক্লাবটি আশা নিয়ে বসে আছে। তারা রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফুটবলারকে পেতে কিছুটা বাড়তি প্রচেষ্টা চালাবে এটাই স্বাভাবিক। কেননা দেশটির ঘরোয়া লিগে রোনালদোর উপস্থিতি ২০৩০ সালের ২৪তম ফিফা বিশ্বকাপে সৌদি আরবের আয়োজক হওয়ার প্রচেষ্টাকে জোরালো করতে পারে। সেক্ষেত্রে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস ফরোয়ার্ড দেশটির অ্যাম্বাসেডর হিসেবেই কাজ করবেন, বলা চলে।
রোনালদো অবশ্য এখনো ইউরোপিয়ান ফুটবলে থাকতেই বেশি আগ্রহী। তবে ভবিষ্যৎ গন্তব্যের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কোন ক্লাবগুলো তাকে দলে টানতে আগ্রহী, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে অবশ্যই অপেক্ষা করবেন।
অনেকের ধারণা, সৌদি আরবের পেশাদার লিগ আসলে ‘অবসরপ্রাপ্তদের লিগ’, কেননা
সেখানে এমন সব খেলোয়াড় নাম লেখান যাদের কিনা ইউরোপিয়ান ফুটবলে সময় ফুরিয়ে গিয়েছে। অবশ্য গত লিগে তৃতীয় হওয়া আল নাসরে খুব বেশি বয়স্ক খেলোয়াড় নেই। তাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় ব্রাজিলের ৩৫ বছর বয়সী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার লুইজ গুস্তাভো। এছাড়া গঞ্জালো মার্টিনেজ ও তালিসকার মতো ত্রিশ ছুঁই ছুঁই বিদেশী খেলোয়াড় রয়েছেন দলটির তাঁবুতে।
সূত্র: ইএসপিএন ও ফোর্বস










