ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে আঙুলের চোটে পড়েন ভারতীয় দলনায়ক রোহিত শর্মা। সেই চোটের কারণে চট্টগ্রামে গতকাল তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে সুযোগ পান ২৪ বছর বয়সী বামহাতি ব্যাটার ইশান কিশান। অপ্রত্যাশিতভাবে ভারতীয় দলে সুযোগ পেয়েই রেকর্ড বুক তছনছ করে দিলেন তিনি। গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ১৩১ বলে ২১০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ওয়ানডে ক্রিকেটে অসংখ্য রেকর্ডের জন্ম দিয়েছেন দশম ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটার। তিনি করেছেন দ্রুততম ও কনিষ্ঠতম ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড। ওয়ানডেতে তার আগে আরো আটটি ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি থাকলেও এর চেয়ে কম বলে কেউ ২০০ ছুঁতে পারেননি। এদিন ৪৪তম ওয়ানডে ও সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ৭২তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেও কিশান আলোর নিচে ঢাকা পড়েন বিরাট কোহলি।
শুরুতে অতটা বিস্ফোরক ছিলেন না ইশান, তিনি ৫০ রান করেন ৪৯ বলে। এরপরই অগ্নিমূর্তি ধারণ করে ১২৬ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন, যা ওয়ানডের দ্রুততম। এর আগের দ্রুততম ডাবল করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ গ্রেট ক্রিস গেইল। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন ব্যাটিং সুপারস্টার গেইল। নারীদের ক্রিকেটে ১৩৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির কীর্তি আছে অস্ট্রেলিয়ার অ্যামেলিয়া কেরের।
বিস্ময়কর হলেও সত্য, ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবলে রূপ দেন ইশান, যা আগে কেউ পারেননি। আগের সর্বোচ্চ ‘প্রথম’
সেঞ্চুরি ছিল জিম্বাবুয়ের চার্লস কভেন্ট্রির। ২০০৯ সালে বুলাওয়েতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৯৪ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
পুরুষদের ক্রিকেটের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন ইশান। গতকাল ডাবল সেঞ্চুরি করার দিন তার সময় ছিল ২৪ বছর ১৪৫ দিন। তার আগে সবচেয়ে কম বয়সে ডাবল করেছিলেন রোহিত শর্মা। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৬ বছর ১৮৬ দিন বয়সে ডাবল করেছিলেন তিনি।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন ইশান। এর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৯৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন চার্লস কভেন্ট্রি। বাংলাদেশের মাটিতেও এটি সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর। ২০১১ সালে ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৮৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান শেন ওয়াটসন।
গতকাল ইনিংসে ৩৫তম ওভারে শেষ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইশান। এটিও নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ৪৩.৩ ওভারের। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৩.৩ ওভারের সময় ডাবল পূর্ণ করেছিলেন শেবাগ।
২১০ রানের মধ্যে ১৫৬ রানই বাউন্ডারির সাহায্যে করেছেন ইশান। ওয়ানডেতে বাউন্ডারির সাহায্যে তার চেয়ে বেশি রান করেছেন শুধু দুজন—২০১৪ সালে শ্রীলংকার বিপক্ষে রোহিত শর্মা করেছিলেন ১৮৬ ও ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মার্টিন গাপটিল করেছিলেন ১৬২ রান।
ইশান ১৫০ রান তুলেছেন ১০৩ বলে, যা ওয়ানডেতে ভারতের দ্রুততম। ২০১১ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের বীরেন্দর শেবাগ ১৫০ রান করেছিলেন ১১২ বলে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি গড়েছেন ইশান ও কোহলি। দ্বিতীয় উইকেটে তারা দুজন যোগ করেন ২৯০ রান। আগের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান হাশিম আমলা ও কুইন্টন ডি ককের। ২০১৭ সালে ওপেনিং জুটিতে ২৮২ রানে অবিচ্ছিন্ন ছিলেন তারা।
কিশানের জাদুকরী দিনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮ উইকেটে ৪০৯ রান তুলেছে ভারত। এটি বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং প্রথম চারশোর্ধ্ব সংগ্রহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০১৯ সালে আগের সর্বোচ্চ ৩৯১ রান করেছিল ইংল্যান্ড। এছাড়া ২০১১ সালে বাংলাদেশের মাটিতে আগের সর্বোচ্চ ৩৭০ রান তুলেছিল ভারত।










