এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ সামনে রেখে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ইনডোর ও একাডেমি ভবনে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের সদস্যদের। ধাপে ধাপে চলছে ইয়ো ইয়ো টেস্ট ও ফিটনেস টেস্ট।
জাতীয় দলের এ কন্ডিশনিং ও ফিটনেস ক্যাম্পে অবশ্য নেই সাকিব আল হাসান, তৌহিদ হৃদয় ও লিটন দাস। এ তিন তারকা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিদেশী টি২০ লিগ নিয়ে। সাকিব ও তৌহিদ হৃদয় খেলছেন লংকা প্রিমিয়ার লিগে আর লিটন খেলছেন কানাডার গ্লোবাল টি২০ লিগে। লিটনের দল ফাইনালে উঠেছে, আজই এ টি২০ লিগের শিরোপার নিষ্পত্তি। এদিকে, লংকা প্রিমিয়ার লিগ মাতাচ্ছেন সাকিব ও তৌহিদ। ব্যাট হাতে সবচেয়ে আলো ছড়াচ্ছেন তরুণ ক্রিকেটার তৌহিদ।
সারে জাগুয়ার্সের হয়ে ছয়টি ম্যাচ খেলেছেন লিটন, একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। ছয় ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ৯, ২১, ২৫, ৫৯, ১০ ও ১৬ রান। ক্যাচ ও স্টাম্পিং মিলিয়ে ডিসমিসাল করেছেন চারটি। ৬ ইনিংসে ২৩.৩৩ গড়ে ও ১০১.৪৪ স্ট্রাইকরেটে তিনি করেছেন ১৪০ রান। ফিফটি করেছেন একটি। ৮টি বাউন্ডারি ও ৭টি ছক্কা মেরেছেন এ ডানহাতি ব্যাটার। ১ আগস্ট ব্রাম্পটন উলভসের বিপক্ষে ৪৫ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলে হয়েছেন ম্যাচসেরা। সারে জাগুয়ার্সে রান করায় তিনি দুইয়ে। ৬ ইনিংসে ১৭৫ রান করে ১ নম্বরে পাকিস্তানি ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ। আর ২১২ রান করে এ লিগে টপ স্কোরার নিউজিল্যান্ডের কলিন মুনরো।
সাকিব গ্লোবাল টি২০ লিগে চার ম্যাচ খেলে যোগ দেন লংকা প্রিমিয়ার লিগে। ১৫৪.৫৪ স্ট্রাইকরেটে ১০২ রান করেন তিনি। ওই চার ম্যাচে তিনি পাঁচ উইকেট শিকার করেন।
কানাডায় লিগ অসমাপ্ত রেখে শ্রীলংকায় উড়াল দেন সাকিব। এ লিগেও তিনি উজ্জ্বল। তিন ম্যাচ খেলে ৫৯ রান করার পাশাপাশি উইকেট নিয়েছেন পাঁচটি। প্রথম ম্যাচে ডাম্বুলা অরার বিপক্ষে ১৪ বলে ২৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নেন এক উইকেট। দ্বিতীয় ম্যাচে ৩০ রান করার পাশাপাশি উইকেট নেন দুটি। ৪ আগস্ট তৃতীয় ম্যাচে ব্যাট হাতে মাত্র ছয় রান করলেও বল হাতে নেন দুই উইকেট।
বিদেশী লিগে খেলতে গিয়ে প্রথম আসরেই ব্যাট হাতে বাংলাদেশীদের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিকতা দেখালেন তৌহিদ হৃদয়। জাতীয় দলের হয়ে ফর্মটা তিনি টেনে নেন বিদেশী লিগেও। লংকা দ্বীপে তিন ম্যাচ খেলে করেন ১২২ রান। প্রথম ম্যাচেই কলম্বো স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৫৪ রান করেন ৩৯ বলের মোকাবেলায়। ওই ম্যাচে তার দল ২১ রানের জয় তুলে নেয়। এরপর ডাম্বুলার বিপক্ষে করেন ২০ বলে ২৪ রান। সর্বশেষ ৪ আগস্ট সাকিবের দলকে হারানোয় বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১১৭ রান তোলে গল। জবাব দিতে নেমে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৩৯ বলে ৫৪) ও তৌহিদের ব্যাটে (২৩ বলে ৪৪) ভর করে ৪৪ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে জাফনা কিংস।
গতকাল রাত ৮টায় বি-লাভ ক্যান্ডির মুখোমুখি হয় তৌহিদ হৃদয়ের জাফনা কিংস। সাকিবের গল টাইটানসের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার ক্যান্ডির বিপক্ষে।
বাংলাদেশের আরো দুই ক্রিকেটার গেছেন লংকা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। তারা হলেন পেসার শরিফুল ইসলাম ও উইকেট কিপার ব্যাটার মোহাম্মদ মিঠুন। শরিফুল কলম্বো স্ট্রাইকার্সে ও মিঠুন গল টাইটানসে খেলার আমন্ত্রণ পেয়ে যোগ দিয়েছেন নিজ নিজ দলে। যদিও এখনো কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি এ দুজনের। এছাড়া তাসকিন আহমেদও ডাক পেয়েছিলেন। যদিও এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাকে ছাড়পত্র দেয়নি বিসিবি। তিনি সদ্যই খেলে এসেছেন প্রথম জিম আফ্রো টি-টেন লিগ। সেখানে নেন ১১ উইকেট। মুশফিকুর রহমান খেললেও ভালো করতে পারেননি।










