ডারবান টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার ছুড়ে দেয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৩ রানে অলআউট বাংলাদেশ, হার ২২০ রানের বিশাল ব্যবধানে। আজ পঞ্চম ও শেষ দিন ৩ উইকেটে ১১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারে অলআউট হয়ে যায়।
বামহাতি অর্থোডক্স স্পিনার কেশভ মহারাজ প্রায় একাই ধ্বংস করেন বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইনআপ। ৩২ রানে ৭ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন সাইমন হারমার। তিনি ১৮ রানে নেন তিনটি উইকেট। হারমার প্রথম ইনিংসেও নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। এমনকি দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের খেলা পুরো ১৯ ওভার করেছেন এ দুজন! আর কোনো বোলারদের ব্যবহারের প্রয়োজনই পড়েনি স্বাগতিকদের।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের পর কোনো টেস্ট ইনিংসে এই প্রথম ১০ উইকেট নিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা। এর আগে ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ও ১৯৫০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ডারবানেই ইনিংসে ১০ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন প্রোটিয়া স্পিনাররা।
১১/৩ স্কোর নিয়ে সকালে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দলীয় স্কোর ৩৩ রান হতেই আরো ৪টি উইকেট হারায়। নাজমুল হোসেন শান্ত (২৬) ও তাসকিন আহমেদের (১৪) ব্যাটে ভর করে পঞ্চাশ পেরোয় বাংলাদেশ। যদিও তাতে বড় লজ্জা এড়ানো যায়নি।
শেষ দিন এক ঘণ্টাও টিকতে পারেনি বাংলাদেশ। মাত্র ৫৫ মিনিটের মধ্যে বাকি ৭ উইকেট হারায় সফরকারীরা।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকা সংগ্রহ ৩৬৭ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে ২৯৮ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে প্রোটিয়াদের ২০৪ রানে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। তাতে ২৭৪ রানের টার্গেট পায় অতিথি দলটি। যদিও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে এই টার্গেটই হয়ে ওঠে পাহাড়সম।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে উজ্জীবিত বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজেও ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখা শুরু করে। চতুর্থ দিন পর্যন্ত সমানে সমান লড়ে সেই সম্ভাবনা টিকিয়েও রাখেন টাইগাররা। যদিও পঞ্চম ও শেষ দিন মহারাজের জাদুকরি ঘূর্ণি বলের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন মুশফিক, লিটনরা।
পোর্ট এলিজাবেথে ৭ এপ্রিল শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।










