বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার টেস্ট দ্বৈরথ মানেই সিংহলিজদের দৌরাত্ম্য। এখন পর্যন্ত খেলা টেস্ট সিরিজগুলো বড্ড একপেশে করে জিতেছে দ্বীপদেশটি। ১৫ মে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে দুই টেস্টের সিরিজ। এবারো কি লংকান আধিপত্য, নাকি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজে লড়াই গড়ে তুলতে সমর্থ হবে বাংলাদেশ?
ঈদের ছুটি কাটিয়ে গতকালই ঢাকায় ফেরার কথা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। কোচিং স্টাফের সদস্যরাও এরই মধ্যে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। ক্রিকেট দল আজ চট্টগ্রাম যাবে, কাল শুরু করবে অনুশীলন। অন্যদিকে, লংকানরা আজ দুপুরে ঢাকায় পৌঁছবে। বিকেএসপিতে অনুশীলন ম্যাচ খেলে তারা যাবে চট্টগ্রামে। ১৫ মে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টে লড়বে দুই দল। ২৩ মে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
এ মুহূর্তে ৯ দলের আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ র্যাংকিংয়ে শ্রীলংকা রয়েছে ৫ নম্বরে। ৪ ম্যাচ খেলে ২টি জিতেছে, ২টিতে হেরেছে সিংহলিজরা। সব মিলিয়ে, তাদের ঝুলিতে ২৪ পয়েন্ট জমা পড়েছে। ৮ নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ৬ ম্যাচ থেকে তাদের সংগ্রহ ১২ পয়েন্ট, জয় মাত্র একটি। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট দল ইংল্যান্ড ১৩ ম্যাচে মাত্র একটিতে জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে। ইংলিশদের সঙ্গে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে নিতে চাইলে হোম সিরিজে শ্রীলংকার বিপক্ষে জিততে হবে মুমিনুল হকের দলকে। যদিও এজন্য গড়তে হবে ইতিহাস। লংকানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাস বড় হতাশাজনক।
২০০১ সালে লংগার ভার্সনের ক্রিকেটে প্রথম দেখা হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দ্বৈরথগুলো ছিল একমুখী ট্রাফিকের মতো! ২২টি লড়াইয়ে শ্রীলংকার ১৭ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় যে মাত্রই একটি।
টেস্ট দ্বৈরথে বাংলাদেশের জন্য ত্রাস ছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। ১৩৩ টেস্টে ৮০০ উইকেট শিকারি এই ঘূর্ণি জাদুকর বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১ টেস্টে ১১ বার নিয়েছেন ৫ উইকেট! আর ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন মোট চারবার। বিশ্বের প্রতিটি দলের বিপক্ষেই ঈর্ষণীয় উইকেট শিকার করেছেন মুরালি। তবে উইকেট গড়ের হিসেবে বাংলাদেশই ছিল তার শিকারের তালিকায় শীর্ষে। টাইগারদের বিপক্ষে ১৩.৩৭ গড়ে তিনি নিয়েছেন ৮৯ উইকেট।
এই দুই দেশের টেস্ট দ্বৈরথে রান তোলায় একচ্ছত্র আধিপত্য করে গেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। এমনকি তার রেকর্ড বহুদিন অক্ষত থাকবে বলেই ধারণা করা হয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে ২১ ইনিংসে তিনি করেছেন ১৮১৬ রান। ১১৪৬ রান নিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে আরেক লংকান গ্রেট মাহেলা জয়াবর্ধনে। তিনি রান তুলেছেন ঈর্ষণীয় ৯৫.৫৭ গড় আর ৬০-এর মতো স্ট্রাইক রেটে!
এই দুই দেশের টেস্ট দ্বৈরথে মোট ডাবল সেঞ্চুরি হয়েছে আটটি, যার মধ্যে তিনটিই করেছেন বামহাতি ব্যাটার সাঙ্গাকারা। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে করা তার ৩১৯ রানের ইনিংস দুই দলের মধ্যে সর্বোচ্চ এবং তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোরও।
২০০১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ১২ বারের মুখোমুখিতে প্রতিবারই জিতেছে শ্রীলংকা। কিন্তু এরপর ধীরে ধীরে লংকানদের বিপক্ষে পারফরম্যান্সে উন্নতি করে টাইগাররা। যদিও ২০১৩ সালের পর থেকেও মুখোমুখি দ্বৈরথের রেকর্ডটা লংকানদেরই পক্ষে। সেই থেকে ১০ টেস্টের লড়াইয়ে অর্ধেক জিতেছে লংকানরা, বাংলাদেশ একমাত্র জয়টি তুলে নেয় ২০১৭ সালে। আর মাঝের এ সময় চারটি টেস্ট ড্র হয়।
২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠেও ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছিল। যদিও ওয়ানডে সিরিজটা জিতলেও টেস্টে ধরাশায়ী হয় মুমিনুল হকের দল। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজে স্বাগতিকরা ফেভারিট নয়। তবু ক্রমান্নতি স্বপ্ন দেখাচ্ছে বাংলাদেশকে।
হোম সিরিজের আগে ব্যাটিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে ৫৪ ও পোর্ট এলিজাবেথে ৮০ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জায় পড়ে মুমিনুলের দল। সম্প্রতি দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেয়া সাবেক হেড কোচ জেমি সিডন্স বাংলাদেশের ব্যাটারদের আরো ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, টেস্টে আমাদের লম্বা সময় ব্যাটিং করা শিখতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা ৩০-৪০-৫০ করে আউট হয়েছি। এটা মনোযোগের অভাবে হয়। টেস্টে আরো লম্বা সময় ব্যাটিং করতে হয়। ইনিংসগুলোকে আরো বড় ইনিংসে পরিণত করতে হবে। টেস্ট জিততে হলে আমাদের এটা করতেই হবে।










