অতীতের মতোই আয়োজনে নানা ঘাটতি-দুর্বলতা আর বিতর্ককে সঙ্গী করেই যাত্রা করল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নবম আসর। এরই মধ্যে শুক্র ও শনিবার চারটি ম্যাচ মাঠে গড়িয়েছেও। তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে মাঠের বাইরের ঘটনা দিয়েই বরং বিপিএল বেশি আলোচিত-সমালোচিত। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়।

বিপিএলের যে বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা, তা হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানায় ঘন ঘন বদল। বিস্ময়কর হলেও সত্য, বিপিএলের ৯ মৌসুমে এখন পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এসেছেন ২৭ জন! এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে সিলেটের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। সিলেটে ভিন্ন ভিন্ন ছয়জন মালিক হয়েছেন। এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন নামের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে মালিক ছিলেন মোট পাঁচজন। ঢাকা ও সিলেট উভয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে এবার নতুন মালিক।

সবচেয়ে টেকসই কুমিল্লার মালিকানা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামাল এর মালিক। তারা ২০১৫ সাল থেকে বিপিএলের সঙ্গে এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। যদিও চুক্তির শর্ত নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় মাঝে এক মৌসুম তাদের বাদ দেয় বিসিবি। ২০১৯ সাল থেকে রাজশাহীর কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নেই।

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (আখতার গ্রুপ): চট্টগ্রাম কিংস, চট্টগ্রাম ভাইকিংস নামে প্রথম ছয় আসর খেলার পর ২০১৯-২০ মৌসুমে আখতার গ্রুপ চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পেয়ে এর নাম রাখে ‘চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স’। করোনার কারণে এক বছর বিরতি দিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ফের অনুষ্ঠিত হয় বিপিএলের অষ্টম আসর। এবার আখতার গ্রুপের সঙ্গে যোগ দেয় ডেলটা স্পোর্টস।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস (কুমিল্লা লিজেন্ডস লিমিটেড): বিপিএলের অন্যতম সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। তারা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন। ২০১৯ সালে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে বিসিবি দলটি পরিচালনা করে এবং তখন এর নাম রাখা হয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। ২০২১-২২ মৌসুমে এটি পুরনো মালিকের অধীনে ফিরে আসে।

ঢাকা ডমিনেটর্স (রুপা ফ্যাব্রিকস লিমিটেড): ২০১২ সালে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স নামে ঢাকার ফ্র্যাঞ্চাইজির যাত্রা এবং বিপিএলের প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন তারা। এরপর বেক্সিমকো গ্রুপের কাছে মালিকানা বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর এর নামকরণ হয় ঢাকা ডায়নামাইটস। ২০১৯ সালে যমুনা ব্যাংক ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনে নাম দেয় ঢাকা প্লাটুন। ২০২১-২২ মৌসুম সামনে রেখে নতুন মালিকের অধীনে এর নামকরণ হয় মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রগতি গ্রিন অটো রাইস মিলস ঢাকার মালিকানা পেলেও আর্থিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তারা মালিকানা হারায়। পরে নভেম্বর মাসে রুপা ফ্যাব্রিকস লিমিটেড মালিকানা পায় এবং নামকরণ হয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স। 

ফরচুন বরিশাল (ফরচুন গ্রুপ): ২০১২ সালে বরিশাল বার্নার্স নামে যাত্রা করে বরিশালের ফ্র্যাঞ্চাইজি। দ্বিতীয় আসরের পর যে কটি দল বিলুপ্ত হয় তাদের অন্যতম বার্নার্স। ২০১৫ সালে অ্যাক্সিওম টেকনোলজিসের অধীনে এর নামকরণ হয় বরিশাল বুলস। পঞ্চম বিপিএল থেকে দলটি বহিষ্কৃত হয় এবং ২০২১-২২ মৌসুমে নতুন মালিকের অধীনে ফিরে আসে। বর্তমানে দলটির অধিনায়ক জাতীয় দলের তারকা সাকিব আল হাসান।

খুলনা টাইগার্স (মাইন্ডট্রি লিমিটেড): খুলনা বিভাগের প্রতিনিধিত্ব করা খুলনা টাইগার্স দলটির নাম শুরুতে ছিল খুলনা রয়েল বেঙ্গল টাইগার্স, তখন মালিকানা ছিল জেমকন স্পোর্টসের। এরপর খুলনা টাইটানস নামে খেলেছে দলটি। ২০১৯ সালে মাইন্ডট্রি লিমিটেড মালিকানায় এলে এর নামকরণ করা হয় খুলনা টাইগার্স।

রংপুর রাইডার্স (বসুন্ধরা গ্রুপ): রংপুর রাইডার্স নাম নিয়ে যাত্রা করা রংপুর বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি মাঝে রংপুর রেঞ্জার্স হলেও এখন ফিরেছে পুরনো নামে। বিভিন্ন কোম্পানি ঘুরে রংপুরের মালিকানা এখন বসুন্ধরা গ্রপের। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রংপুর ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পায় বসুন্ধরা গ্রুপ, তখন এর নামকরণ করা হয় রংপুর রাইডার্স। তার আগে তারা খেলেছে রংপুর রেঞ্জার্স নামে। 

সিলেট স্ট্রাইকার্স (ফিউচার স্পোর্টস বাংলাদেশ): সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের মালিকানাধীন সিলেট স্পোর্টস লিমিটেডের মালিকানায় সিলেট সিক্সার্স নামে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির যাত্রা। ২০১৯ সালে টোয়েন্টিফোরবাজার ডটবিজ দলটির স্পন্সর হলে এর নাম পাল্টে রাখা হয় সিলেট থান্ডার। ২০২১-২২ মৌসুমের আগে এর মালিকানায় আবার পরিবর্তন ঘটলে নাম রাখা হয় সিলেট সানরাইজার্স। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ফিউচার স্পোর্টস বাংলাদেশ মালিকানা লাভ করার পর ফের এর নাম বদল করা হয়, এবার খেলছে তারা সিলেট স্ট্রাইকার্স নামে।