২০০১ সালের সেপ্টেম্বরে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট খেলতে নামে নবাগত দল বাংলাদেশ। কলম্বোয় এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ সেই টেস্টে তখনকার ক্রিকেট পরাশক্তি সিংহলিজদের কাছে ইনিংস ও ১৩৭ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

এরপর দুই দেশ দশটি দুই জাতির টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে, যার নয়টিই জিতে নিয়েছে শ্রীলংকা। বাংলাদেশের অর্জন বলতে ২০১৭ সালে শ্রীলংকার মাঠে তাদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্ট জয়। কলম্বোয় বাংলাদেশের ৪ উইকেটের জয় অতিথিদের সিরিজ ড্র-র সুযোগও এনে দেয়। লংকানরা গল টেস্ট জিতলেও সিরিজটা ১-১-এ ড্র করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। বলাবাহুল্য, ২২ টেস্টের দ্বৈরথে ওই একবারই লংকানদের হারের স্বাদ দিতে পেরেছে টাইগাররা।

২১ বছরের এই টেস্ট দ্বৈরথে ছিল লংকানদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য। তাদের ১৭টি জয়ের মধ্যে আটটিই ছিল ইনিংস ব্যবধানে। এছাড়া একটি ১০ উইকেটে, একটি ৮ উইকেটে, একটি সাত উইকেটে জিতেছে সিংহলিজরা। আর বাকি জয়গুলো যথাক্রমে ৪৬৫ রানে, ২৮৮ রানে, ২৫৯ রানে, ২১৫ রানে, ২০৯ রানে ও ১০৭ রানে।

অবশ্য শেষ দশটি টেস্টের মধ্যে লংকানদের পাঁচটির বেশি জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। এ সময় চারটিই ড্র করতে পেরেছে টাইগাররা। সর্বশেষ দুই সিরিজে দুটি টেস্ট ড্র হয়। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে মুমিনুল হকের জোড়া সেঞ্চুরিতে ড্র করার কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। মিরপুর টেস্ট ২১৫ রানে জিতে নেয় অতিথিরা। গত বছর শ্রীলংকা সফরে গিয়ে পাল্লেকেলেতে ড্র করে বাংলাদেশ, যদিও একই মাঠে পরের টেস্টটি ২০৯ রানে হেরেছে মুমিনুল, মুশফিকুররা।  

দুই দলের দ্বৈরথের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন লংকান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা। ১৫ টেস্টে ২১ ইনিংস ব্যাটিং করে ৯৫.৫৭ গড়ে তিনি করেছেন ১ হাজার ৮১৬ রান। এরপরে মাহেলা জয়াবর্ধনে (১১৪৬), মোহাম্মদ আশরাফুল (১০৯০), মুশফিকুর রহিম (১০৪৩) ও তিলকরত্নে দিলশান (১০০৮)।

আর উইকেটে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে লংকান গ্রেট মুত্তিয়া মুরালিধরন। ১১ টেস্টে ঈর্ষণীয় ১৩.৩৭ গড়ে নিয়েছেন ৮৯ উইকেট। ১১ বার নিয়েছেন ৫ উইকেট। উইকেট শিকারে তার পরেই আছেন লংকান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ (৫০ উইকেট), বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান (২৯ উইকেট), শ্রীলংকার দিলহারা ফার্নান্দো (২৮ উইকেট) ও লাসিথ মালিঙ্গা (২৭ উইকেট)।

শ্রীলংকার বিপক্ষে রান তোলায় সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ আশরাফুল। ১৩ টেস্টে ৪৫.৪১ গড়ে এক হাজার ৯০ রান করে দেশের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। ক্যারিয়ারের ছয়টি টেস্ট সেঞ্চুরির পাঁচটিই শ্রীলংকার বিপক্ষে করেছেন আশরাফুল। যদিও এই সিরিজেই আশরাফুলকে টপকে শীর্ষস্থানটি দখলে নিতে পারেন বাংলাদেশ দলের অন্যতম জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। তার রান ১ হাজার ৪৩।

সিরিজের প্রথম টেস্ট চট্টগ্রামে বলেই ভালো কিছুর আশা করতে পারে বাংলাদেশ। এখানে শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ দুটি টেস্টই ড্র হয়েছে। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারির টেস্ট লড়াইয়ে রাজসিক ব্যাটিং করে অতিথি দলকে হতাশ করেন মুমিনুল। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১০৫ রানের ইনিংস খেলেন। ২০১৪ সালে এই মাঠে আগের ড্রতেও অবদান ছিল মুমিনুলের। প্রথম ইনিংসে ট্রিপল সেঞ্চুরির (৩১৯) পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ১০৫ রান করেন সাঙ্গাকারা। যদিও শামসুর রহমান শুভ (১০৬) ও মুমিনুলের (১০০*) ব্যাটে ভর করে টেস্টটি শুধুই সাঙ্গাকারার হতে দেয়নি বাংলাদেশ।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ ২২তম টেস্টে নামছে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত এ মাঠে স্বাগতিকরা ১৩টিতে হেরেছে, আর ২টি জয়ের সঙ্গে ছিল ৬টি ড্র। লংকানদের সঙ্গে এ মাঠে চার টেস্টের দুটিতে হেরেছে টাইগাররা। যদিও সর্বশেষ দুটি টেস্ট ড্র হয় এবং তাতে উন্নতি ছিল যথেষ্ট। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৩১তম টেস্ট। আগের ১৩০ টেস্টে টাইগাররা জিতেছে ১৬টিতে, আর হেরেছে ৯৭টি; ড্র হয়েছে ১৭ ম্যাচ।