লা লিগা কিংবা ইউরোপে এ মৌসুমে ‘অচেনা’ বার্সেলোনাকে স্বরূপে ফেরাতে মরিয়া ক্লাব কর্ণধাররা। ক্লাব প্রেসিডেন্ট, পরিচালক পর্ষদ আর কোচ মিলে বার্সার জন্য ‘ভবিষ্যতের দল’ গঠনে মনোযোগী হয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান টোরেসকে কিনে নিল বার্সেলোনা। এই খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে ২০২৭ সাল পর্যন্ত, আর রিলিজ ক্লজ ৮৪ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড বা ১০০ কোটি ইউরো, বাংলাদেশী মুদ্রায় যা প্রায় ৯ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা!

ভ্যালেন্সিয়া থেকে ম্যানসিটিতে নাম লেখানোর ১৮ মাসের মাথায় স্পেনে ফিরলেন ২১ বছর বয়সী টোরেস। তাকে ৪ কোটি ৬৩ লাখ পাউন্ডে কিনেছে বার্সেলোনা। অবশ্য খেলোয়াড়টির জন্য আরো কিছু ‘বাড়তি’ অর্থ গুনতে হবে বার্সাকে, পারফরম্যান্সের শর্ত পূরণ হলে গুনতে হবে ৮৪ লাখ পাউন্ড। আবার লা লিগার আর্থিক আইন প্রতিপালনের জন্য তাকে সই করাতে কিছু খেলোয়াড়কে বিক্রি করে দিতে হবে ক্লাবটিকে।

কৃতী এই ফরোয়ার্ডকে বার্সা যে লম্বা সময়ের জন্য ন্যু ক্যাম্পে রাখতে চায় তার প্রমাণ এই শতকোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজ। অবশ্য শতকোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজ এই প্রথম না। গত অক্টোবর মাসেই আনসু ফাতি আর পেদ্রির সঙ্গে চুক্তি নবায়নের পর দুজনেরই রিলিজ ক্লজ ১০০ কোটি ইউরো করে রেখেছে কাতালান ক্লাবটি।

স্পেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় টোরেস ২০২০ সালের আগস্টে নাম লেখান ম্যানসিটিতে। ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত ৪৩ ম্যাচে ১৬ গোল করেছেন। চলতি মৌসুমে প্রথম ছয় ম্যাচে সিটির হয়ে খেললেও সেপ্টেম্বরে সাউদাম্পটনের বিপক্ষে ম্যাচে বাদ পড়েন এবং এরপর পায়ের পাতার চোটের কারণে আর খেলা হয়নি। খেলোয়াড়টির মেডিকেল সম্পন্ন হওয়ার পর বার্সা জানিয়েছে, ডান পায়ের পাতার চোট থেকে দ্রুতই সেরে উঠছেন টোরেস। যদিও তার মাঠে ফেরার কোনো দিনক্ষণ নিশ্চিত করেনি ক্লাবটি।

২১ বছর বয়সী টোরেসকে কেনাটা বার্সার বৃহৎ পরিকল্পনারই অংশ। গত মৌসুমের পর এই মৌসুমটি অত্যন্ত বাজে কেটেছে বার্সেলোনার। লা লিগায় শিরোপার রেসে নেই, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছে কাতালানরা। লিওনেল মেসি চলে যাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় দিয়েই যেন আক্রমণভাগের সংকট মিটছে না। হোয়ান লাপোর্তা ও তার বোর্ড পরিচালকরা এখন ভবিষ্যতের জন্য দল গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় কেনা হয়েছে এরই মধ্যে, আরো কিছু ন্যু ক্যাম্পে আসার পথে।

বার্সার ভবিষ্যতের ব্রিগেডে আছেন আনসু ফাতি (১৯), পেদ্রি (১৯), গাভি (১৭), নাইকো (১৯), দেস্ত (২০), এরিক গার্সিয়া (২০), রিকি পুইগ (২২), দেমির (১৮), আবদে (২০) ও টোরেসের (২১) মতো তরুণ।

মূলত জাভি হার্নান্দেজের আগমনই টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করছে। কোচের সঙ্গে লাপোর্তা ও তার পরিচালকদের দীর্ঘ বৈঠকের পর এটাই ঠিক হয়েছে, আবারো ইউরোপের সেরা দল হতে তারা বেঞ্চ থেকেই শুরুটা করবেন এবং এটাই হবে ভবিষ্যতের দলের ভিত্তি। লাপোর্তাদের হাতে এ নিয়ে নষ্ট করার মতো সময়ও নেই।

জাভি তার চিন্তার প্রতিফলন এরই মধ্যে মাঠেও দেখিয়েছেন। তিনি দলের তরুণ তারকাদের প্রতি অন্ধভাবে আস্থা রাখেন, বিশেষ করে আনসু ফাতি ও পেদ্রির মতো খেলোয়াড় তার নয়নের মনি। এবার তিনি স্কোয়াডে নিলেন ইংলিশ ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফেরা ফেরান টোরেসকে।

টোরেসের আসা মানেই বার্সাকে খেলোয়াড় বিক্রি করতে হবে এবং তা করতে হবে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই। নতুনদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতেই বেতনের পেছনে ক্লাবের ব্যয় কমিয়ে আনতে হবে এবং কিছু খেলোয়াড় বিদায় নিলে আরো নতুন খেলোয়াড় আসার পথও তৈরি হবে।

নিজের দর্শন নিয়ে কোনো সংশয় নেই জাভির এবং ক্লাবও কোনো সময় অপচয় করতে চায় না। কোচের জন্য দল তৈরিতে গ্রীষ্ম পর্যন্তও অপেক্ষা করতে রাজি নয় কাতালানরা। লাপোর্তা এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি জানেন, পরবর্তী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুতই দল তৈরি করতে হবে।

এখানে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথাও মাথায় রাখছে বার্সা। বেনজেমা ও ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে এমবাপ্পেকে কিনে আক্রমণভাগে ভয়ঙ্কর ‘ত্রিশূল’ মাঠে নামাতে চায় রিয়াল। এর জবাব দিতেই বার্সাও ‘ত্রিশূল’ তৈরিতে ব্যস্ত। এজন্য আনসু ফাতি ও টোরেসের সঙ্গে তারা কিনতে চায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ব্রাউট আর্লিং হালান্ডকে। নরওয়েজিয়ান খেলোয়াড়টিকে জানুয়ারির শীতকালীন দলবদলে কেনার লক্ষ্য বার্সার।

দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পরই হালান্ডকে নিজের এক নম্বর ‘টার্গেট’ করেছেন লাপোর্তা। এপ্রিলে খেলোয়াড়টির এজেন্ট মিনো রাইওলা ও তার বাবার সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি। এরপর কিছুদিন পর ইতালিতে প্রতিনিধি পাঠান বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট। লাপোর্তার ইচ্ছা হলো, তিন মেধাবী ফরোয়ার্ডকে একত্র করা এবং ইউরোপের অন্যতম সেরা আক্রমণ ব্রিগেড তৈরি করা। ফাতি ১৯ বছর বয়সী এবং বাকি দুজন তাদের চেয়ে মাত্র দুই বছরের বড়। মার্কা ও বিবিসি