রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা উভয় ক্লাব একই খেলোয়াড়কে চায়; ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ ও হোয়ান লাপোর্তা উভয়ই চান একই খেলোয়াড়কে। বহুল আকাঙ্ক্ষিত সেই খেলোয়াড়টি ব্রাউট আর্লিং হালান্ড।

‘এল ক্ল্যাসিকো’খ্যাত রিয়াল-বার্সার মাঠের লড়াই কিংবদন্তিতুল্য। পেপ গার্দিওলা ও হোসে মরিনহোর সময় এ লড়াই চরমে পৌঁছে। তখন কিছু অপ্রীতিকর ও লজ্জাজনক ঘটনারও অবতারণা হয়। মাঠের বাইরেও নানা ইস্যুতে লড়াই হয় স্পেনের ইতিহাসে দুই সেরা দলের। এবার এ দুই জায়ান্ট মুখোমুখি অবস্থানে খেলোয়াড় কেনা নিয়ে। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মেধাবী স্ট্রাইকার আরলিং ব্রাউট হালান্ডকে দলভুক্ত করতে মরিয়া দুদল।

জার্মান ক্লাবটিও জানুয়ারির মধ্যেই হালান্ডকে নিয়ে একটা পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চায়। ২০২২/২৩ মৌসুমের জন্য স্কোয়াড গড়তে কত অর্থ ব্যয় করতে হবে সে ব্যাপারে পরিষ্কার ধারণা নিতেই হালান্ডের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড়টিকেও ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই ভবিষ্যতের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্প্যানিশ ফুটবলের সবার দৃষ্টি এখন হালান্ড ও বরুশিয়ার দিকে।

ট্রান্সফার মার্কেটে ঠাণ্ডা মাথায় কার্যসিদ্ধির জন্য বিশেষ সুনাম রয়েছে বার্সা প্রেসিডেন্ট লাপোর্তার। হালান্ড ইস্যুতে এরই মধ্যে তিনি দু-দুবার সাক্ষাৎ করেছেন খেলোয়াড়টির এজেন্ট মিনো রাইওলার সঙ্গে। এছাড়া ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসকে কেনার ক্ষেত্রেও তিনি বেশ চাতুর্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ধারণা করা হয়েছিল, এ চুক্তিটি কার্যত বাতিলই হয়ে যাচ্ছে। যদিও শেষ মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে তাকে কিনে নিতে সমর্থ হয় বার্সা। চুক্তিতে ২১ বছর বয়সী তোরেসের রিলিজ ক্লজ ১০০ কোটি ইউরো করে রেখেছে কাতালান জায়ান্টরা।

হালান্ড ইস্যুতে লাপোর্তা বলেন, যেকোনো কিছুই সম্ভব। পরের মৌসুমের জন্য আমরা শক্তিশালী দল গড়তে চাই। প্রথম ধাপ ছিল জাভির চাহিদামতো একজন মানসম্মত খেলোয়াড় নিয়ে আসা। আমরা সব সময়ই বাজার পর্যবেক্ষণ করি। বার্সা সব সময়ই বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়। 

এদিকে রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ বিষয়টি নিয়ে বেশ খোলাখুলিই এগোচ্ছেন। যদিও প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলভুক্ত করাটাই তাদের এক নম্বর টার্গেট। তাদের পরিকল্পনা হলো, ১ জুলাই ‘বসম্যান চুক্তি’তে তাকে দলভুক্ত করা। অর্থ্যাৎ পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন না করায় ১ জুলাইয়ের পর ‘ফ্রি এজেন্ট’ হয়ে পড়বেন এমবাপ্পে এবং তখন তাকে যেকোনো ক্লাব বিনা ফিতে পাবে।

হালান্ড ও এমবাপ্পে দুই গোলমেশিনকেই চায় রিয়াল। যদিও রাইওলার সঙ্গে অতীত রেকর্ড অতটা সুখকর নয় রিয়ালের। হালান্ডকে কিনতে চাইলে ইতালিয়ান এই সুপারজেন্টের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে হবে তাদের।

লাপোর্তা অবশ্য সম্ভব্য সব চেষ্টাই করবেন। কেননা লিওনেল মেসি চলে যাওয়ার পর যে তারকা সংকটে ভুগছে তার ক্লাব, সেটি পূরণে তিনি মরিয়া। হালান্ডকে পেলে গোলখরা যেমন ঘুচে যাবে, তেমনি দলে তারকার অভাবও পূরণ হবে অনেকটাই। যদিও লাপোর্তা জানেন, অনেক দিক থেকে রিয়ালই এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে, মাঠের অবস্থান। এ মুহূর্তে শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বার্সা কর্মকর্তাদের ঘুম নেই এটা জেনে, রিয়াল যদি ফরোয়ার্ড লাইনে এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আর হালান্ডকে একত্রে পেয়ে যায়, তবে স্পেনের ঘরোয়া ফুটবলে আগামী এক দশক লস ব্লাঙ্কোসদের আধিপত্য নিশ্চিত হবে। লাপোর্তা তাই কোনোভাবেই এটা ঘটতে দিতে পারেন না। তিনি জানেন, এটা ঘটলে তা বার্সার জন্য বিরাট এক বিপর্যয়ের মতোই হবে।

ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ অবশ্য বিনা লড়াইয়ে হালান্ডকে পাওয়ার আশাই করেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত এখানে বার্সার সঙ্গে তার দলের লড়াইটা বেধেই গেল। বিশেষ করে, লাপোর্তা যেভাবে আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন তাতে কাজটি যে পেরেজের জন্য মোটেও সহজ হবে না তা এরই মধ্যে বুঝে গেছেন এই ঝানু ফুটবল প্রশাসক। তাছাড়া ২০১৩ সালের স্মৃতি এখনো ভোলেননি তিনি। তখন স্যান্টোস থেকে নেইমারকে কেনা প্রায় চূড়ান্ত ছিল রিয়ালের। যদিও শেষ মুহূর্তে ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়টি রিয়ালকে বোকা বানিয়ে বার্সেলোনায় নাম লেখান। পেরেজ চান না আবারো এমনটি ঘটুক। যদিও এরপর পরবর্তী নেইমারের খোঁজে রয়েছে মাদ্রিদ জায়ান্টরা।

হালান্ডকে কিনতে হলে খেলোয়াড় বিক্রি করতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের। আবার গ্যারেথ বেল, ইসকো ও মার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে নরওয়েজিয়ান খেলোয়াড়টিকে উচ্চ পারিশ্রমিক দেয়ার সুযোগ তৈরি হবে রিয়ালের।

এমবাপ্পেকে যে ক্লাবই পাক না কেন, এখানে চূড়ান্ত বিজয়ী হবেন লা লিগা প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের তেবাস, যিনি লা লিগায় একজন বড় তারকাকে দেখতে চান। তিনি জানেন, সিভিসি লোনটা বার্সাকে এ কাজে সাহায্য করবে। তেবাস বলেন, আমি আশা করব, এমবাপ্পে ও হালান্ড রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা অন্য কোনো স্প্যানিশ ক্লাবে আসবে। রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে দুই খেলোয়াড়কেই সই করানোর সামর্থ্য আছে। তবে আমি মনে করি, গ্রীষ্মে হালান্ডকে সই করানোর কাজটা বার্সার জন্য জটিল হতে পারে। বিশেষ করে তাদের বেতন সীমা এখানে বাধা হতে পারে। কাজটি করতে তাদের অনেক বাধা পেরোতে হবে। যদিও আমি নিশ্চিত, এখানে সিভিসি লোন তাদের সাহায্য করবে।

২১ বছর বয়সী হালান্ড ২০২০ সালে রেড বুল সলজবুর্গ থেকে নাম লেখানোর পর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৫৩টি লিগ ম্যাচ খেলে ৫৩ গোল করেছেন। বরুশিয়ায় অবিশ্বাস্য সাফল্যের কারণেই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসি তাকে নিজেদের তাঁবুতে পেতে চায়। যদিও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রিমিয়ার লিগের চেয়ে লা লিগাকেই পছন্দ হালান্ডের। মার্কা