পোর্ট এলিজাবেথে দ্বিতীয় টেস্টে আজ দ্বিতীয় দিনটি শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকার বললে
অত্যুক্তি হবে না। এদিন প্রোটিয়ারা টেল-এন্ডের দৃঢ়দায় শেষ ৫ উইকেটে আরো ১৭৫ রান বোর্ডে
যোগ করার পর বাংলাদেশের ৫ উইকেট তুলে নিয়েছে। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৩১৪ রানে পিছিয়ে
মুমিনুল হকের দল। এ অবস্থা থেকে লিড নেয়া দূরে থাক, ফলো-অন এড়ানোই এখন অতিথিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুশফিকুর
রহিম ৩০ ও ইয়াসির আলী ৮ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন।
জেন্ট জর্জেস পার্কে দিনটি হতে পারতো তাইজুল ইসলাম ও বাংলাদেশেরও। ৫০
ওভার বোলিং করে ১৩৫ রান দিয়ে তিনি তুলে নিয়েছেন ৬টি উইকেট। ক্যারিয়ারে এ নিয়ে
দশমবারের মতো নিলেন ৫ বা ততোধিক উইকেট। ২০০৮ সালের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে
কোনো বাংলাদেশির সেরা বোলিং ফিগার এটি। প্রথম টেস্টে জায়গা না পাওয়া তাইজুল পোর্ট
এলিজাবেথে ফিরেই নিজের নামের প্রতি সুবিচার করলেন, সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন আরেকবার।
এছাড়া খালেদ আহমেদ ১০০ রানে তিনটি ও মেহেদী হাসান মিরাজ ৮৫ রানে এক উইকেট নিয়ে
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৫৩ রানে অলআউট করেন।
অবশ্য
‘অলআউট’ শব্দটি নিয়ে
তৃপ্তির সুযোগ নেই বাংলাদেশ দলের জন্য। কেননা অলআউট হলেও বোর্ডে তারা সাড়ে চারশর
বেশি রান ঠিকই জমা করে ফেলে এবং বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয় এই স্কোরটাকেই যেন
পাহাড়সম রূপ দিয়েছে।
এরপর ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন দুই প্রোটিয়া
পেসার উইয়ান মুলডার ও ডুয়ান অলিভিয়ার। বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই হারায় মাহমুদুল হাসান
জয়ের উইকেট। অলিভিয়ারের গতির বলে তিনি স্লিপে ক্যাচ দেন সারেল আরউইকে। এরপর তামিম
ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্ত প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে টানছিলেন। যদিও ৭৯ রান
তোলার পর বিচ্ছিন্ন হয় এ জুটি। মারমুখী খেলা তামিমকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন
মুলডার। প্রত্যাবর্তনের টেস্টে ৫৭ বলে ৪৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তামিম। ৮
বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান তিনি। যদিও দলের বিপদের মুহূর্তে ইনিংসটি লম্বা করতে
পারলেন না। তার বিদায়ের পরপরই সাজঘরে ফেরেন শান্তও। ব্যক্তিগত ৩৩ রানে তাকে বিদায়
করেন সেই মুলডার। তিনিও এলবিডাব্লিউ হন।
এদিন আরেকবার দলকে হতাশ করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। আজ মাত্র ৬ রান
করতে পেরেছেন। তাকেও লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মুলডার। তিন বামহাতি ব্যাটার তামিম, শান্ত ও
মুমিনুলকে একই ধরণের বলে আউট করে মুলডারই অতিথিদের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করেন।
এরপর মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের জুটিও বেশিদূর এগোয়নি। ব্যক্তিগত ১১
রানে অভিলিয়ারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন (১২২/৫)। এখন
ইয়াসির ও মুশফিকই দলের ভরসা হয়ে টিকে আছেন।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে কোনো সেঞ্চুরি ছাড়াই দলগত প্রচেষ্টায় সাড়ে
চারশ পেরিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। স্বাগতিকরা আর ৭২ রান করলেই টেস্টে সেঞ্চুরিবিহীন
সর্বোচ্চ স্কোর হয়ে যেতো!
তাইজুলের অনবদ্য প্রচেষ্টার পরও প্রোটিয়াদের সংগ্রহটা অল্পতে আটকে রাখা
যায়নি। রাখতে দেননি কেশব মহারাজ। ৫ উইকেটে ২৭৮ রান নিয়ে সকালে ব্যাটিংয়ে নামা
প্রোটিয়াদের সংগ্রহটা সাড়ে চারশ পার করাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
ক্যারিয়ারসেরা ৮৪ রান করেন তিনি মাত্র ৯৫ বলের মোকাবেলায়। প্রথম টেস্টের চতুর্থ
ইনিংসে ৭ উইকেট নেয়া মহারাজ এবার ব্যাট হাতে রাজত্ব করলেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ৪৫৩ (মহারাজ ৮৪, এলগার ৭০, বাভুমা ৬৭, পিটারসেন ৬৪; তাইজুল ৬/১৩৫, খালেদ ৩/১০০)।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৩৯/৫ (তামিম ৪৭, শান্ত ৩৩, মুশফিক ৩০*, ইয়াসির ৮*)। —দ্বিতীয় দিন
শেষে










