অ্যারিজোনায় তাদের ক্যাম্প করার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে সেই অনুমতি মেলেনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে। তারা ঘাঁটি গাড়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। সেখান থেকে দুদিন আগে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচ খেলেছে এশিয়ার অন্যতম সেরা দলটি। ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করে মেহদী তারেমির দল। সেই ম্যাচ শেষে দ্রুতই তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে যেতে হয়েছে। এ ঘটনায় ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের কোচ আমির ঘালেনুই। তিনি ইরানকে চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ‘নিপীড়িত’ দল বলে দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরান ফুটবল দলের প্রস্তুতিতেও ব্যাঘাত ঘটে। তারা তুরস্কে প্রস্তুতি নিয়েছে। এরপর মেক্সিকোয় চলে তাদের ট্রেনিং ক্যাম্প। অবশেষে সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ভেন্যুতে পা রাখেন ইরানি ফুটবলাররা। সোফি স্টেডিয়ামের সেই ম্যাচে দু-দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ইরানিরা।

সূচি অনুযায়ী, ম্যাচের দুদিন আগে ভেন্যুতে গিয়ে ম্যাচের পরদিন আবার তিজুয়ানায় ফিরে যাবে ইরান। তবে লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচের পরদিন নয়, ম্যাচ শেষে ওইদিন রাতেই তাদের তিজুয়ানার পথে বিমান ধরতে হয়েছে।

28

ম্যাচ শেষে দোভাষীর মাধ্যমে ঘালেনুই বলেন, ‘উড়োজাহাজে ভ্রমণেই আমাদের অনেকটা সময় ব্যয় হচ্ছে। এমনকি তারা আমাদের রিকভার করার সময়টুকুও দিচ্ছে না। আজ ম্যাচ শেষে বলা হলো, “‍তোমাদের এখনই যেতে হবে।” দেখুন ম্যাচ শেষে সেরে ওঠাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের বলা হলো তিজুয়ানার ক্যাম্পে ফিরে যেতে এবং এতে আমরা খুবই সমস্যায় পড়ে যাচ্ছি।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, গোটা বিশ্বকাপেই আমরা সবচেয়ে নিপীড়িত দল।’

ঘালেনুই সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি যে তাদের সোমবার রাতে তাদের কে লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়তে বলেছেন। তবে অধিনায়ক মেহদী তারেমি বলেছেন যে সোমবার ম্যাচের পর তাদের লকার রুমে দেখা করতে এসেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো। তারেমি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত, তিনি (ইনফ্যান্তিনো) আমাদের সাহায্য করতে চান। কিন্তু এখানে তো আরো অনেক বিষয় জড়িত, আর এটা তো সবাই জানে। আমি সেটা উল্লেখ করতে চাই, কারণ আপনারা জানেন আমরা কোথায় আছি।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ফিফা আমাদের আরো বেশি সাহায্য করতে পারে। দেখি সামনে কী হয়।’

ইরান ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট মেহদী তাজ ও সাপোর্ট স্টাফ টিমের আরো ডজনখানেক সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে দলের সঙ্গে যেতে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক তারেমি ও কোচ ঘালেনুই। তারেমি বলেন, ‘আসলে সব মিলিয়ে আমাদের জন্য এটা একটা বিপর্যয়।’

কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত থাকা অবস্থায় সেই দেশের আয়োজনে ফুটবল বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেয়া প্রথম দেশ ইরান। যদিও তাদের এ আসরে অংশগ্রহণ ছিল ঘোর অনিশ্চিত। সংঘাত যখন চলমান তখন ইরান অনুরোধ জানিয়েছিল ফিফাকে, যেন তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় রাখা হয়। যদিও তখন ইরানকে জানিয়ে দেয়া হয়, ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব না এবং তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের মাঠেই খেলতে হবে।

এবারের সূচিতে ইরানের প্রথম ম্যাচ রাখা হয় লস অ্যাঞ্জেলেসে, যেখানে বহু ইরানির বসবাস। এসব ইরানির বেশির ভাগই লস অ্যাঞ্জেলেসে যান ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর। তারা পতন হওয়া শাহ পরিবারের সমর্থক এবং বর্তমান শাসকদের বিরোধী। তাই ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের জাতীয় সংগীত চলার সময় দুয়ো দিয়েছেন অনেক দর্শক। দর্শকরা ইসলামী বিপ্লবের আগে ও পরের পতাকা ওড়ান। ম্যাচ শুরুর পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং ৭০ হাজার দর্শকের অনেকেই ইরান দলকে সমর্থন জুগিয়েছেন।

এ নিয়ে ঘালেনুই বলেন, ‘এখানে আজ অনেক ইরানি ছিল। তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তারা সবাই হৃদয়ের অন্তস্তল থেকে আমাদের সমর্থন দিয়েছেন। আমি মনে করি, এটা আমাদের সবার জন্য একটা বিজয়।’

ইরানের গোলদাতা মোহাম্মদ মোহেব্বি বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাস করা ইরানিদের আমরা ধন্যবাদ দিতে চাই। তারা ম্যাচের সময় দারুণ একটি আবহ তৈরি করেছেন।’

রোববার রাত ১টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের ইঙ্গেলউডে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। এরপর ২৭ জুন সকাল ৭টায় সিয়াটলে তারা খেলবে আরব দেশ মিসরের বিপক্ষে।