উয়েফা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২০২৩-২৪ মৌসুমের ফাইনালে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার রাতে নাটকীয়ভাবে
বায়ার্ন মিউনিখকে হারিয়ে দেয় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। ওয়েম্বলিতে ১ জুন ফাইনালে রিয়ালের
সামনে জার্মানিরই আরেক দল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। এ নিয়ে ১৮তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ/ইউরোপিয়ান
কাপের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এর মধ্যে রেকর্ড ১৪ বার শিরোপা জিতেছে মাদ্রিদ
জায়ান্টরা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাতবার শিরোপা জিতেছে এসি মিলান।
বার্নাব্যুতে
৮৮ মিনিট এগিয়ে থেকে ফাইনালের পথেই ছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ৬৮ মিনিটে আলফনসো ডেভিডসের
গোলে বায়ার্ন ফাইনালের আশা জাগায়। হ্যারি কেনের অ্যাসিস্টে গোলটি করেন তিনি। বায়ার্ন
তখন এগিয়ে ৩-২ গোলে। কিন্তু রিয়াল বলেই খেলা তখনো শেষ হয়ে যায়নি। ৮১ মিনিটে ফেদে ভালভার্দের
বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের চিত্রটা পাল্টে দিলেন হোসেলু। ৮৮ মিনিটে তারই গোলে সমতা আনে
রিয়াল। তিন মিনিট পর আন্তোনিও রুডিগারের পাসে বল পেয়ে ম্যাচটা ২-১ করে ফেলেন তিনি।
এতে দুই লেগ মিলে ৪-৩ গোলে এগিয়ে থেকে ফাইনালের টিকিট পায় লস ব্লাঙ্কোসরা। হোসেলুর
এই ম্যাজিকই সেমিফাইনালের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
বরুশিয়া
ডর্টমুন্ড থেকে রিয়ালে নাম লেখানো জুড বেলিংহ্যাম এবার সাবেক দলের বিপক্ষে ফাইনাল খেলবেন।
এ নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া ছিল এরকমই, ‘ওয়েম্বলিতে ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে...কী অদ্ভুতুরে।
আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না। বার্মিংহামে আমি আমার বয়স যখন সাত তখন এমন রাতের স্বপ্ন দেখতাম।’
বেলিংহ্যামের
জন্য স্বপ্নপূরণের হলেও তার ইংল্যান্ড সতীর্থ হ্যারি কেনের জন্য এটি ছিল দুঃস্বপ্নের
রাত, হৃদয়ভঙ্গের বেদনা। ৮৬ মিলিয়ন পাউন্ডে টটেনহ্যাম থেকে বায়ার্ন মিউনিখে নাম লেখানো
হ্যারি কেন এ মৌসুমে ক্যারিয়ারসেরা ৪৪ গোল করেছেন। যদিও ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো
শীর্ষ কোনো শিরোপা জয়ের অপেক্ষা বাড়ল তার। লিগ শিরোপা বায়ার লেভারকুসেনের কাছে হাতছাড়া
হওয়ার পর এবার সেমিফাইনালে তাদের বিদায় করল রিয়াল মাদ্রিদ।
কোচ
হিসেবে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ওঠা কার্লো অ্যানচেলত্তি জয় শেষে বলেছেন.
‘আমার খেলোয়াড়রা ছিল অবিশ্বাস্য। আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম
করেছে। এটাই আমার ক্যারিয়ারে সেরা স্কোয়াড।’
রিয়াল
যখন বিদায়ের প্রহর গুণছিল তখন তাদের একজন ত্রাতার প্রয়োজন ছিল এবং সেই ত্রাতা হয়ে এলেন
৩৪ বছর বয়সী হোসেলু। স্টোক সিটি ও নিউক্যাসলের পাঠ চুকিয়ে ২০২২-২৩ মৌসুমে ফেরেন স্পেনে।
এস্পানিওলের হয়ে ১৭ গোল করা এই স্ট্রাইকারকে করিম বেনজেমার জায়গায় নেয় রিয়াল। চলতি
মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে ৪৬ ম্যাচে ১৭ গোল করে আস্থার প্রতিদান দিলেন তিনি। আর বুধবার
রাতের জোড়া গোল আগের ১৫ গোলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, মূল্যবান।
হোসেলুকে
নিয়ে বেলিংহ্যাম বলেন, ‘আমার মনে হয় না আজ (বুধবার) রাতে তার ঘুমা হবে। দারুণ এক মৌসুম
কেটেছে। এই সম্মান তার প্রাপ্য।’
হোসেলু
নিজেও অভিভূত। তিনি বলেন, ‘এমন পারফরম্যান্সের স্বপ্ন আপনি দেখে থাকেন। কিন্তু এমনটা
আমি করতে পারব, তা আমি কখনো স্বপ্নেও দেখিনি। হিরোরা কেমন হয় জানি না, তবে আমি এ মুহূর্তে
অনেক অনেক আনন্দিত। এটা ছিল অবিশ্বাস্য, আমি অভিভূত। এই দলটা কখনো হাল ছাড়ে না। শেষ
পর্যন্ত লড়াই করা রিয়ালের রক্তের সঙ্গে মিশে আছে এবং আজ আমরা সেটাই করেছি।’










