ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার, নন্দিত আর্জেন্টাইন সুপারস্টার দিয়েগো ম্যারাডোনার চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর কোটি ভক্ত-সমর্থকদের শোকে ভাসিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। ফুটবল কিংবদন্তির তিরোধান দিবস আজ।

১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ ছিল কেবলই ম্যারাডোনার। তার নেতৃত্বে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে আর্জেন্টিনা। নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকেই। সেই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের তার দুটি গোল আজও ইতিহাসের অংশ, আলোচিত, সমালোচিত। ‘হ্যান্ড অব গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বলে অভিহিত করা হয় সেই গোল দুটিকে।

সেই থেকে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে ২০২২ সালে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করে আলবিসেলেস্তেরা। যদিও আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্ব মুকুট জয়টি দেখে যেতে পারেননি ম্যারাডোনা।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক ক্লাব ফুটবলে খেলেছেন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স, বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা, নাপোলি, সেভিয়া ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে। তবে ক্লাব ফুটবলে তিনি ছিলেন নাপোলির কিংবদন্তি। ১৯৮৪ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত খেলেছেন ইতালির ক্লাবটিতে। তিনি ক্লাবটিকে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা এনে দিয়েছেন।

ম্যারাডোনার নেতৃত্ব ১৯৮৭ ও ১৯৯০ সালে লিগ শিরোপা জয় করে নাপোলি। ইউরোপের পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন ক্লাবকে। তার জন্যই নাপোলি এসেছিল ফুটবলের আলোতে। তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ নাপোলি। ক্লাবটির ১০ নম্বর জার্সির মালিক কেবলই ম্যারাডোনা। তার প্রতি সম্মান রেখে এই জার্সি আর কাউকে দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালির এই ক্লাবটি।

এমনকি তার মৃত্যুর পর নাপোলির ‘সাম পাওলো’ স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘দিয়েগো আরমানদো ম্যারাডোনা’ স্টেডিয়াম।

ফুটবলে অমরত্ব পাওয়া ম্যারাডোনার শরীরের মৃত্যু হয় ২০২০ সালের এইদিনে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যান তিনি। যদিও তার মৃত্যু নিয়ে ধোয়াঁশা রয়েছে। চার বছর পরেও তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। তার সেবায় নিযুক্ত নার্স জিসেলা দাহিয়ানার বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যার’ অভিযোগ রয়েছে। যদিও তার বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।