ক্রোয়েশিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে
পৌঁছে গেল ফেভারিট আর্জেন্টিনা। আজ ভোরে লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি ও
হুলিয়ান আলভারেজের যুগলবন্দিতে ক্রোয়েশিয়াকে বিধ্বস্ত করে লাতিন জায়ান্টরা।
আলভারেজ দুটি গোল করার পাশাপাশি পেনাল্টিও আদায় করেন, যা থেকে গোল করেন মেসি। আবার মেসির পাস থেকে দলের তৃতীয়
গোলটি করেন আলভারেজ। এই জয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসির প্রথমবারের মতো
বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলো।
এটা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ষষ্ঠ ফাইনাল। আগামী রোববার এই
মাঠেই ফাইনাল খেলবে দুইবারের সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আজ বুধবার রাতে দ্বিতীয়
সেমিফাইনালে ফ্রান্স খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। এই ম্যাচের বিজয়ী ফাইনালে
আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে।
গতকালের জয়ে আর্জেন্টিনার একটি রেকর্ড সমুন্নত থাকল। তারা
কখনই বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়নি। ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে তারা
টাইব্রেকারে হারায় নেদারল্যান্ডসকে। এবার তাদের শিকার ক্রোয়েশিয়া, যারা ২০১৮ সালের রানার্সআপ। ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জয়
করে আর্জেন্টিনা। এছাড়া ১৯৩০, ১৯৯০ ও ২০১৪
সালের ফাইনালে তারা পরাজিত হয়।
শুরুতে ক্রোয়েশিয়া আধিপত্য করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল
পাচ্ছিল না। প্রথম ৩০ মিনিট শেষে আর্জেন্টিনার খেলায় ছন্দ ফেরে। ৩৪ মিনিটে
পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন মেসি। ইভান পেরিসিচ আর্জেন্টিনার
বারের ওপর দিয়ে বল মারার কিছুক্ষণ পরই আলভারেজ আক্রমণে গেলে তাকে আটকাতে গিয়ে
বক্সের মধ্যে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার ডমিনিক লিভাকোভিচ। এতে পেনাল্টির
বাশি বাজার ইতালিয়ান রেফারি ড্যানিয়েল ওরসাতো। অভিজ্ঞ মেসি স্পট কিক থেকে গোল করতে
কোনো ভুল করেননি।
এই গোলেই যেন জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। মেসিরা খেলতে থাকেন
ছন্দময় ফুটবল। তারই ধারাবাহিকতায় ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজ অনবদ্য এক গোল করে
ব্যবধান ২-০ করে ফেলেন। প্রায় নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে
গিয়ে একাধিক ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে যেভাবে তিনি গোলটি করেন তা কিংবদন্তি দিয়েগো
ম্যারাডোনার কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। ৬৯ মিনিটে মেসির মাস্টারক্লাসে তৃতীয় গোল পায়
আর্জেন্টিনা। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে গিয়ে ক্রোয়াট বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের
ডিফেন্সকে এলোমেলো করে দেন তিনি। এরপর প্রায় টাচলাইন থেকে কাট ব্যাক করলে তা থেকে
সহজেই গোল করেন আলভারেজ।
১৯৬৬ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে একটি আসরের তিনটি ভিন্ন
ভিন্ন ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করার রেকর্ড গড়লেন মেসি। এই আসরে পাঁচ গোলের
পাশাপাশি চার অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনিই গোল্ডেন বলের সবচেয়ে বড় দাবিদার হয়ে উঠলেন।
সেসঙ্গে গোল্ডেন বুটেরও। রেসে আছেন আলভারেজও। তার হয়ে গেল ৪ গোল। ফ্রান্সের
অলিভিয়ার জিরুরও চার গোল।
গতকালের এই পেনাল্টি গোলে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা
কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ছুঁয়ে ফেলেন মেসি। দুজনের এখন সমান ৫টি করে গোল। যদিও আজ
মরক্কোর বিপক্ষে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এমবাপ্পে। এই গোলে আর্জেন্টিনার হয়ে
বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ড গড়লেন মেসি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ ১১ গোল
এখন তারই দখলে। এতদিন ১০ গোল নিয়ে শীর্ষে ছিলেন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা।
কাতারে মেসির ৫ গোলের ৩টিই এসেছে পেনাল্টি থেকে। পর্তুগালের ইউসেবিও ও
নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক উভয়ই এক বিশ্বকাপ আসরে পেনাল্টি থেকে ৪টি করে
গোল করেন।










