জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বশেষ ২০১৬ সালের মার্চে দেখা যায় হরভজন সিংকে। টেস্ট-ওয়ানডে খেলেছেন এর আগের বছর। জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন টানা ছয় বছর। যদিও এক সময় ভারতীয় দলের অপরিহার্য অংশ ছিলেন এই অফস্পিনার। কিন্তু দলের প্রয়োজনে তাকে আর ডাকা হয় না দীর্ঘ দিন। অবশেষে সব ধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন ৪১ বছর বয়সী হরভজন।
আজ টুইটারে এক আবেগী বার্তায় নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন ভাজ্জি। ফলে ২৩ বছর পর ক্রিকেটের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন হল তার।
টুইটারে হরভজন লিখেছেন, সব ভাল জিনিসই একদিন শেষ হয়। আজ আমি এমন একটা খেলাকে বিদায় জানাচ্ছি যা আমার জীবনে সব কিছু দিয়েছে। ২৩ বছরের এই লম্বা যাত্রা যারা সুন্দর ও স্মরণীয় করে রেখেছেন, তাদের প্রত্যেককে অনেক ধন্যবাদ।
এছাড়া ইউটিউবে একই ঘোষণা দিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে তিনি বলেছেন, ভারতের জার্সি পরে যখনই খেলতে নেমেছি, এর থেকে বড় অনুপ্রেরণা আর ছিল না। গত কয়েক বছর ধরেই আমি এই কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানাতে চেয়েছিলাম। ভাবছিলাম যে কবে সবার সঙ্গে এই মুহূর্তটা ভাগ করে নেব। আজ আমি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। হয়তো অনেকদিন আগেই অবসর নিয়েছিলাম। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারিনি।
কেন এতোদিন তা পারেননি সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভারতীয় স্পিনার। হরভজন সংযোজন করেন, কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে আমার দায়বদ্ধতার কারণেই আগে অবসরের ঘোষণা করতে পারিনি। বাকিদের মতো আমিও ভারতের জার্সিতেই অবসর নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সবার ভাগ্য সমান হয় না। আমি যখনই মাঠে নেমেছি, শতভাগ বিলিয়ে দিয়েছি।
১৯৯৮ সালে বেঙ্গালুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে অভিষেক হয় হরভজন সিংয়ের। প্রথম ম্যাচে দু’টি উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। পরের মাসেই শারজায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডেতে ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। এরপর ক্রিকেটের দুই ফরম্যাটে ভারতীয় দলের হয়ে টানা ম্যাচ খেলে যান। ২০০৩ বিশ্বকাপের দলে ছিলেন তিনি। ১০৩ টেস্টে ৪১৭ উইকেট শিকার করেছেন হরভজন। ২৩৬ ওডিআই খেলে ২৬৯ উইকেট জমা করেছেন ঝুলিতে। ২৮ টি-টোয়েন্টিতে শিকার ২৫ উইকেট। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা ৭১১টি। টেস্টে দুটি সেঞ্চুরি ও নয়টি হাফসেঞ্চুরিসহ ২২২৪ রান করেন হরভজন। ওয়ানডেতে ১২৩৭ ও টি টোয়েন্টিতে করেন ১০৮ রান।










