দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদেরই মাঠে কখনো টেস্ট সিরিজে হারাতে পারেনি ভারত, পারল না এবারো। শুক্রবার শেষ হওয়া তৃতীয় টেস্টে ভারতকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিকরা। এতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের অপেক্ষা আরো বাড়ল ভারতের। যদিও এবার ছিল সেরা সুযোগ।

এই ব্যর্থতায় ভারতীয় টেস্ট দলের নেতৃত্ব ছাড়লেন বিরাট কোহলি। গতকাল তিনি এ ঘোষণা দেন। ফলে কোনো ফরম্যাটেই তিনি এখন আর ভারতের অধিনায়ক নন। টি২০ বিশ্বকাপের নেতৃত্ব নিজে থেকেই ছেড়েছিলেন কোহলি। সম্প্রতি তার ওয়ানডে নেতৃত্ব কেড়ে নেয় বিসিসিআই। এবার ছাড়লেন টেস্টের নেতৃত্ব।

২০১৫ সালে টেস্ট দলের পূর্ণকালীন নেতৃত্ব পান কোহলি। তিনিই ভারতের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক। তার নেতৃত্বে ৬৮ ম্যাচ খেলে ভারত জিতেছে ৪০টি।

এদিকে প্রথম টেস্ট জিতেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ জিততে ব্যর্থ হলো ভারত। দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রথম টেস্ট জিতেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ হারল দলটি। ঘরের মাঠে ১৯৮৪-৮৫ ও ২০১২-১৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ২০০৬-০৭ ও ২০২১-২২ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতেও শেষ পর্যন্ত সিরিজ খুইয়েছে ভারত।

কেপটাউনে সিরিজ মীমাংসার টেস্টে বোলারদের কল্যাণে ভারতকে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ২২৩ ও ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে প্রোটিয়ারা ২১২ রানের টার্গেট পায়। খানিকটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও কিগান পিটারসেন (৮২), রাসি ফন ডার ডুসেন (৪১) আর তেম্বা বাভুমার (৩২*) বিশ্বস্ত ব্যাটে স্নায়ুচাপ জয় করে সিরিজও জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আরেকবার টেস্ট সিরিজ জিততে না পারার হতাশা নিয়ে দেশে ফিরতে হবে কোহলিদের। শুক্রবার পরাজয় শেষে ভারতীয় দলনায়ক বলেন, উপভোগ্য আর কঠিন লড়াইয়ের এক সিরিজ ছিল। প্রথম ম্যাচটি দুর্দান্ত ছিল, যদিও এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণভাবে ফিরে আসে। যে দুটি টেস্ট তারা জিতেছে সেগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের বোলাররা অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছে। মোক্ষম সময়ে আমাদের মনঃসংযোগে চিড় ধরেছে এবং তারা এই সুযোগগুলো লুফে নিয়েছে, জয় তাদেরই প্রাপ্য। আমরা অবশ্যই অত্যন্ত হতাশ। আমরা জানি, একটি দল হিসেবে আমরা কতদূর এসেছি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদেরই মাঠে হারাতে পারলে আমাদের এই অগ্রগতির প্রমাণ দিতে পারতাম। ক্রিকইনফো