সম্প্রতি কোয়ার্টার ফাইনালের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে চেলসিকে হারিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এবার যদি রিয়াল শিরোপা জিততে পারে তবে ক্রীড়ার দৃষ্টিকোণের বাইরের বিচারেও এটি হবে মাদ্রিদ জায়ান্টদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এক শিরোপা।

এই প্রতীকী মূল্য হবে বিশাল, কেননা লস ব্লাঙ্কোসদের ভাগ্যই এবার এমন যে নকআউটে পরপর সামনে পড়েছে ইউরোপের ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত তিন আর্থিক শক্তিধর ক্লাব। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি), চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটিকে পরপর তিন ম্যাচে মোকাবেলা করতে হচ্ছে রিয়ালকে। এই তিনটি ক্লাবই বাইরের মালিকের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় অসীম শক্তি সঞ্চয় করেছে। এর মধ্যে পিএসজি ও ম্যানসিটি তো সরাসরি দুটি রাষ্ট্রের অর্থায়নে চলছে।

রিয়ালের ১৪তম ইউরোপিয়ান মুকুট জয়ের পথে তিনটি বড় বাধা। প্রথমেই রিয়ালের সামনে পড়ে পিএসজি, যাদের তাঁবুতে এ সময়ের তিন সেরা খেলোয়াড় (লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে)। করিম বেনজেমার হ্যাটট্রিকে পিএসজিকে চূর্ণ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে রিয়াল। এরপর সামনে পড়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চেলসি। ঘরের মাঠে ১-৩ গোলে হেরে গেলেও ব্লুজরা গর্জে ওঠে রিয়ালের মাঠে গিয়ে। দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে অঘটনের সম্ভাবনা জাগায়। যদিও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ব্যবধান ২-৩ করতে সমর্থ হয় রিয়াল, যা তাদের ৫-৪ গোলের অগ্রগামিতায় তুলে নেয় সেমিফাইনালে। এবার কার্লো অ্যানচেলত্তির দলের সামনে আরেক ধনাঢ্য ক্লাব ম্যানসিটি। আরেকটি কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে লস ব্লাঙ্কোসদের।

দলবদলে ব্যয়কৃত অর্থের বিচারে একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের শীর্ষ চার ক্লাবের তালিকায় রয়েছে রিয়ালের এবারের তিন প্রতিদ্বন্দ্বী। ম্যানসিটি ১৫২ কোটি ইউরো নিয়ে শীর্ষে, চেলসি ১১০ কোটি ইউরো নিয়ে তিনে, পিএসজি ৯৫ কোটি নিয়ে চারে। আর রিয়াল ৯৩ কোটি ৯০ লাখ ইউরো নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।

পিএসজি: সেমিফাইনালের পথে শেষ ষোলোয় ফরাসি ক্লাবটির মোকাবেলা করে রিয়াল মাদ্রিদ। এ ক্লাবটিতে রয়েছে বিপুল বিদেশী বিনিয়োগ। কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি ২০১১ সালে ক্লাবটি কিনে নেয়। সেই থেকে অসফল (দুটি লিগ ওয়ান ও একটি কাপ উইনার্স কাপ) ক্লাবটি ফরাসি ফুটবলের পাওয়ারহাউজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর সাতটি লিগ ওয়ান ও ছয়টি ফ্রেঞ্চ কাপ জিতেছে তারা।

চেলসি: ইংলিশ ফুটবলে মালিকানার ধরনটাই বদলে দেন রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ। তার সময়ে দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় করে চেলসি। প্রথমবার ২০১২ সালে, দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে। ২০০৩ সালে আব্রামোভিচ কর্তৃক কিনে নেয়ার আগ পর্যন্ত লন্ডনের স্রেফ অন্য একটি ক্লাবের মতোই ছিল চেলসি। সেই থেকে তারা তাদের ছয়টি লিগ শিরোপার পাঁচটিই জিতেছে। ব্লুজরা আগের একমাত্র শিরোপাটি জিতেছিল ১৯৫৫ সালে। যদিও আব্রামোভিচ ব্রিটেনে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ায় চেলসির মালিকানা থেকে সরে যাচ্ছেন, ক্লাবটি বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান।

ম্যানসিটি: চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের নেশায় বুঁদ ম্যানসিটিও। ২০০৮ সালে আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ সিটির মালিকানায় আসে। সেই থেকে সিটিকে ইংলিশ ফুটবলের একটি পাওয়ারহাউজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। সিটির সাতটি লিগ শিরোপার মধ্যে পাঁচটিই এসেছে আমিরাতি জমানায়। যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগে বারবার ব্যর্থ হয়ে ফেরে ক্লাবটি। গত বছর ফাইনালে চেলসির কাছে পরাজিত হয় পেপ গার্দিওলার সিটি, যা তাদের সেরা চ্যাম্পিয়নস লিগ সফলতা। মার্কা