চলতি বছর ২১ নভেম্বর শুরু হবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২। বিশ্বকাপের ২২তম আসরটি অনুষ্ঠিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে। ৩২টি দলের অংশগ্রহণে হবে আসরটি। মরুর দেশটির পাঁচটি শহরের আটটি ভেন্যুতে হবে বিশ্বকাপের সর্বমোট ৬৫টি ম্যাচ। কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে আল-বায়েত স্টেডিয়ামে। শিরোপা নির্ধারণী ফইনাল হবে লুসাইল স্টেডিয়ামে। আটটি ভেন্যুর গড় আসন ৪৭ হাজার ৫০০। সবচেয়ে বড় ভেন্যু হচ্ছে ৮০ হাজারের বেশি ধারণক্ষমতার লুসাইল স্টেডিয়াম। কাতার বিশ্বকাপে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ভেন্যু এটি। ফাইনাল ম্যাচসহ সর্বমোট নয়টি খেলা হবে এখানে।

লুসাইল ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের দশম বৃহৎ ফুটবল ভেন্যু। স্টেডিয়ামটির নির্মাণে যৌথভাবে কাজ করেছে কাতারের ঠিকাদার কোম্পানি ‘এইচবিকে কন্ট্রাকটিং কোম্পানি’ ও চীনের ‘চীনা রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিআরসিসি)’।

স্টেডিয়ামের নকশা তৈরি করেছে বিখ্যাত ব্রিটিশ আর্কিটেকচার ফার্ম ‘ফোস্টার + পার্টনার্স গ্রুপ লিমিটেড’, সঙ্গে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘পপুলাস’। তাদের সহযোগিতায় ছিল এএফএল আর্কিটেক ও ম্যানিকা আর্কিটেক। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ফোস্টার + পার্টনার্সের কয়েকটি বিশ্বনন্দিত ডিজাইন হলো লন্ডন সিটি হল, রানী এলিজাবিথ গ্রেট কোর্ট, ব্লুমবার্গ লন্ডন ও অ্যাপল ফিফথ এভিনিউ। ডিজাইন, প্ল্যানিং, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ও অ্যাডভাইজরি হিসেবে কাজ করছে অস্ট্রেলিয়ার ‘অরেকন’ কোম্পানি।

স্টেডিয়ামটি নির্মাণে খরচ হচ্ছে ৭৬৭ মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় ৬ হাজার ৬১০ কোটি ৭২ লাখ ১৬ হাজার ১১০ টাকা (সূত্র: স্টেডিয়াম ডিবি)।

কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মালাকানাধীন স্টেডিয়ামটির কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল। গত বছর ২২ নভেম্বর এর উদ্বোধন করা হয়েছে।

বিশ্ববাসীর সঙ্গে আরব সংস্কৃতি ভাগ করে নেয়ার আবেগকে তুলে ধরা হয়েছে ভেন্যু নির্মাণে। স্টেডিয়ামের নকশায় আলো-ছায়ার খেলা দর্শকদের মুগ্ধ করবে। এ অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার উত্থানের সময় সমগ্র আরব ও ইসলামী বিশ্ব থেকে পাওয়া বাটি, পাত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য শিল্পকর্মের আলংকারিক নকশাগুলোর কারণে নজর কাড়বে এ স্টেডিয়াম।

নবনির্মিতব্য অত্যাধুনিক লুসাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত স্টেডিয়ামটি। কাতারের অন্য ভেন্যুগুলোর চেয়ে এটি আলাদা ও আধুনিক। নগর জীবনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে স্টেডিয়ামটি। এখানকার বাসিন্দাদের চাহিদা, কাতার ও এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ অতীতকে শ্রদ্ধা জানাতেই ডিজাইন (নকশা) করা হয়েছে।

রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ২২.৭ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লুসাইল স্টেডিয়াম। গাড়ি ও মেট্রোরেলযোগে স্টেডিয়ামে পৌঁছানো যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রথম কোনো দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের আয়োজক কাতার। স্টেডিয়ামের প্রতিটি প্রান্তেই যেন শিল্পীর তুলির নিখুঁত ছোঁয়া। জলের প্রতিবিম্বাকৃতি আর স্যাডল-ফর্মের ছাদের এই নির্মাণশৈলীকে ওপর থেকে দেখলে মনে হবে ভাসমান মাঠ। চারপাশে থাকবে পানির কৃত্রিম ফোয়ারা। মাঠে প্রবেশে দর্শকদের পার হতে হবে বিশেষ সেতু। কাতারের প্রধান প্রতিবন্ধক গরম আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্টেডিয়ামে থাকবে নিজস্ব সৌরশক্তিচালিত কুলিং সিস্টেম। স্টেডিয়ামের ওপরে থাকবে কাচের বিশেষ আবরণ।

২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজক কারা হবে, এজন্য কাতার ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া বিড করেছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আয়োজনের স্বত্ব পায় কাতার। বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ শ্রমবাজার দেশটিকে ঘিরে। বিশ্বকাপকে ঘিরে অবকাঠামো নির্মাণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজার হাজার অভিবাসী এখানে কাজ করছেন।

ইতিমধ্যে নির্মিত হয়ে গেছে নতুন সড়ক, হোটেল, জাদুঘর, এমনকি নতুন শহরও! ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে দোহার প্রথম মেট্রোরেল সিস্টেম। কাতার প্রত্যাশা করছে, ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ভক্ত দেশটি সফরে যাবে। তাদের রাখা হবে হোটেল, বাড়ি, তাঁবু ও ১২ হাজার ক্রুজ জাহাজে!

ফিফার নিয়মানুযায়ী ৬০ হাজার হোটেল কক্ষ তৈরি রাখতে হয় আয়োজক দেশকে। কিন্তু সংশয় ছিল আদৌ কাতার তা করতে পারবে কিনা। দেখা যাচ্ছে, শুধু হোটেল নয়, অন্যান্য বিকল্পের মাধ্যমে হলেও বিপুল পরিমাণ পরিদর্শকের জন্য মানসম্মত থাকার জায়গা তৈরি করেছে দেশটি। স্টেডিয়াম ডিবি, এএফএল, কাতার ২০২২ ওয়ার্ল্ডকাপ অবলম্বনে লাইছ ত্বোহা